পাঁচ শতাধিক স্কুলে দেয়া হচ্ছে ২ কোটি টাকা

সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম গঠনে দেশের ৫ শতাধিক স্কুলে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। যার মধ্যে ১৯টি জেলার প্রতিটিতে ১০টি করে মোট ১৯০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১টি হারমোনিয়াম ও ১টি তবলা সেট ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এ বাবদ প্রতিটি স্কুল পাচ্ছে ১৫ হাজার টাকা।

যাতে মোট ব্যয় হবে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে এই ১৯০টি স্কুলসহ মোট ৫০টি জেলার ৫১০টি স্কুলের প্রতিটিতে একজন প্রশিক্ষক ও একজন তবলচির ৯ মাসের সম্মানী (অক্টোবর ২০১৮-জুন ২০১৯) বাবদ ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মঞ্জুরি প্রদান করা হয়েছে।

সবমিলিয়ে ২০১৮-২০১৯ র্অথবছরে এ বাবদ প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর ‘সাংস্কৃতিক চর্চা’ শীর্ষক এ কার্যক্রমের অর্থ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালন কার্যক্রমের আওতায় সাধারণ কার্যক্রমাধীন সাংস্কৃতিক মঞ্জুরি খাতের বরাদ্দ থেকে মেটানো হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলায় এ কার্যক্রমের বরাদ্দকৃত অর্থ পৌঁছে গেছে বলেও জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন সংস্কৃতিচর্চা শুধু শহরগুলোয় কেন্দ্রীভূত না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে। তার নির্দেশ বাস্তবায়িত করতেই আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। গত বছর এ কার্যক্রম শুরু হলেও এ বছর তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

আমরা আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যে কাজটি পরিচালনা করছি। তবে এটি আমরা নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসতে চাই। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দিতে চাই। যেটি আসলে বিশাল কার্যক্রম এবং এর জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। এ কার্যক্রম বিস্তারে আগামী বাজেটে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ চাওয়া হবে।

এ কার্যক্রমের অর্থ বর্তমানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের খরচ থেকে নেয়ার প্রসঙ্গ আনা হলে মন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটি বাজেটে নেই, তাই মন্ত্রণালয়ের খরচ থেকে দেয়া হচ্ছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের যথাসম্ভব সহায়তা দিচ্ছে।

এই কার্যক্রমে যে ১৯টি জেলা নতুন করে আওতাভুক্ত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, শরীয়তপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, ফেনী, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও।

এসব জেলার প্রতিটির ১০টি মাধ্যমিক স্কুল তবলা ও হারমোনিয়াম ক্রয় এবং প্রশিক্ষক-তবলচির সম্মানীর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পাচ্ছে। এর বাইরে শুধু নীলফামারী জেলার ২০টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর আওতায় আছে। আর ৩০টি জেলার ৩০০টি স্কুলে যেখানে এ কার্যক্রম চালু আছে, সেখানে শুধু প্রশিক্ষক ও তবলচির ৯ মাসের সম্মানী খরচ প্রদান করা হবে।

সে জেলাগুলো হল গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, পঞ্চগড়, রংপুর, খুলনা, যশোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নড়াইল। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, হলি আর্টিজান ঘটনার পর থেকেই সরকারের নানা পর্যায় থেকে এই ধরনের উদ্যোগ শুরুর জন্য তাগিদ ছিল।

তারই অংশ হিসেবে ‘সংস্কৃতি চর্চা’ নামের কার্যক্রমটি শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন স্কুলে সপ্তাহে একদিন করে মাসে মোট ৪ দিন শিক্ষার্থীদের নানা গানসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। জেলা প্রশাসক জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতিও। তার অনুকূলে অর্থ প্রেরণ করা হচ্ছে। তিনি সেই জেলার জেলা, উপজেলা, থানাকেন্দ্রিক স্কুলগুলোয় একটি কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন করে কার্যক্রম পরিচালনার কাজগুলো তদারকি করছেন।

তবলা বা হারমোনিয়াম বাবদ এককালীন একটি অর্থ বরাদ্দ ছাড়া প্রতি মাসে একজন প্রশিক্ষক ২ হাজার টাকা এবং একজন তবলচি ১৫শ’ টাকা বাবদ সম্মানী পাচ্ছেন। অধিকাংশ জেলায়ই বরাদ্দকৃত অর্থ এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *