বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

শ্রাবনের খরায় পুড়ছে নীলফামারী

নিলফামারী সংবাদদাতা : শ্রাবনের খরায় প্রচ- তাপদাহ আর ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে নীলফামারী সহ আশপাশের জেলাগুলো। গত ২ সপ্তাহের প্রচ- তাপদাহের কারণে মানুষজন ঘর হতে বের হতে পারছে না। এর ফলে বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। সংসার চালাতে বাইরে কাজ করতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় জনদুর্ভোগ যখন চরমে, তখন বৃষ্টির জন্যই পরম প্রার্থনা উত্তরবঙ্গের নীলফামারীর কৃষকদের। এই ভরা বর্ষায় কোনো বৃষ্টি নেই নীলফামারীতে। প্রচ- তাপদাহে এ অঞ্চলের কৃষি জমির রোপিত আমন ক্ষেত শুকিয়ে চৌচির হয়েছে।

পানির অভাবে পাট পচাতেও পারছে না কৃষক। এমন বিরূপ আবহাওয়ায় বৃষ্টির পানি নির্ভর আমনের আবাদ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষককুল। নিরুপায় হয়ে তারা ঝুঁকছে সেচ পাম্পের দিকে। তবুও বাচানো যাচ্ছে না আমন ক্ষেত। কৃত্রিম সেচে আমনের চারা রোপণ করতে পারলেও তাপদাহের কারণে আমন ক্ষেত পুড়ে যাচ্ছে। ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করেও রক্ষা করতে পারছে না কৃষক। বৃষ্টি অভাবে কৃষক ডিজেল চালিত বিভিন্ন ধরনের সেচ যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিম সেচের মাধ্যেমে আমন আবাদ শুরু করেছে। এর ফলে কৃষকের খরচের পাশাপাশি আমনের ফলনের ব্যাহত হবে।

সরজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, মাঠে মাঠে চলছে আমন রোপণের দৃশ্য। এরইমধ্যে জেলার ৮০ ভাগ জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। সকল আমন ক্ষেতে প্রচ- খরার কারণে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বৃষ্টি অথরা কৃত্রিম সেচের। বৃষ্টি না থাকায় আবাদের জন্য রাখা বাকি চারা রোপণ করতে পারছেন না কৃষকরা। নিরুপায় হয়ে তাই সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে সারছেন চারা রোপণের কাজ। সেইসঙ্গে সেচ পাম্পের পানিতেই চলছে রোপিত আমনের পরিচর্যা। জেলার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড কাছাকাছি চলছে। ভ্যাপসা গরমের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাইরাস জ্বর, ডায়রিয়া, সর্দি কাশি সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। গরমে বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। ঘরে ঘরে কোনো না কোনো সদস্য এসব রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকা হতে গরমের কারণে শিশুদের ত্বকে গুটি গুটি দানা ও হামের মতো লক্ষণ দেখা দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এসব রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গত কয়েকদিনে বেড়েছে কয়েকগুন। গত তিনদিনে নীলফামারীর বিভিন্ন হাসপাতালে শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। অন্যান্য রোগীর সংখ্যাও কয়েকশ ছাড়িয়েছে।

জেলা সদর ছাড়া অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সগুলোতে আউটডোরে প্রতিদিন জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া আক্রান্ত প্রচুর শিশুকে নিয়ে আসছেন অভিভাবকরা। প্রতিদিনই চিকিৎসা সেবা নিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। আজও সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে। মৌসুমি বায়ু না আসায় এমন ভ্যাপসা গরম দেখা দিয়েছে বলে আবহাওয়াবিদগন মনে করছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এ গরমে সতর্ক না থাকলে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না খেলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি আছে, বিশেষত শ্রমিক শ্রেণির এ ঝুঁকি বেশি।

গরম বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আশা পুরাতন স্টেশন এলাকার আবদুল গফুর ও দোগাছি গ্রামের লোকমান হোসেন জানান, রোদের তীব্রতায় কয়েকদিন ধরে তারা সর্দি, জ্বরে ভুগছেন। তবে সবচেয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে পরিবারের শিশুদের নিয়ে। কখনও সর্দি, কাশি, জ্বর আবার কখনও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ আবু জাহিদ বসুনিয়া জানান, এমন গরমে হিটস্ট্রোকের ভয় থাকে। ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বৃদ্বি পাওয়ায় এমন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম হচ্ছে বেশি। প্রচুর পানি না খাওয়ায় অনেকেরই এ ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরো বলেন, উš§ুক্ত স্থানে কাজকর্ম করেন এমন শ্রমিক শ্রেণি এবং শিশু-বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা দরকার। এ সময় স্যালাইন খেলে অনেকটা আরাম পাওয়া যাবে। চিকিৎসকরা জানান, অত্যধিক গরমে শিশুদের ত্বকে গুটি গুটি র্যাশ ও হামের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তবে এতে ভয়ের কিছু নেই তবে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুকে গরম ও তাপদাহ থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পরপর ভেজা কাপড়ে গা মুছে দেওয়া যেতে পারে। বড়দের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানি খাওয়া এবং রাস্তার ধারের জুস, শরবত ও উš§ুক্ত খাদ্যদ্রব্য পরিহার করতে হবে। গরমে প্রচুর ঘাম হওয়ায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে। ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা আবশ্যক। জেলায় সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের দাবি রোদের তীব্রতায় ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বাড়লেও তা নীলফামারীতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। হাসপাতালে আগত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে হাসাপাতালে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, এখনও আমন আবাদের তেমন ক্ষতি হয়নি। এ অবস্থা আরো এক সপ্তাহ চললে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ পাম্প ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com