সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

প্রতিদিন ক্ষুদ্র ঋণ’র সুদাসল তুলে নেয়া  বানারীপাড়ার ব্যবসায়ীদের জন্য আতঙ্ক

মো. সুজন মোল্লা,বানারীপাড়া প্রতিনিধি: ক্ষুদ্র ঋণকে গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাট বাজারের দোকানীরা এটাকে তাদের ব্যবসার মূলধন মনে করে থাকেন। অনেকে আছেন যারা কেবল ক্ষুদ্র ঋণের টাকা দিয়েই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। অনেক গৃহিনী এই ঋণের টাকা দিয়ে হাঁস, মুরগী, ছাগল ও গরু ক্রয় করে সংসারে সফলতা ফিরিয়ে আনতে দিনরাত একাকার কাজ করেন। সর্বপরি গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বেঁচে থাকার জন্যই বিভিন্ন প্রতিষ্টান কতৃক ঋণ নিয়ে থাকেন তারা। এর পরিমাণ ৫০০০-৫০০০০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই ঋণে প্রদানে কোনো জামানত নেওয়া হয় না। সাপ্তাহিক কিংবা মাসিক হারে সুদ সহ পরিশোধ করতে হয় এই ঋণ।

তবে বানারীপাড়া উপজেলার প্রত্যন্তণাঞ্চল থেকে শুরু করে খোদ পৌর শহরের মধ্যেই গড়ে উঠেছে অগনীত সমবায় সমিতি। যাদের মূল কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে ঋণ প্রদান করা। যে প্রত্যেকদিন দিয়ে দিবেন এতে করে আপনাদের ক্ষতি হবেনা। ১জন দোকানীকে ১০ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে যদি সুদাসলে প্রত্যেক দিন সুদি মহাজন নিয়ে যায় তবে াল্প দিনের মধ্যেই ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে পতিত হয়। কেননা চক্র বৃদ্ধি হারে সুদি মহাজন প্রায় ৬৫% সুদ আদায় করে থাকেন।

যখন ওই ব্যবসায়ী তার মূলধন হারিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন,তখন ওই সুদি মহাজন পুনরায় ব্যবসায়ীকে ঋণ দিয়ে থাকে আর আগের ঋণের যদি কোন টাকা পাওনা থাকে পরের দেয়া ঋণ থেকে সেই টাকা কেটে রেখে দেয়। সূত্রমতে কোন ব্যবসায়ী যদি ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেণ তবে সুদি মহাজন ওই টাকা থেকে কিকি অজুহাত দেখিয়ে প্রায় ৩ হাজার টাকা রেখে ১২ হাজার টাকা দিয়ে থাকে। তবে দৈনিক সুদাসলে কিস্তি আদায় হয় ১৫ হাজার টাকার ওপরে ভিত্তি করেই। এভাবে করে উপজেলা ও পৌর শহরে অগনীত এরকম টাকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যাদের নেই কোন লাইসেন্স কেবল উপজেলা সমবায় অফিস থেকে একটি সনদ এনেই  সাধারণ মানুষের রক্ক চুষতে নেমে পরে মাঠে। তবে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কোন অফিস থেকে সনদ দেওয়া প্রতিষ্ঠান গুলোতে কোন প্রকার জরিপ করা হয়না বলে একাধিক সূত্রে জানাগেছে।

মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে এসব সমবায়ের সনদ দেয়া হয়ে থাকে । তবে এর বাস্তবতা সম্পূর্ণ রুপেই ভিন্ন কথা বলে। গ্রামীণ অর্থনীতির কথা উঠলেই প্রথমে চলে আসে এনজিও’র নাম। সবাই মনে করে যে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী বা টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলছে এনজিও গুলো। আমাদের দেশে প্রথম এনজিও বা ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা গুলো কাজ শুরু করে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৬ সালে পুর্নগঠনের উদ্দেশ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে তৎকালীন প্রেক্ষাপটে অনেকটা সফলও ছিল বাংলাদেশের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীনস্থ একটি বিভাগ। দেশের প্রত্যেকটি এনজিওকেই এর অধীনে নিবন্ধিত হতে হয়।

