বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন পেছাতে পারে এক বছর

জিটিবি নিউজ ডেস্ক : ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উৎপাদনে আসছে না রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরে এটি উৎপাদনে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার কথা ছিল আগামী বছরের ডিসেম্বরে। কিন্তু করোনার কারণে প্রকল্পের কাজ কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ায় উৎপাদনের সময়ও পিছিয়ে গেছে। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেছে। এতে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ সময়মতো শেষ করা যায়নি। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজও শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে সব কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। কোনো অসুবিধা হবে না। প্রথম ইউনিটের কাজ ৮৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। ’রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রূপপুরের কাজে দেরি হচ্ছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সব কাজ ঠিকমতো হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সমন্বয় করেই কাজ চলছে। ’এর আগে সাংবাদিকদের সামনে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি নিয়ে একটি নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেক্সান্দার দেইরি। এতে বলা হয়, জার্মান কম্পানি সিমেন্স এজি রূপপুর উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি সরবরাহে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসার সময় পিছিয়ে যাওয়া ঠেকানোর ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণেই সিমেন্স অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত অক্টোবরে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি উদ্বোধনের দিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেছিলেন, আগামী বছরের মধ্যেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসবে। রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্প পরিচালক ও পরমাণুবিজ্ঞানী মো. শৌকত আকবর বলেন, ‘২০২৪ সালের মাঝামাঝি প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। ’রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রথম এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রুশ সহায়তায়। দুটি ইউনিটে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু এখন এ উৎপাদনের পরিকল্পনা পেছানো হয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে টানা ৬০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। প্রচলিত জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে খরচ, তার চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে এখান থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com
Web Site Designed, Developed & Hosted By ALL IT BD 01722461335