বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।
সংবাদ শিরোনামঃ
গাজীপুরে অজ্ঞাতনামা মৃত মহিলার পরিচয় প্রয়োজন আইজিপি ও ডিএমপির কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষন ডিএমপির কদমতলী থানার ওসির বদলি প্রত্যাহার চায় বাসিন্দারা শ্রীপুরে জন্ম প্রতিবন্ধী আতিকুলের স্বপ্ন পূরণ করলো ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু ডিমলায় পল্লীশ্রী’র চেক হস্তান্তর ও উপকরণ বিতরণ নাজিরপুরে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণের দরপত্র জমা না নেওয়ার অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে গাবতলীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নিমার্ণের স্থান পরিদর্শন গাবতলীর কাগইলে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা প্রথমে নোটারী পাবলিকে পরে কাজী অফিসে বিয়ে নেত্রকোণার দূর্গাপুরে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সাংবাদ সম্মেলন  উখিয়ায় ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ সাদ্দাম নামক চোরাকারবারি আটক: পলাতক ০২

তথ্য সংগ্রহকারীর দায়িত্ব অবহেলায় জীবিত থেকেও পাঁচ বছর আগে মৃত্যু বরগুনার ইউসুফ আলী

মোঃ আসাদুল হক সবুজ, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
তথ্য সংগ্রহকারীর ভুল তথ্য প্রদানে জীবিত থেকেও নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটের ভোটার তালিকায় ৫ বছর যাবৎ মৃত্যু হয়ে আছেন বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবনগোলা গ্রামের হোচেন আলীর ছেলে ইউসুব আলী। বয়স্কভাতা, মহামারি কেভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন নিবন্ধন ও ভ্যাকসিন গ্রহন, রাষ্ট্রীয় ভোট অধিকার সকল কিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের অর্পিত দ্বায়িত্ব পালনে অবহেলার কথা স্বীকার করেছেন তথ্য সংগ্রহকারী ও মানিকখালি বড় লবনগোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল বারী।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, ইউসুফ আলী ২০০৮ সালে ভোটার নিবন্ধিত হন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করেন।২০১৭ সালের সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় তথ্য সংগ্রহকারী মানিকখালী বড় লবনগোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল বারী নির্বাচন কমিশনের ১২নং ফরমে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের ৫ তারিখ ভুক্তভোগী ইউসুফ আলীকে স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে মৃত ঘোষনা করে সহি স্বাক্ষর দিয়ে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে প্রেরন করেন ।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হাসান তথ্যসংগ্রহকারী আবদুল বারীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের ভোটার তালিকায় ইউসুফ আলীর বর্তমান অবস্থা মৃত্যু লেখার সুপারিশ করলে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তাদের ওয়েব সাইটে ইউসুফ আলীর বর্তমান অবস্থা মৃত্য লিখে দেন।

ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী গণজাগরণকে বলেন, ২০১৭সালে আমি আমারজাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করি। এরপর কোনো প্রয়োজন পড়েনি আমার জাতীয় পরিচয় পত্রের। গত কয়েকদিন আগে আমি আমার নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আমি বরগুনা উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কার্যালয়ে যাই, যখন তাদের ওয়েব সাইটে আমার ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার দেওয়া হয়েছে, সেখানে আমাকে মৃত্যু দেখাচ্ছে বলে জানান বরগুনা সদর উপজেলার সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান।

পরে আমি সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কলেজ রোডস্থ জনৈক সাবুর কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানে করোনা টিকা নিবন্ধন করতে গেলে আমার নাম নিবন্ধিত না হলে দোকানদারের পরামর্শে নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে গেলে জানতে পারি আমি ৫ বছর আগেই মারা গিয়েছি।ফলে করোনার টিকা নিবন্ধন ও বয়স্ক ভাতায় নাম দিতে পারিনি। তথ্য সংগ্রহকারীর দায়িত্বে অবহেলার কারনেই আমি সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এমনকি এই অবস্থায় আমাকে যদি হত্যাও করা হয়, আমার পরিবার আইন আদালতে কোন সুবিচারও পাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনারের কাছে সরকারি দ্বায়িত্ব অবহেলাকারী শিক্ষক আবদুল বারী এর নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী বিচার প্রার্থনা করেছেন ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ এর ১৮ ধারায় নির্বাচন কমিশনের তথ্য হালনাগাদ ফর্মে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে ৬ মাস কারাদন্ড অথবা দুই হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি অভিযুক্ত তথ্যসংগ্রহকারী সহকারী শিক্ষক আবদুল বারী এর বিরুদ্ধে।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সাথে পরামর্শ করে বিগত ১৭/০৮/২০২১ তারিখ বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী।

সরকারি কাজে দ্বায়িত্ব অবহেলার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত মানিকখালী বড় লবনগোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল বারী বলেন, আমার বাড়ীর পাশে ইউসুফ আলী নামের একজন মারা গেছেন, তাকে মনেকরেই আমি ইউসুফ আলীকে মৃত্যু ঘোষনা করেছি। ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু নিবন্ধন থেকে তথ্য নিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে এব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদে যান নি বলে জানান অভিযুক্ত আবদুল বারী। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনার বরাবরে ইউসুফ আলীর নামে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারনে আমি ক্ষমা চেয়ে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে একখানা আবেদনও করেছি।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হাসান গণজাগরণকে বলেন, ইউসুফ আলীর অভিযোগ পাওয়ার পর কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা হবে। আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে, দায়িত্ব অবহেলা করে মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী তথ্যসংগ্রহকারী আবদুল বারীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা আইন২০০৯ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com