সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ১২:০১ অপরাহ্ন

অর্থলােভী মোঃ আঃ মান্নান ও শাজাহানপুরের ইউএনও ফুয়ারা’র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

জিটিবি নিউজ টুয়েন্টিফোর : বগুড়ার অর্থলােভী নিয়ােগ বাণিজ্য কারী প্রতারক মোঃ আঃ মান্নান সরকার ও শাজাহানপুরের শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মােছা: ফুয়ারা খাতুন এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে শাজাহানপুর উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষথেকে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা শাজাহানপুর মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযােদ্ধা মােঃ সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আ,ক,ম, মােজাম্মেল হক (এম.পি) গত ২১ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে বগুড়া টিটু মিলনায়তনে জেলার ১২টি উপজেলার ১২টি মুক্তিযােদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিদের নাম লিখা পাথর এর ফলকউন্মোচন করে স্কুলগুলি উদ্ধোধন করেন। স্কুল উদ্ভোধন করার পর থেকেই বীর মুক্তিযােদ্ধা মােঃ সাইদুর রহমান সাঈদ শাজাহানপুর উপজেলার সকল মুক্তিযােদ্ধাদের সাথে নিয়ে বিশ্বরোড সংলগ্ন মুক্তিযােদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজটি চালু করে, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযােদ্ধা নীরেন্দ্র মোহন সাহা ও অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু দূনীতিবাজ, প্রতারক, অর্থলােভী আঃ মান্নান সরকার তার খেয়াল খুশিমত হঠাৎ জেলা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযােদ্ধা এ্যাডঃ মােঃ রেজাউল করিম মুন্টুকে বাদ দিয়ে বীর মুক্তিযােদ্ধা মমতাজ উদ্দিনকে সভাপতি করেন। মমতাজ উদ্দিন সাহেব মারা যাওয়ার পর নিজের খেয়াল খুশি মত অবৈধ নিয়ােগ বাণিজ্য করার জন্য এ্যাডঃ আল-মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জনের পথ পরিষ্কার করে স্কুল গুলি অনুমােদন না হতেই নিয়ােগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পে-অর্ডার / পােষ্টাল অর্ডার ও শিক্ষক নিয়ােগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনেক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলার মুক্তিযােদ্ধাগণ অবৈধ কাজে একমত পােষন না করায় দূনীতিবাজ, প্রতারক মােঃ আঃ মান্নান সরকার, মালতিনগর মাটির মসজিদ লেন বগুড়া শহর অর্থের লােভ দেখিয়ে আঃ মান্নান ফকির, আঃ হান্নান ও রাজাকার পরিবারের মেয়ে মরিয়ম খাতুন স্বাধীনতা বিরােধী চক্রান্তকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে অবৈধ নিয়ােগ বাণিজ্য করার জন্য ডুপ্লিকেট স্কুল করার পায়তারা করে শাজাহানপুর উপজেলার হরিতলা জালশুকা নামক স্থানে স্কুলের সাইনবাের্ড লাগায়। এ বিষয়ে কোর্টে মামলা হলে জালশুকা থেকে সাইনবাের্ডে নাম পরিবর্তন করে দাড়িকামাড়ী পাড়ায় মাস্তান বাহিনীদের সহযােগিতায় সরকারী খাস জমি দখল করে টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে সাইনবাের্ড লাগায়। প্রশাসন জানতে পেরে তা ভেঙ্গে দেয়। পরবর্তীতে দাড়িকামাড়ি পাড়া বিলুপ্ত পরিত্যাক্ত সেইসর’স স্কুলে সাইনবাের্ডে পুনরায় নাম পরিবর্তন করে লাগায়।এবিষয় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের তর্ক বিতর্ক হয়। এঘটনায় আমজাদ হোসেন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফুয়ারা খাতুনের উপর ন্যস্ত হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে দালিলিক স্বাক্ষপ্রমান উপস্থাপনা করা হয়। আরজিতে উল্লেখ্য যে, প্রতারক দূনীতিবাজ, অর্থলােভী মোঃ আঃ মান্নান সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর ডিও লেটার ডুপ্লিকেট করে ব্যবহার করছে। মুক্তিযােদ্ধার F.F নম্বর সঠিক নয়। তার নামের আগে প্রফেসর শিখছে অথচ সে প্রফেসর নয়। কিন্তু এ বিশ্বায় গুলি রিপোর্টে উল্লেখ না করে এবং কোনটায় আমুলে না নিয়ে শাজাহানপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফুয়ারা খাতুন রিপাের্টে উল্লেখ করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা মুক্তিযােদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এখ, কলেজের সাইনবাের্ড খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যা আদৌ সত্য নয়, সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করেছে। স্কুল উদ্বোধন করার পর থেকেই শাজাহানপুর উপজেলা মুক্তিযােদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযােদ্ধা মোঃ সাইদুর সাঈদ পরিচালিত স্কুলটিতে মন্ত্রীর পাথরে লেখা উদ্বোধনী নাম ফলক, ব্যানার ও সাইনবাের্ড স্কুল বিল্ডিং এ লাগানােই আছে।বিবাদি গণের স্বাক্ষীর কথা রিপাের্টে উল্লেখ করেছে কিন্তু বাদীর স্বাক্ষীর কোনাে কথাই রিপাের্টে উল্লেখ করে নাই। প্রতারক আঃ মান্নান সরকার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি মাঝিড়া বাইপাস রােড নতুন পােষ্ট অফিসের উত্তর পার্শে অবকাঠামাে নির্মানাধীন অবস্থায় পাওয়া যায় কথা উল্লেখ করেছে। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করেছে। আসলে তা পরিত্যক্ত অবস্থায় সেইলরস স্কুলটি পড়ে আছে। হরিতলা স্কুলে পাঠদান কার্যক্রম চলমানের কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেখানে আদৌ কোনাে স্কুল নেই। একটি কোচিং সেন্টার আছে মাত্র। অথচ নির্বাহী অফিসার সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করেছেন।

তিনি বলেন, শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মােছা: ফুয়ারা খাতুন লোভের বশিভূত হয়ে মাে: আব্দুল আজিজ পিতা:কোরানু প্রা: সাং: সাজাপুর, থানা শাজাহানপুর, জেলা বগুড়া কে অবৈধ ও নিয়ম বহিভূত ভাবে মুক্তিযােদ্ধা ভাতা প্রদান করেছেন যাহার পরিমান ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। মােছাঃ ফুয়ারা খাতুন তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি তার ড্রাইভার মাে: সবুজ কে দিয়ে গাড়ির তেল, যন্ত্রাংশ বিক্রয় করার সময় হাতে-নাতে গনমাধ্যম। কর্মীদের নিকট ধরা পড়েছেন।

তিনি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর নিকট আবেদন জানিয়ে বলেন, বিষয়টি আমলে নিয়ে অর্থলােভী, নিয়ােগ বাণিজ্য কারী প্রতারক মোঃ আঃ মান্নান সরকার ও তার সহযােগীদের পক্ষে সত্যকে আড়াল করে মিথ্যা, বানােয়াট, ভিত্তিহীন, মনগড়া, জুয়া তদন্তের রির্পোট প্রদান করায় শাজাহানপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মােছাঃ ফুয়ারা খাতুনের প্রশাসনিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা দাবী জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com
Web Site Designed, Developed & Hosted By ALL IT BD 01722461335