চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ হলে বেশি উদ্যোক্তা তৈরী হবে

সরকার চাইলে আমি একটি সঠিক প্লান দিতে পারবো ইনশা আল্লাহ। চাকরিতে বয়সসীমা ৩৫ করা হলে ভালো হয়। তা হলে দেশে বেশি উদ্যোক্তা তৈরী হবে। বেকারত্বের সংখ্যা কমবে। বহু কর্মক্ষেত্র তৈরী হবে। পড়াশুনা শেষ করে ৩১/৩২ পর্যন্ত ঝুঁকি নেয়ার সাহস পাবে উদ্যোক্ত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে।

কেননা ব্যর্থ হলে তাদের সামনে ৩/৪ বছর থাকবে চাকরির জন্য নিজেকে তৈরী করতে। এতে চাকরিতে আবেদনের সংখ্যা কমবে। উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়বে। হতাশাগ্রস্ত বেকারের সংখ্যা কমবে।বর্তমানে সবাই আগে চাকরির জন্য চেষ্টা করে। ব্যর্থ হলে পরে কিছু একটা করতে চায়। এই কিছু একটা করতে গিয়ে তারা মূল সময় উদ্যম ও স্পিড শেষ করে হতাশ হয়ে আসে বিজনেসে।

এখানে এসেও সফলতার হার কম। যারা পলিটিক্স করে তারা ইগো প্রবলেমের কারণে বেসরকারী চাকরিতে খাপ খাওয়াতে পারে না। মৌলিক বিজনেসের পেছনে সময় দেবার সাহস না পেয়ে তাদের সাধ্যমতো পাওয়ার দিয়ে টুকটাক ঠিকাদারি, বালু-পাথর-ইটা সাপ্লাই, কালভার্ট মেরামত, ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামতের মধ্যদিয়ে কর্মজীবন শুরু করে।

কেউ সফল হয় কেউ আবারো হতাশ হয়ে বড় নেতাদের পেছনে ঘুরতে শুরু করে। নেতারা তাদের বিষ্ঠার চোখে দেখে। লাইফ এক প্রকার শেষ। ঘুরতে ঘুরতে কিছু হইলেও সেটা ৪৫/৫০ বছরের পর। ঐ সময় বান্দা অর্থ বা সম্মান দিয়ে কি করবে? আর এই কিছু একটা হবার পার্সেন্টেজই বা কতটুকু?

যারা পলিটিক্স করে না তাদের ইগো প্রবলেম কম থাকায় তারা ছোট-খাটো কোন চাকরির চেষ্টা করে। বাট তাতে সন্তুষ্ট হতে পারে না। হীনমন্যতায় ভোগে। সমাজ থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিতে শুরু করে।

দিন দিন দায়-দেনা বাড়তে থাকে। তাদের বড় একটা অংশ বিদেশে পাড়ি জমায় এক সময়। দেশ হারায় মেধাবীদের বড় একটা অংশ। কেউ কেউ টুকটাক বিজনেস করতে চায়। কেউ এক দেড়শো মুরগীর ছোট-খাটো পোল্ট্রি দেয়, কেউ ছোট-খাটো মাছের খামার, কেউ চার কাঠা জমি তে কুল-বড়ই চাষ, কেউ দুইটা গাভী কিনে গরুর খামারের চেষ্টা করে।

কেউ ধার দেনা করে যে কোন পণ্যের ছোট খাটো একটা দোকান দেয়। অথচ একই বিজনেস যদি সে ২৫/২৬ বছরে শুরু করতো, তবে ততদিনে তার ১০০ এর জায়গায় ৫০০/১০০০ মুরগীর পোল্ট্রি থাকতো, নয়া নয়া টেকনোলজি ইউজ করতে শিখতো। চার কাঠার যায়গায় দুই বিঘার কুল বাগান হতো। দুটা গাভীর জায়গায় ১০ টা গাভী হতো। একটা থেকে দুটো দোকান হতো।

কেননা ঐ সময়টাতে সাহস উদ্যম থাকে তুঙ্গে। ঝুঁকি নেবার মানসিকতা থাকে। হতাশা থাকে না। আর ব্যাকআপ হিসেবে তো ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি পাবে সেটিও সাহস হিসেবে কাজ করবে। অপরদিকে চাকরীর সময়সীমা ৬০ বছরের অধিক থাকার যৌক্তিকতা নেই। কেননা ঐ বয়সটা নায়-নাতকুর নিয়ে খেলার সময়। চাকরির সময় নয়। ৬০ বছরের পর পেনশন ভাতা পাবে, জীবনের কিছুটা সময় পরিবারের সাথে উপভোগ করতে পারবে।

ছেলেমেয়েরা ইনকাম করবে আরা বাবা-মা রিলাক্সে থাকবে। এতে করে বেকারত্বের সংখ্যা হ্রাস পাবে। হতাশাগ্রস্তের সংখ্যা কমবে। সুতারাং চাকরির বয়সসীমা ৩৫ করার যৌক্তিক ও জোরালো দাবি জানাচ্ছি। এতে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা কমবে।

যারা উদ্যোক্তায় ব্যর্থ হয়ে চাকরিতে যাবে তারা ঘুষ খেলে কি প্রভাব পড়তে পারে মানুষের জীবনে সেটি জেনে যাবে, সুতরাং ঘুষখোরের সংখ্যাও কমবে….।

সরল ম্যাথ: ২৪ এ পড়াশুনা শেষ। বিজনেস শুরু ২৫ এ। বিয়ে করবেন ২৯/৩০ এ। চার বছর বিজনেস করে কিছু ইনকাম সম্ভব। বাচ্চা নিবেন ৩১ এ। তাহলে আপনার যখন ৬০ বছর হবে তখন তার বয়স হবে ২৮/২৯ বছর। এভাবে চলবে।

আর ৬০ বছর অবধি চাকরি করার পর তার সেভিংস থাকার কথা। তাছাড়া পেনশন পাবে। যদি কেউ ৬০ বছরের পর ২/৩ বছর সেভিংস’র টাকায় চলতে না পারে তবে তার চাকরি করার দরকার নেই।

লেখক: তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD