বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।
সংবাদ শিরোনামঃ
গাজীপুরে অজ্ঞাতনামা মৃত মহিলার পরিচয় প্রয়োজন আইজিপি ও ডিএমপির কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষন ডিএমপির কদমতলী থানার ওসির বদলি প্রত্যাহার চায় বাসিন্দারা শ্রীপুরে জন্ম প্রতিবন্ধী আতিকুলের স্বপ্ন পূরণ করলো ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু ডিমলায় পল্লীশ্রী’র চেক হস্তান্তর ও উপকরণ বিতরণ নাজিরপুরে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণের দরপত্র জমা না নেওয়ার অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে গাবতলীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নিমার্ণের স্থান পরিদর্শন গাবতলীর কাগইলে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা প্রথমে নোটারী পাবলিকে পরে কাজী অফিসে বিয়ে নেত্রকোণার দূর্গাপুরে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সাংবাদ সম্মেলন  উখিয়ায় ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ সাদ্দাম নামক চোরাকারবারি আটক: পলাতক ০২

ময়মনসিংহে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ জেএমবি সদস্য আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকা হতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ জেএমবি সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব।
র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়া প্রধান জানান  গোয়েন্দাসূত্রে সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে জঙ্গিদের বিভিন্ন গতিবিধি র‌্যাবের
নজরে আসে। গোয়েন্তদদের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৩ সেপ্টেম্বর মধ্য রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৪ এর অভিযানে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য (১) জলু হাস উদ্দিন ওরফে কাদেরী ওরফে মেহেদী (৩৪)
 (২) মোহাম্মদ রোবায়েদ আলম ওরফে ধ্রুব ওরফে রুব (৩৩), (৩) মোঃ আলাল ওরফে ইসহাক(৪৮) এবং (৪) মোঃ আবু আইয়ুব ওরফে খালিদ (৩৬), দের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান চলাকালে জেএমবি সদস্যদের হেফাজতে ০১ টি বিদেশী পিস্তল, ০১ টি ম্যাগাজিন, ০৩ রাউন্ড গুলি, ০৮ টি বোমা সদৃশ্য বস্তু, ০৪ টি ব্যাগ, দরজা ও লক ভাঙ্গার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি, এবং একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা উদ্ধার করে র‌্যাব।অভিযানের এক পর্যায়ে জঙ্গিদের সাথে র‌্যাবের গুলিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।
র‌্যাব জানায়, ডাকাতি সংগঠনে আটককৃতদের তাদের মধ্যে বাছাইকৃত ১০-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল গঠন করা হয়েছে।
তারা ইতিমধ্যে ময়মনসিংহের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও, স্বর্ণালঙ্কার দোকান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে একটি টার্গেট নির্ধারণ করে। জল ও স্থলপথের সমন্বয় ঘটিয়ে ঘটনাস্থলে আগমনের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনায় নৌকা, মাইক্রোবাস ও বাইক ইত্যাদি ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। লুটকৃত অর্থ ময়মনসিংহের একটি
এলাকার অপর একটি দলের নিকট হস্তান্তর করার কথা জানায় তারা। গত ৩১ আগস্ট ২০২১ তারিখ জামালপুরের মাদারগঞ্জের একটি আস্তানায় তারা
জড়ো হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ বিকেলে জামালপুরের জামতলা চর এলাকা হতে ব্রহ্মপুত্র নদী দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকাযোগে যাত্রা শুরু করে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে পথিমধ্যে তারা বিভিন্ন চরে যাত্রা বিরতি করে। অতঃপর মধ্য রাতে ব্রাহ্মপুত্র নদী দিয়ে ময়মনসিংহের খাগডহর
এলাকায় পৌছায়। গোপনসংবাদের ভিত্তিতে সেখানে উপস্থিত হয় র‌্যাব। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখানে গুলিবর্ষন শুরু করে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। আভিযানিক দলটি অতন্ত্য চৌকসতার সাথে জঙ্গিদের গ্রেফতারে সক্ষম হয়।
 প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জঙ্গি সংশিষ্টতা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে র‌্যাবকে তথ্য প্রদান করে। গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র এহসার সদস্য।
র‌্যাব জানায় এই স্তরের সদস্যরা বিভিন্ন জঙ্গি অপারেশনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি’র জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয় বলে জানায়।
এ বিষয়ে তারা জামালপুরের একটি গোপন আস্তানায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়। ডাকাতির নেতৃত্বে ছিল গ্রেফতারকৃত জঙ্গি জুলহাস ওরফে কাদেরী ওরফে
মেহেদী। তার নেতৃত্বে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা করে। দলের সদস্যদের
ওয়াচম্যান, হাউজ ও তালা ভাঙ্গা, নিরাপত্তা প্রদান এবং লুটতরাজসহ বিভিন্ন দায়িত্বে বন্টন ও ভাগ করে। গ্রেফতারকৃত রোবায়েদ এর সিটিটিভি ও তথ্য প্রযুক্তির বিষয়াদি দেখভাল করার দায়িত্ব পায়।
