সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন

শামুক গতিতে চলছে নেত্রকোনা বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ 

বিজয় চন্দ্র দাস, নেত্রকোনা প্রতিনিধি:  শামুক গতিতে চলছে নেত্রকোনা শহরকে নিরাপদ রাখতে ও ভাটি এলাকার মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, কলমাকান্দা, ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মানুষের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে নির্মীয়মাণ বাইপাস সড়কের কাজ।  এর কাজ বাস্তবায়ন করছে নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। বিলম্বের কারণ হিসেবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণ করতে না পারায় সড়কটি নির্মাণ ধীর গতিতে চলছে। 
এ বাইপাস সড়ক নির্মাণে নেত্রকোনা সড়ক বিভাগ ২৫৭ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ বরাদ্দ ৬৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। জমির মালিকরা বলছেন, তাঁরা টাকা হাতে না পেয়ে জমি ছাড়বেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সংযোগ মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পায়।

বাইপাস সড়কটি ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ-সুনামগঞ্জ মহাড়কের একটি সংযোগ সড়ক। নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা এলাকা থেকে শুরু হয়ে সদর উপজেলার নুরুলিয়া, কুনিয়া, রাজুর বাজারের ওপর দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে একই সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। বাইপাস সড়ক নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় বর্তমানে চল্লিশা এলাকা থেকে রাজুরবাজার পর্যন্ত মহাসড়কের ওই অংশ পাড়ি দিতে হয় নেত্রকোনা শহরের ওপর দিয়ে। ফলে শহরের ভেতর লেগে থাকে যানজট। গেল ৯ আগস্ট শহরের কুড়পাড় এলাকায় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে এক ছাত্রী মারা গেছে। এর আগে শহরের দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা স্কুলের সামনেই ট্রাকচাপায় মারা যান।

সড়ক সরু,তারপর অতিরিক্ত অটোরিকশার চাপ। বাইপাস সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় মোহনগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলা থেকে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাসগুলোও চলে শহরের ভেতর দিয়ে। এতে প্রতিদিন শহরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও। জেলা সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, বাইপাস সড়কের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২০১৯ সালে ১৭ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য ৬২ কোটি টাকা জেলা প্রশাসন বরাবর ছাঁড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত প্রাক্কলন এখনো তৈরি হয়নি।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, বাইপাস সড়কের দৈর্ঘ্য ১১.৩ কিলোমিটার। এই সড়কে চারটি সেতু ও ২১টি বক্স কালভার্ট রয়েছে।

 সরেজমিনে গিয়ে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পের চল্লিশা এলাকায় মগড়া নদীর ওপর একটি সেতু, কারলী এলাকায় একটি, উলুয়াটিতে একটি ও দুধকুড়ি খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেতুগুলোর দুই পাশে কোনো সড়ক নির্মিত হয়নি। বালিজুরী-দুধকুড়ি এলাকার হাওরে সড়ক বানানোর জন্য প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে ধানক্ষেতের মধ্যে দুই পাশে কিছু মাটি তুলে রাখা হয়। নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আলনূর সালেহীন বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করানো যাচ্ছে না। তবে এর মধ্যেও প্রকল্পের চারটি সেতু নির্মাণসহ ৪০ শতাংশ কাজ করা হয়েছে। কাজের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আশা করি, এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে।’

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) ও ভূমি অধিগ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা জানান, ‘সংযোগ মহাসড়ক প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রাক্কলন তৈরির কাজ শেষ হবে। 

বিজয় চন্দ্র দাস
নেত্রকোনা প্রতিনিধি।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com
Web Site Designed, Developed & Hosted By ALL IT BD 01722461335