বগুড়া জেলার বিএনপির ২৩ নেতাকে বহিষ্কার করতে তালিকা তৈরি

আগামী ১৮ মার্চ হতে যাওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়া ও সহযোগিতার অভিযোগে বগুড়া জেলা বিএনপির ২৩ নেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলের বিশেষ সভায় ২৩ জনের নামের তালিকা তৈরি করা হয়। দল থেকে তাদের বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করবে জেলা বিএনপি।

জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১২টি উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপি নেতাদের নামের তালিকা উপস্থাপন করেন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

সভায় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানান, আদমদীঘি, দুপঁচাচিয়া ও শেরপুর উপজেলায় দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোনো নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু এ তিন উপজেলা ছাড়াও সারিয়াকান্দি উপজেলায় চার জন, সোনাতলায় তিন জন, ধুনটে দুই জন, কাহালুতে দুই জন, নন্দীগ্রামে তিন জন, বগুড়া সদরে এক জন, শিবগঞ্জে এক জন, শাজাহানপুরে পাঁচজন এবং গাবতলীতে দুইজন করে মোট ২৩ জন নেতা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

তৃণমূল নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ইতোমধ্যে বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকসহ তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু আরও যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি করায় তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ওসব প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।

তারা দাবি করেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা প্রার্থী হয়েছেন এবং তাদের যারা সহযোগিতা করছেন সবাইকেই দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যের পর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, যাদের তালিকা তৈরি করা হলো সেটি কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, এ সিদ্ধান্তকে হালকাভাবে নেয়া যাবে না। দল ইতোমধ্যেই নির্বাচনে সহযোগিতা করায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলমকে বহিষ্কার করেছে। কাজেই যারাই সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধেই দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, সহ-সভাপতি আলী আজগর তালুকদার হেনা, যুগ্ম সম্পাদক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা যুবদল সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার বক্তব্য দেন।

সভার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণেই একটি তালিকা করা হয়েছে। সেটি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *