রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

বিপাকে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা, খুঁজছেন অন্য পেশা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

‘ঈদের আগে শেষ শুক্রবার বিক্রি করেছি দুই হাজার ২০০ টাকা। আগে যেকোনো ছুটিতে এর থেকে বেশি বিক্রি হতো। সাধারণ ছুটির দিনের থেকেও এখন বিক্রি কম। দোকান খুলেও ঈদের এ সময় আমরা কীভাবে পরিবার নিয়ে চলব?’

শনিবার কথাগুলো বলছিলেন মৌচাক মার্কেটের ফুটপাতে মেয়েদের সাজসজ্জা সামগ্রী বিক্রেতা কাজল।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিধিনিষেধ শিথিল করে বেচা-বিক্রি কিছুদিনের জন্য খুলে দেয়া হলেও বিপত্তির মধ্য দিয়ে চলছে ফুটপাত ব্যবসা। এর মধ্যে নিউমার্কেট, গুলিস্তান বা বিভিন্ন বড় মার্কেটের সামনে ফুটপাতে বিক্রি কিছুটা হলেও ছোট মার্কেট ও রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তাঘাটের পাশে ফুটপাতে বিক্রি একেবারেই কম।

সরেজমিনে বাড্ডা হোসেন মার্কেটের সামনে দেখা যায়, ঈদের আগে যেখানে কেনাবেচা অন্যান্য সময়ের থেকে বেশি হয়, সেখানে কিছু ফুটপাতের দোকানই বন্ধ।

রফিক রাফি নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘এখানে চারজন ব্যবসা করতাম। কদিনের জন্য দোকান খুলে দেয়া হলেও বিক্রি হবে না এমন শঙ্কায় দুজন গ্রাম থেকেই আসেনি। ওরাই ভালো করেছে। খরচ করে আমরা এসে দোকান খুলে বিপদে পড়েছি।’

মহামারি ফুটপাতের বিক্রেতাদের জন্য অভিশাপ হয়ে এসেছে জানিয়ে কাদের মিয়া নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। ভেবেছিলাম দোকান খুলে দিল, ব্যবসা হবে। এখন দেখি ক্রেতা নেই। এ করোনা যেন জীবনে এক অভিশাপ। দোকান থাকলেও ক্রেতা নেই। ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত।’

ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানান, উপায়ান্তর না দেখে অনেকেই এখন দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা খুঁজছেন অন্য পেশা। কেউ এরই মধ্যে ফিরে গেছেন গ্রামের বাড়ি।

মাহমুদ হাসান নামের এক জিন্স-প্যান্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় রামপুরার ফুটপাতে। একশ-দেড়শ প্যান্ট নিয়ে তার ছোট্ট দোকান। তারপরও আগে দিনে তার ১০ থেকে ১৫টি প্যান্ট বিক্রি হতো। তা দিয়ে কোনো রকম টেনেটুনে সংসার চলত। শনিবার শেষ দুপুর পর্যন্ত তিনি মাত্র চারটি প্যান্ট বিক্রি করেছেন। আগের দিন শুক্রবার করেছেন ৯টি।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ঈদে এক ঘণ্টায় এগুলো বিক্রি করেছি। এখন মানুষের হাতে টাকাই নেই, কিনবে কীভাবে?’

শার্টের দোকানের ব্যবসায়ীরা আক্ষেপের সঙ্গে বললেন, ‘২০০ টাকায় শার্ট বিক্রি করি। লাভ থাকে ২৫ টাকা। দোকানের খরচ ও নিজের খরচ মিলে কমপক্ষে ৪০ পিস বিক্রি না হলে তাদের লোকসান গুনতে হয়। ঈদে সেই বিক্রি নিয়ে টেনশন করতে হচ্ছে।’

নিউমার্কেট এলাকায় ভিড় এসব এলাকার থেকে অনেক বেশি। সেখানে নিঝুম আক্তার নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘করোনার মধ্যে যা হচ্ছে, তাতেই খুশি। অন্তত দোকান খোলা থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে না।’

রাজধানীর স্টেডিয়াম সংলগ্ন পুরো ফুটপাত, বঙ্গবাজার ফুটপাত ও হকার মার্কেট ফুটপাত ঘুরে দেখা গেল বেশকিছু দোকান বন্ধ। কারও দোকানের শুধু বেঞ্চটি পড়ে রয়েছে। সেখানে যারা দোকান খুলেছেন কেউ কেউ বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে বলে অনেকে ফুটপাত এড়িয়ে চলছেন। সেটাও বিক্রি কমার বড় কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ যেখানে বিক্রি হচ্ছে সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। সামাজিক দূরত্বেরও বালাই নেই। মাস্ক না পরার অজুহাতের শেষ নেই তাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com