বাংলাদেশে মোট ২৪৯৮ টি নিবন্ধিত এনজিও রয়েছে এরমধ্যে ২৪০ টি বিদেশি। যার অধিকাংশ যুক্তরাষ্ট্রের ও যুক্তরাজ্যের । এইসব এনজিও গুলোর ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানে গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে অবনতি ও হয়রানি বেশি হয়েছে । এইসব ক্ষুদ্র ঋণের জন্য এনজিও গুলো চড়া হারে সুদ এবং খুব সল্প সময় বেধেঁ দেয়। গ্রামীণ মানুষদের যেসব বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে ঋণ দেওয়া হয় যেমন, হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগল, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সেলাই মেশিন ইত্যাদি ছোট ছোট বিষয়ের উপর ভিত্তি করে। যে ব্যবসা বা কাজগুলো করে ঋণ পরিশোধ করার জন্য অত্যন্ত মিনিমাম ৩-৬ মাসের সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণের এনজিও গুলো সেই সময় দিয়ে থাকে না।

তাঁরা ঋণ দেওয়ার কিছুদিন পরেই পরিশোধ নেওয়া শুরু করে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণের আদায় করে থাকে। ফলে লাভের মুখ দেখা সম্ভব বা সঞ্চয় করা সম্ভব হয় না। তাহলে ক্ষুদ্র ঋণের এনজিও গুলো যেভাবে গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। আর এইসব ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে গ্রামীণ মানুষগুলো তাঁদের ভিটেমাটি ও বিক্রি করতে হচ্ছে আর যারা তা ও পারছে না তাঁরা তাদের ভিটেমাটি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রেখেই পালিয়ে যাচ্ছে। আবার এমনও দেখা গেছে যে এক এনজিওর ঋণ পরিশোধ করছে অন্য এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করে বা একই

এনজিও থেকে আরও ঋণ সংগ্রহ করে। আর সল্প শিক্ষিত ও অশিক্ষিত এনজিও কর্মীদের দূরব্যবহার তো আছেই। এতে করে গ্রামীণ দরিদ্র ও নিপীড়ত মানুষদের দূর্দশা ও হয়রানির শেষ নেই । গ্রামীণ অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে হলে এই এনজিও বা ক্ষুদ্র ঋণের নামে যে হয়রানি মূলক সংস্থা গুলো রয়েছে সেগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে নতুবা গ্রামীণ অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি আর গড়ে উঠবে না। ঋণের স্বল্প সময় নয় বরং দীর্ঘস্থায়ী সময় দেওয়া প্রয়োজন। অদক্ষ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষতাহীন রেখে ঋণ দেওয়া যাবে না। কেননা এতে তাদের কোনো লাভ নেই।

বানারীপাড়ায়ও এরম অনেক ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান আছে যারা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে লাভবান করার চেয়ে ক্ষতির সম্মুখিন করে তুলছে । ইতোমধ্যে বানারীপাড়া উপজেলা ও পৌরসভা থেকে বেশ কয়েকটি সমবায় সমতিরি গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। যে টাকা গুলো অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ গোষ্ঠির কাছ থেকে আমানত রেখেছিলো সমবায় সমতি গুলো। এদিকে প্রথম দিন নেয়া ঋণের টাকা

প্রতিদিন সুদাসলে তুলে নেয়ার ফলে অল্প দিনের মধ্যেই মূলধন হারিয়ে পথে বসারমতো অবস্থা হয় ঋণ গ্রহিতাদের। এর থেকে পরিত্রানের যে সকল উভায় বা আইনি কাঠামো রয়েছে সেগুলো বরাবরই লোক দেখানো বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাচ্ছেন সমবায় সমিতির মালিকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com