বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।
সংবাদ শিরোনামঃ
ধামইরহাটে এইচএসসি’র ফলাফলে মহিলা ডিগ্রী কলেজে শতভাগ পাশ খুলনার দাকোপ ঘুরে এলেন বেলজিয়ামের রানি ধামইরহাটে জমকালো আয়োজনে ধামইরহাট প্রিমিয়ার লীগের ট্রফি উন্মোচন শপথ নিলেন নবনির্বাচিত ৬ এমপি তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্প বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক তুরস্কের ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উদ্ধারকারী দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনজীবীদের আদালত বর্জন বিচারপ্রার্থীদের শুনানিতেই মিলছে জামিন, হচ্ছে নিষ্পত্তি এবারও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা: দীপু মনি ৪০ হাজার ইভিএমে ত্রুটি পেয়েছে ইসি আইন ব্যবসা আর চকবাজারের ব্যবসা কি এক, প্রশ্ন হাইকোর্টের

নারায়ণগঞ্জ ৬ দিনে ৩০ কোটি টাকার গরম কাপড় বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পৌষের শেষে দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশায় টানা কয়েক দিন দেখা মেলেনি সূর্যের। একই সঙ্গে ছিল হিমেল বাতাসও। হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছিল মানুষ। শীতের এমন দাপট ছিল নারায়ণগঞ্জেও। যদিও সোমবার (৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে সূর্যের প্রখরতায় জনজীবন কিছুটা স্বস্তিতে ফিরেছে।

এদিকে হাড় কাঁপানো শীতে পুষিয়ে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের গরম কাপড় ব্যবসায়ীরা। গত ছয় দিনে ক্রেতার ভিড়ে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। কেউ কেউ আবার হতাশার কথাও জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম শ্রেষ্ঠ মার্কেট হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রিভারভিউ কমপ্লেক্স। আগে এখানে শুধু গার্মেন্টেসের ডিজঅনার অথবা ত্রুটিযুক্ত পোশাক আসতো। তবে পাঁচ-ছয় বছর ধরে এখানে কোনো ত্রুটি ছাড়াই কাপড় আসছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় গার্মেন্টসের পণ্য। আর মার্কেটের দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলায় ত্রুটিযুক্ত পোশাক পাইকারি ধরে বিক্রি হয়ে থাকে। শীতে বেশি কদর থাকে গরম কাপড়ের। দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মালামাল নিয়ে যান।

রিভারভিউ কমপ্লেক্সে গরম কাপড়ের পাইকারি বিক্রেতা আছেন প্রায় ৫০০। গত ছয় দিনে প্রত্যেকের গড় বিক্রি হয়েছে ৬ লাখ টাকা করে। সে হিসেবে তারা প্রায় ৩০ কোটি টাকার গরম কাপড় বিক্রি করেছেন। যা গত দু-তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিক্রি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ভূঁইয়া বিজনেস সেন্টারের প্রোপাইটার মো. ইব্রাহীম খলিল ভূঁইয়া  বলেন, এটা একটা বৃহৎ মার্কেট। যার কারণে বেচাকেনা পরিমাণটা নির্ধারণ করাটা বেশ কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। আর গত কয়েকদিনের শীতে যথেষ্ট পরিমাণ শীতের কাপড় বিক্রি হয়েছে। যা গত দু-তিন বছরেও হয়নি। টাকার পরিমাণে ৩০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

খোকন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, গত কয়েক দিনের শীতে আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ বেচাকেনা হয়েছে। দোকানের সম্পূর্ণ মালামাল প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর অল্প কিছু আছে, সেগুলোও বিক্রি হয়ে যাবে।

আল মদিনা ফ্যাশনের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে ব্যবসা একটু খারাপ ছিল। শীতের কারণে আমাদের ব্যবসা ভালো হয়েছে। ক্রেতাদের ভালো চাপ ছিল। যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি হয়েছে।

বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে ছিল না এখন হচ্ছে। কয়েক দিন যা হয়েছে মোটামুটি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। সামনে আরও কিছু বিক্রি হতে পারে।

এরই মধ্যে কেউ আবারও হতাশার কথাও শুনিয়েছেন। তাদের মতে, এ প্রচণ্ড শীতেও তাদের তেমন ব্যবসা হয়নি। তুলনামূলক বেচাকেনা নেই। বিভিন্ন কারণে তাদের ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছে না।

এসপি ট্রেডার্সের মালিক মো. শহীদুল ইসলাম পলাশ  বলেন, নভেম্বরের দিকে শীতের আগমন হলে আমাদের ব্যবসা ভালো যায়। কিন্তু এখন যে শীত এসেছে সেটা জানুয়ারি মাসে। আমরা যে পাইকারি বিক্রি করি সেটা জানুয়ারিতে হয় না। এখন যে শীত এসেছে এটা নির্দিষ্ট কয়েকদিনের। আমাদের মার্কেটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে মফস্বল এলাকা থেকে পাইকারি যে ক্রেতা আসে তারা আসছে না। কারণ সবাই জানে এখনকার সময়ের শীত সীমিত। যার কারণে আমাদের আহামরি কোনো লাভ নেই।

ফুটপাতে ক্রেতাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে সে হিসেবে ফুটপাতে ভিড় থাকাটাই স্বাভাবিক। অনেকের হয়তো জীবনের তাগিদে সাময়িক সময়ের জন্য একটা শীতের কাপড় কিনছেন। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার কারণেও ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে।

প্রিন্স নামে এক ব্যবসায়ীও জানালেন একই কথা। বললেন, শীতের বেচাকেনা পর্যাপ্ত নেই। মার্কেটে কয়েকশ কোটি টাকার মালামাল ভর্তি আছে। প্রচণ্ড শীত থাকা স্বত্বেও তেমন বেচাকেনা নেই। প্রথম অবস্থায় কিছুটা চাপ ছিল।

রিভারভিউ কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির নেতা ও টানবাজার লোড আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মান্নান সরকার  বলেন, নারায়ণগঞ্জের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম একটি মার্কেট রিভারভিউ কমপ্লেক্স। এখানে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০০ দোকান আছে। যার বেশিরভাগই এক্সপোর্টের মালামাল বেচাকেনা হয়। তবে গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে গরম কাপড় বেচাকেনা একটু ভালো ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা যারা এক্সপোর্টের ব্যবসা করি গার্মেন্ট থেকে মাল এনে সৌদি আরব, দুবাই, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে থাকি তাদের দুমাস ধরে সমস্যা যাচ্ছে। গার্মেন্টস থেকে মাল পাচ্ছি না ঠিকমতো। গার্মেন্টসের রেট বেশি তাই বেচাকেনা শোচনীয়। তবে শীতের তীব্রতা বাড়ায় গরম কাপড়ের পাইকারি বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। মার্কেটে কয়েকশ দোকান আছে। ছয় দিনে গড়ে কয়েক কোটি টাকা বেচাকেনা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com
Web Site Designed, Developed & Hosted By ALL IT BD 01722461335