 জঙ্গি জুলহাস ২০০৫ সালে মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ হতে আলিম পাশ করে। ২০০২ সালে জামালপুরে একটি মাদ্রাসায় দাখিল অধ্যায়ণরত অবস্থায় এক ট্রেইলার মাষ্টারের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। উক্ত টেইলারের দোকানে সে নিয়মিত যাতায়াত করত এবং সেখানে বিভিন্ন উগ্রবাদী ওয়াজ
ও গজল শুনত। অতঃপর মুক্তাগাছা একটি মাদ্রাসায় আলিম অধ্যায়ণরত অবস্থায় সে জেএমবি’তে যুক্ত হয়। সেসময় মুক্তাগাছার একজন আঞ্চলিক নেতার অধীনে সে বায়াত গ্রহণ করে। উক্ত বায়াত গ্রহণে ১০ জন জেএমবি সদস্য অংশগ্রহণ করে। জেএমবি সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতারও হয়েছে। তাদের অপর সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের বায়াত প্রদানকারী আঞ্চলিক নেতা বাংলা ভাইয়ের একজন ঘনিষ্ঠ
সহচর। উক্ত নেতার মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত জুলহাস এর বাংলা ভাই ও শীর্ষ জঙ্গি নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন এর সাথে পরিচয় ঘটে। বাংলা ভাই ও জঙ্গি নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন বিভিন্ন সময়ে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে অবস্থানকালীন সময়ে আটককৃতদের বিভিন্ন সহায়তা করত। সে ২০০৭ হতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায়
২ বছর কারা অন্তরীণ ছিল। অতঃপর সে নিজ এলাকায় জঙ্গিবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও সেখানে শিক্ষকতা শুরু করে। উক্ত মাদ্রাসার দুইজন শিক্ষক জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টতা থাকায় গ্রেফতার হয়।
তখন সে সম্ভাব্য গ্রেফতার এড়াতে ২০১২ সালে আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যায়। সে টাঙ্গাইলে ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় ছদ্মনামে বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদে ইমামতি ও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে জঙ্গি কার্যক্রমে সক্রিয় ছিল। এসময় সে জঙ্গিবাদ প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে উদ্বৃদ্ধ করণে যুক্ত ছিল। এছাড়া জঙ্গিদের উত্তরবঙ্গ ও ঢাকা গমনাগমনে টাঙ্গাইলে সেল্টার প্রদান করত। পাশাপাশি সে টাঙ্গাইল, গাজীপুর, বগুড়া ও
ময়মনসিংহের জঙ্গিদের গোপন আস্তানার সমন্বয় সাধন করত। গ্রেফতারকৃত জঙ্গি রোবায়েদ ওরফে ধ্রুব ওরফে রুব ময়মনসিংহের একটি কলেজ হতে অনার্স সম্পন্ন করে। ময়মনসিংহে অধ্যায়ণরত অবস্থায় এক সহপাঠীর মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। অতঃপর সে জেএমবি’তে যোগদান
করে। ২০১৩ সালে ময়মনসিংহে একটি নাশকতা মামলায় বেশ কয়েকদিন কারা অন্তরীণ ছিল। এছাড়াও সে ২০১৫ সালে ঢাকার একটি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ইংরেজীতে এমএ সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে সে কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রোগ্রামের উপর প্রশিক্ষণ নেয়। সে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা ও টেকনাফে বিভিন্ন শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিল। সে শিক্ষকের ছদ্মবেশেও উক্ত এলাকা ও প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ প্রচার করত। সে জেএমবি সাইবার দলের সাথে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সে করোনাকালীন সময়ে অনলাইন দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে বেশ কয়েকজনকে জঙ্গিবাদে অন্তর্ভুক্ত করে। গ্রেফতারকৃত অপর জঙ্গি আইয়ুব ওরফে খালিদ (৩৬) উত্তরবঙ্গের একটি বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিএসসি (অনার্স)
সম্পন্ন করে। ২০১৯ সালে উত্তরবঙ্গের সাইবার দলের প্রধানের মাধ্যমে জেএমবি’তে অন্তর্ভুক্ত হয়। সে উত্তরাঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট শ্রেনীর মধ্যে জেএমবি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দায়িতপ্রাপ্ত হয়। দ্রুততম সময়ে স্বল্প শিক্ষিতদের জেএমবি’তে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ নেয় । ইতিমধ্যে সে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারিতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক, অটোচালক, টেইলার ইত্যাদি শ্রেণী পেশাজীবীদের
জঙ্গিবাদে অন্তর্ভুক্ত করে। উত্তরবঙ্গের উক্ত জেএমবি নেতা তাকে বণির্ত ডাকাতিতে নির্বাচিত করার জন্য শীর্ষ এক নেতার কাছে সুপারিশ করে।  গ্রেফতারকৃত জঙ্গি আলাল ওরফে ইসহাক (৪৮) সে ২০১০ সালে জুলহাসের মাধ্যমে জেএমবি’তে অন্তর্ভুক্ত হয়। জুলহাস সহ যে দশজন একত্রে জেএমবি’তে বায়াত নিয়েছিল, সে তাদের বিশেষ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করত। সাংগঠনিক প্রয়োজনে সে ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও
কিশোরগঞ্জে সফর করেছে। তার নৌকা চালান সহ ডাকাতিতে অংশগ্রহণের দায়িত্ব ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com