কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে গণপদযাত্রা কর্মসূচি

জিটিবি নিউজডেস্ক:   সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। কেন্দ্রীয়ভাবে আজ রোববার বদুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে রাজু ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় তারা। বিকাল ৪ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকাগুলোর সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এদিকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্লোগানে প্রকম্পিত শাহবাগ। মিছিল থেকে স্লোগান দেয়া হচ্ছে- ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই,’‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মেনে নাও,’ ‘কোটা দিয়ে কামলা নয়, মেধা দিয়ে আমলা চাই,’ ‘১০% এর বেশি কোটা নয়।

আন্দোলনকারী ঢাকা বিবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদের দাবি, তাদের দাবি যৌক্তিক। তারা চান সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবে। কোটায় ১০ শতাংশে নিয়ে আসবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে কোটার সংস্কার করতেই হবে বলে মনে করেন তিনি।

আরেক শিক্ষার্থী আহমদে মারুফ বলেন, বংশ পরম্পরায় কোটার বৈষম্য চলতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও এমন বৈষম্যমূলক পদ্ধতি যুগের পর যুগ টিকে নেই। আমরা কোটার অবসান নয়, সংস্কার চাই।ক্ষোভের সঙ্গে অপর চাকরিপ্রার্থী বলেন, নাতিপুতি কোটা ব্যবস্থা চলতে পারে না। এই কোটা পদ্ধতি মেধাবীদের সঙ্গে উপহাস। মেধাবীরা শত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাচ্ছে না। কিন্তু কোটাধারীরা যোগ্যতায় পিছিয়ে থেকেও চাকরি পেয়ে যাচ্ছে।এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের দাবি, বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে ১০ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে।

এর আগে দুপুর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেবির সামনে এসে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসহ ফেস্টুন শোভা পায়।  আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবি-সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৫৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের অগ্রাধিকার কোটা রয়েছে। আর বাকি ৪৫ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধা কোটায়। এ জন্য এই কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD