রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

বগুড়ার শেরপুরে সাহেবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন

জিটিবি নিউজ: বগুড়ার শেরপুরে সাহেববাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত তিনদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবর্ষণে বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাঁধটির প্রায় এক হাজার মিটার ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।ফলে স্থানীয় বিনোদপুর গ্রামসহ অন্তত বিশ গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে। চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন এসব গ্রামসহ নদীপাড়ের মানুষ। তাই বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। নিজেরাই টাকা দিয়ে বালু ও মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে বিগত কয়েকদিন ধরে করতোয়া নদীর পানিও বেড়েছে। এতে করে নদী তীরবর্তী এলাকায় বাসা-বাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি উঠেছে। বিশেষ করে পৌরসভার দুইটি ওয়ার্ডের শতাধিক বাড়িঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। তাই ঘরবাড়ি ছেড়ে বানভাসী অনেক মানুষই স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।

পানিবন্দি হয়ে পড়া পরিবারগুলোকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শেরপুর পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিমাই ঘোষ জানান, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তার ওয়ার্ডের নামা ঘোষপাড়া, পূর্বদত্তপাড়া, উত্তরসাহাপাড়া ও দক্ষিণসাহাপাড়া এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকার শতাধিক বাড়িঘরে পানি উঠেছে। ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট। পানিবন্দি হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।

এরমধ্যে বিশ থেকে ত্রিশটি পরিবারের লোকজন বাসা-বাড়ি ছেড়ে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শেরপুর ডিজে হাইস্কুলে এবং পনেরটি পরিবার পৌরসভা ও পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মৃতদেহ সৎকারের ঐতিহ্যবাহী মহাশশ্মান শেরপুর উত্তরবাহিনী পৌর মহাশশ্মান বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় সৎকার ব্যহৃত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের সাহেববাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের একাংশ অনুমান (প্রায় এক হাজার মিটার) বাঙালি নদী গর্ভে চলে গেছে। এছাড়া যে হারে পানি বাড়ছে, তাতে যে কোন সময় ক্ষতিগ্রস্ত এই বাঁধটি ধসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বাঁধটি ভেঙে গেলে উপজেলার সুঘাট, সীমাবাড়ী, বিশালপুর, ভবানীপুরের একাংশসহ তাড়াশ, রায়গঞ্জ উপজেলাসহ সিরাজগঞ্জের বিশাল এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে। নষ্ট হয়ে যাবে হাজার হাজার বিঘা জমির রকমারি ফসল। বিনোদপুরসহ বাধ এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান, সোলায়মান আলী, আজিজুর রহমান, মোখলেছুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কয়েকদিন ধরেই বাঙালি নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে করে সাহেববাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। তাই বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে নিজেরাই টাকা দিয়ে বালু ও মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে বাধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এসব ভুক্তভোগী আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাধটির মেরামত ও সংস্কার করা প্রয়োজন। নইলে যে কোন সময় এই বাঁধটি ধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। বাসা-বাড়ি তলিয়ে যাবে। অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি রিং বাধ তৈরী করা হচ্ছে। এছাড়া বাঙালী নদীর পানি কমে গেলে বাঁধটিতে স্থায়ীভাবে কাজ করা হবে। এজন্য একটি প্রকল্প ইতিমধ্যে অনুমোদন হয়ে গেছে এবং কাজের জন্য ঠিকাদারও নিযুক্ত হয়েছেন। তাই শঙ্কার কোন কারণ নেই বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা।

বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, তার দফতরের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ ও বানভাসীদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে পৌরসভার বেশকিছু বাসা-বাড়িতে পানি উঠেছে। তাদের নাম-তালিকা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দিতে পৌর মেয়র সাহেবকে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com