সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।
সংবাদ শিরোনামঃ
খুলনা নগরবাসীর ভোগান্তিতে যোগ হলো মশার উপদ্রব ৯০ বছর বয়সেও মঞ্চ মাতালেন কাঙালিনী সুফিয়া, মুগ্ধ অতিথিরা পাপ মোচনে ‘পোয়াতি বিলে’ হাজারো পূণ্যার্থীর স্নান চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি মোছলেম উদ্দিন আহমদ মারা গেছেন নারায়ণগঞ্জে রেস্টুরেন্টে প্রকাশ্যে গুলি, নারীসহ আহত ৫ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ১০ জনের ৭ জনই মারা গেছেন সংসদে মোকাব্বির খান ‘সেকেন্ড হোম’ নিয়ে কথা বললে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে মানুষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের: প্রধান বিচারপতি মালয়েশিয়ায় এক বছরে ২৮৪৫ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চান যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা: পিটার হাস

বিলুপ্ত ঢাকার ১৬ ইউনিয়ন ছয় বছরেও আত্তীকরণ হয়নি দফাদার-গ্রামপুলিশদের চাকরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা জেলার অধীনে শ্যামপুর ইউনিয়নের দফাদার ছিলেন জয়নাল আবেদীন। তবে ইউনিয়নটি এখন বিলুপ্ত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওই এলাকা। এতে চাকরি হারিয়েছেন দফাদার জয়নাল। কাজ নেই, বেতনও নেই। পরিবার নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন তিনি। সিটি করপোরেশনের অধীনে চাকরি আত্তীকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জয়নাল। তবে ছয় বছরেও তা সম্ভব হয়নি। ফলে পরিবার নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি।

জয়নাল আবেদীন  বলেন, ‘আগে জেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মোট সাত হাজার টাকা বেতন পেতাম। এ টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা ছিল। অথচ এখন বেতন বন্ধ। কোনো কাজও নেই। পরিবার নিয়ে পথে বসতে হয়েছে।’

শুধু জয়নাল আবেদীন নন, তার মতো ঢাকার বিলুপ্ত ১৬ ইউনিয়নের আরও ১৪৩ দফাদার ও গ্রামপুলিশ চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ছয় বছর ধরে তারা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো পদে নিয়োগ দিচ্ছে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করেও তারা চাকরি পাচ্ছেন না।

ঢাকার দুই সিটি করপোরশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিটি করপোরেশনে দফাদার বা গ্রামপুলিশ সমপর্যায়ের কোনো পদ নেই। ফলে সিটি করপোরেশনে তাদের চাকরি আত্তীকরণের সুযোগ নেই।

অথচ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, কোনো ইউনিয়নের আংশিক অথবা সম্পূর্ণ অংশ পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হলে ওই ইউনিয়নে কর্মরত দফাদার বা মহল্লাদারকে (গ্রামপুলিশ) পৌরসভা বা ক্ষেত্রমতে সিটি করপোরেশনের সমপদে আত্তীকরণ করার বিধান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৯ জুন প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিতে (নিকার) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আটটি করে ইউনিয়ন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই ১৬ ইউনিয়নকে ৩৬টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে গেজেট জারি করা হয়।

এর মধ্যে ডিএনসিসিতে যুক্ত হয়েছে- বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি (খিলক্ষেত) ইউনিয়ন পরিষদ। ডিএসসিসিতে যুক্ত হয়েছে- শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, ডেমরা, সারুলিয়া, দক্ষিণগাঁও, নাসিরাবাদ ও মান্ডা ইউনিয়ন। ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর নির্বাচন হয়েছে। কাউন্সিলর কার্যালয়ে ওয়ার্ড সচিব, অফিস সহকারীসহ অন্যান্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বিলুপ্ত ইউনিয়নগুলোর দফাদার ও গ্রামপুলিশদের আত্তীকরণ করেনি ঢাকা উত্তর সিটি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

২০১৯ সালের মার্চে সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তখন থেকেই দফাদার ও মহল্লাদারের বেতন-ভাতার একাংশ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ দফাদার ও গ্রামপুলিশের কোনো গ্রেড নেই। তাদের নিয়োগকর্তা ঢাকা জেলা প্রশাসন। তাই তারা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৃথকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতন পেতেন। এর মধ্যে একজন দফাদার ইউনিয়ন থেকে মাসে তিন হাজার ৫০০ টাকা, জেলা প্রশাসন থেকে মাসে তিন হাজার ৫০০ টাকা বেতন পেতেন। একইভাবে গ্রামপুলিশ সদস্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিন হাজার ২৫০ টাকা এবং জেলা প্রশাসন থেকে তিন হাজার ২৫০ টাকা বেতন পেতেন। ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ার পর বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

বিলুপ্ত ইউনিয়নের দফাদার ও গ্রামপুলিশরা জানান, একটি ইউনিয়ন পরিষদে একজন সচিব, একজন দফাদার ও ৯ জন গ্রামপুলিশ (মহল্লাদার) থাকেন। সেই হিসাবে বিলুপ্ত ১৬ ইউনিয়ন পরিষদে ১৭৬ জন কর্মী আছেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন সচিবরা সরকারের স্থায়ী কর্মচারী। তারা অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদে বদলি হয়েছেন। নিয়মিত বেতনও পাচ্ছেন। কিন্তু গত ছয় বছর ধরে ১৪৪ জন দফাদার ও গ্রামপুলিশ বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ দিচ্ছে না।

দফাদার ও গ্রামপুলিশদের অভিযোগ, ১৬ ইউনিয়ন পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করছেন। সিটি করপোরেশনে তাদের আত্তীকরণ করতে আবেদন জমা দিয়েছেন। কিন্তু আত্তীকরণে কোনো সাড়া মেলেনি। বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন না। এখন সংসার খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

এদিকে, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর বিলুপ্ত ১৬ ইউনিয়নের দফাদার ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতার দাবিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বাড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দফাদার বাবুল হোসেন। এখন পর্যন্ত এ আবেদনের সাড়া পাননি তিনি।

বাবুল হোসেন বলেন, গত ছয় বছরে মন্ত্রণালয়সহ দুই সিটি করপোরেশনে অনেক আবেদন করেছি। কিন্তু কেউ পাত্তাই দিচ্ছে না। কিন্তু স্থানীয় সরকার আইনে দফাদার ও গ্রামপুলিশদের সিটি করপোরেশনে আত্তীকরণের কথা বলা আছে। গাজীপুরসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনে একই আইনে ইউনিয়নের জনবল আত্তীকরণ করেছে।

২০২২ সালের ১৭ মে, ১৫ জুন ও ১৮ আগস্ট তিন দফায় বিলুপ্ত ইউনিয়ন পরিষদের জনবল আত্তীকরণে আইনগতভাবে করণীয় সম্পর্কে মতামত দিতে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসিকে চিঠি দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার কর্মকর্তা (উপসচিব) মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম। তবে এ তিনটি চিঠির একটিরও মতামত দেয়নি ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি। পরে ৯ সেপ্টেম্বর ফের মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মতামত বা জবাব পায়নি বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার কর্মকর্তা (উপসচিব) মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম।

জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা জাগো নিউজকে বলেন, বিলুপ্ত আট ইউনিয়নে গ্রামপুলিশদের ডিএনসিসিতে মশককর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে তাদের ডিএনসিসিতে নিয়োগ চূড়ান্ত হবে। আশা করি, মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।

তবে বাকি আট ইউনিয়নের দফাদার ও গ্রামপুলিশদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি কতদূর, তা জানতে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি। আর বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com
Web Site Designed, Developed & Hosted By ALL IT BD 01722461335