রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

গাবতলীতে নেই যাত্রীর চাপ, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিনদিন বাকি। ইতোমধ্যে ঈদকে সামনে রেখে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে সরকার, চালু হয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন। এরপরও রাজধানীর গাবতলীর বাস কাউন্টারগুলোতে ঘরমুখো যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। অন্যান্য বছর ঈদের আগে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও এবার সেই দৃশ্য পাল্টে গেছে। আবার যাত্রীর চাপ কম থাকলেও কাউন্টারগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে অর্ধেক আসন খালি রাখতে সরকারের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না কাউন্টারগুলোতে।

গত ১৫ জুলাই থেকে চালু হয়েছে দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল। এর একদিন আগে থেকেই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার আশায় অগ্রিম টিকিট নিতে শুরু করেন ঢাকায় বসবাসকারী মানুষ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছেন তারা। এই সুযোগে যাত্রীদের কাছে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বাড়তি ভাড়া নিয়েও প্রতি সিটে লোক নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রী ও টিকিট বিক্রেতাদের অনেককেই মাস্ক ছাড়া দেখা গেছে।

শিক্ষার্থী সানি আহমেদ। থাকেন মিরপুরে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে সাতক্ষীরা যাচ্ছেন।  তিনি জানান, কে লাইন পরিবহন থেকে ১ হাজার টাকায় তাকে সিঙ্গেল সিটের টিকিট দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেয়ার কথা ডাবল সিটের টিকিট। কারণ জানতে চাইলে তাকে টিকিট ফেরত দিতে বলা হয় কাউন্টার থেকে। বাধ্য হয়ে তিনি বাড়তি ভাড়ায় সিঙ্গেল সিট নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন বলে জানান।

সানি আহমেদ বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে আবার প্রতি সিটেই যাত্রী নেয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে টিকিট দেয়া হচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে অনিয়ম মেনে নিতে হচ্ছে।’

কে লাইন পরিবহনের কাউন্টারের দায়িত্বরত মানিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবাই প্রতি সিটের টিকিট বিক্রি করছে, আমরাও করছি।’ মালিকের নির্দেশে এটি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঢাকা-মাদারীপুর লাইনের সাদিক পরিবহন কাউন্টারে দায়িত্বরত মিজানুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২০ জন করে যাত্রী নিয়ে পাঁচটি গাড়ি ছাড়া হয়েছে। বিকেলে আরও তিনটি গাড়ি যাবে। যাত্রীর চাপ বেশি থাকলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’ সাধারণ সময়ে তাদের সিঙ্গেল সিটের ভাড়া ৩৮৫ টাকা হলেও সরকারি বিধি মোতাবেক সেটি ডাবল সিটে ৫৭০ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বরিশাল-পটুয়াখালী রুটের সুবর্ণ পরিবহনের কাউন্টারের নাজির হোসেন বলেন, ‘সরকারি বিধি মোতাবেক ৪০ সিটের গাড়িতে ২০ জন করে নিয়ে গাড়ি ছাড়লেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। গাড়ি ছাড়ার সময় হওয়ায় সিট খালি রেখে গাড়ি ছাড়তে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ সময়েও এর চাইতে যাত্রীর চাপ বেশি থাকে। ঈদের একদিন পর লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় মানুষ বাড়ি যাচ্ছে না। বাকি দিনগুলো যাত্রী চাপ বাড়বে এই আশায় রয়েছি।’

অনেক পরিবহনের গাড়ি আবার তীব্র যানজটের কারণে ঢাকায় ঢুকতে পারছে না। যাত্রী থাকলেও তারা টিকিট বিক্রি করছেন না বলে জানিয়েছেন।

পরিবার নিয়ে ঝিনাইদা যাচ্ছিলেন সেনাসদস্য জাহিদ ও তার পরিবার। তিনি বলেন, ‘ডাবল ভাড়ার বেশি দিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে চুয়াডাঙ্গা যাচ্ছি। বেশি ভাড়া দিলেও নির্ধারিত সময়ে গাড়ি আসছে না। এ কারণে গাবতলীতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করছি।’

যশোর যেতে গত ১৫ জুলাই অগ্রিম টিকিট কিনেছেন শিক্ষার্থী গালিব। জানান, সাধারণ সময়ে ৪৮০ টাকা ভাড়া হলেও সেটি ৮৫০ টাকা নেয়া হয়েছে। বাড়িতে গিয়ে সবার সঙ্গে ঈদ করবেন এ কারণে বাড়তি ভাড়া দিয়ে টিকিট নিয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় গাড়ি ছাড়ার কথা থাকলেও সময়মতো গাড়ি ঝাড়েনি। এ কারণে টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com