শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।

পরকীয়ার জেরেই খুন হয় ব্যাবসায়ী, উত্তরা থেকে পলাতক আসামী গ্রেফতার

রাকিব হাসানঃ আশুলিয়া থানার কাঠগড়া এলাকার ব্যবসায়ী এলিম সরকার (৪২) কে নিজ বাড়িতে নৃশংস ভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত আরো একজন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা ইউনিট।
গ্রেফতারকৃত আসামী আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর গ্রামের আঃ হকের ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফে ইউসুফ (৩১)। গত ২৭ অক্টোবর (বুধবার) রাতে  রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই ঢাকা জেলা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
পিবিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তির সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ শে মার্চ রাত আনুমানিক ১০ টার সময় অন্যান্য দিনের মতো খাওয়া দাওয়া শেষে এলিম সরকার তার স্ত্রী সন্তান সহ ঘুমিয়ে পড়ে। পর দিন ২৮ আগষ্ট সকাল আনুমানিক ০৮ টার সময় নিহতের স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে জরুরী প্রয়োজনে নিহতের বাবার বাড়িতে যায় এবং বাড়ির অন্যদের সাথে আলাপ আলোচনা শেষে অনুমান সকাল ১০ টার সময় নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। এসময় নিহতের ছেলে ভিকটিমের গলার নিচে ১ টি, পেটে ১১ টি ও পিঠে ধারালো অস্রের ১ টি কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম দেখতে পায় এবং তখনই সে মৃত অবস্থায় ছিলো। নিহতের স্ত্রীর ডাক চিৎকারে এবং কান্নাকাটির শব্দে অত্র মামলার বাদী সহ বাড়ির অন্যান্য লোকজন বাড়িতে এসে খাটের উপরে ভিকটিমের নিথর দেহ দেখতে পায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালেহ ইমরান জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে গত ২১ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই।
তিনি আরো জানান, পূর্বে গ্রেফতারকৃত রবিউল করিম পিন্টু আশুলিয়া এলাকায় পল্লী বিদ্যু সমিতিতে লাইন ম্যান হিসেবে চাকুরী করত। চাকুরীর সুবাদে নিহত এলিম সরকারের বাসায় বিদ্যুৎ এর মিটার লাগানোর কাজ করতে গিয়ে ভিকটিমের স্ত্রী কেমিলির সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। অতঃপর বিষয়টি কেমিলির স্বামী নিহত এলিম সরকার টের পেয়ে গেলে তিনি তার স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ডেকে ঘটনা প্রকাশ করে দেয়ার কথা জানান। এই বিষয়টি নিয়েই তাদের মধ্যে মারাত্মক দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। তার পরকীয়ার বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয় সে উদ্দেশ্যে এক সপ্তাহ আগেই নিহতের স্ত্রী কেমিলি এবং তার পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু মিলে এলিম সরকারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু এবং তার অপর এক বন্ধু সাইফুল কে সাথে নিয়ে ঘটনার দিন ২৮ মার্চ সকাল আনুমানিক ৯ টার দিকে স্ত্রী কেমিলির পরামর্শে নিহতের বাসায় প্রবেশ করে।
হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগেই পিন্টুর দেওয়া ঘুমের ওষুধ কেমিলি রাতের বেলা দইয়ের সাথে মিশিয়ে এলিম সরকার কে খাইয়ে দেয়। দই খেয়ে এলিম সরকার নিস্তেজ হয়ে গেলে সকাল বেলা পিন্টু তার অপর সহযোগী সাইফুল কে নিয়ে বাসায় ঢুকে উপর্যুপুরী চাকু দিয়ে আঘাত করে এলিম সরকারকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার আগে হত্যাকারীরা এলিম সরকারের বাসার সিসিটিভির ডিভিআর মেশিন খুলে নিয়ে যায়।
বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিহতের স্ত্রী ডিস ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে উক্ত ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রচার করতে থাকে।
ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামি পিন্টু এবং ক্যামিলি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে। এই মামলায় জড়িত মোট তিন আসামীকে গ্রেফতার করা হলো।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালেহ ইমরান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী সাইফুল ইসলামকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com