মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।
সংবাদ শিরোনামঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এম.পি মোকতাদির স্বপরিবারে করোনা আক্রান্ত দিনাজপুরে তাপমাত্রা ১১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস দিনাজপুরে করোনায় আরও ৩৪ জন আক্রান্ত শ্রীপুরে বিএনপি’নেতাকে গঠনতন্ত্র ছাড়াই বহিষ্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন  শ্রীপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে  পুলিশের ওপর হামলা  গ্রেফতার ২, পৃথক দুটি মামলা শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বিধবা নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন চলাচলের রাস্তা বন্ধ  বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসব নয়টি সংগঠনের ৫০ আবৃত্তি শিল্পী অংশ নিবে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪৫ ভাগ মানুষ টিকা নিয়েছেন নবজাতকের চিকিৎসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে নতুন সেবা ট্রাকচাপায় রিকশাচালকের মৃত্যু

দশমিনায় হাসিনা বেগম ভিক্ষা থেকে বেড়িয়ে মুদি ও চায়ের দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী

দশমিনা (পটুয়াখালী)
সভ্যতার পেছনে পরা মানুষগুলোর গলার স্বর ‘আব্বা কিছু দ্যান…, আম¥ারা সাহায্য করেন…, আল্লাহর অস্তে ভিক্ষা দেন…’ নরম কোমল অথচ করুন সূর প্রায়ই ভেসে আসে এমনই একজন মৃদু সূরেলা হাসিনার স্বর পৌছায় পটুয়াখালীর দশমিনায় তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ্রা দাসের কানে। কারও পায়ে ছেঁড়া স্যান্ডেল, কারও পা নেই, কারও গাঁয়ে ময়লা কাপড়, কারও কাপড়ই নেই। তারই উদ্যোগে উপজেলায় ৭০জন ভিক্ষুকদের তালিকাভুক্ত করা হয়।
ত্রাণ ও পূর্নবাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ সামছুর রহমান খোকন’র সহযোগীতা কামনা করেন ইউএনও শুভ্রা দাস। তারই সহযোগীতায় ভিক্ষুক পূর্ণবাসন কর্মসূচীর আওতায় মুক্তি ষ্টোর নামে প্রথমে ৪০ জন ভিক্ষুকের মধ্যে ২০১৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে মুদি ও চায়ের দোকান বিতরণ করেন।
উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের হাসিনা বেগম (৬০)। রাজধানী ঢাকায় কামরাঙ্গীরচর রসুলপুর এলাকায় রিক্সা চালানো ছত্তার প্যাদা বড় বাসায় ঝিয়ের কাজ করা হাসিনাকে ভালবেসে বিয়ে করেন। ছোট্ট বাসা টোনাটুনির সূখের সংসার। তাদের সংসারে প্রতি দেড় বছরে পালাক্রমে আসে তিনটি সন্তান মোশারেফ, কাকুলী ও জসিম। সন্তান বৃদ্ধির সাথে ছত্তার প্যাদার বাড়তি আয়ের সন্ধান করতে হয়। কাজ যত ভারি পয়সা ততই বেশি। তাই মাঝে মধ্যেই গাছের কাজে নেমে পরে ছত্তার। বিয়ের ৯ বছরের মাথায় গাছের চাপায় ছত্তার প্যাদা মারা গেলে, হাসিনার সংসারে আয়ে ভাটা পরে। অধিক সন্তান থাকায় কেউ কাজে রাখতে চায়নি, বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে হাসিনা। বড় ছেলে মোশারেফ উড়ান্ত পাখির মতোই জন্ম ডেরার খোঁজ নেয়নি কখনো। জসিম জন্মগত প্রতিবন্ধী। ভিটে বিক্রি করে শারিরীক প্রতিবন্ধি নুরজামালের সাথে বাক প্রতিবন্ধী কন্যা কাকুলীর বিয়ে দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় হাসিনা। অন্যের বাড়িতে সাহায্য তুলে সংসার চালাতে চালাতে কখনযে ভিক্ষাবৃত্তিতে চলে গেলেন তার হিসেব কষার সময় হয়ে উঠেনি হাসিনার। এভাবেই কেঁটে যায় ২১টি বছর। ২০১৯ সালে ভিক্ষুক তালিকাভুক্ত হয়ে, মুদি ও চায়ের দোকানের মালামাল সমেত ঘর পেয়ে হাসিনা একটু বেশিই খুশি। গ্রামীণ সড়কের পাশে মুক্তি ষ্টোর বসিয়ে হাসিনা আজ হিসেবি ব্যবসায়ী। ভিক্ষা করে বেঁচে থাকা ও এখন নিজে ইনকাম করে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে ষাটোর্ধ হাসিনা একটু পা গুটিয়ে বসে বলেন, ‘সত্যকার কতা কি আব্বা, আগে এ্যাক দিনের কামাই আর এহোনের হপ্তার কামাই হোমাইন্না। ঈদের কামাইতে মাস কাঁডতো। হেরপরেও নিজ কামাইতে কইলজায় শান্তি পাই। বড় গলায় কইতে পারি, এহন আমি ভিক্ষা করিনা। কামাই কইররাই বাহি জেবন কাডামু, এইডাই কই আল্লার কাচে।’ উপজেলায় ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেড়িয়ে আসে দু’ধাপে এরকম ৭০ জন হাসিনা। একেক হাসিনার স্থানকাল ভিন্ন হলেও জীবনের বৈঠাহীন তরীর গন্তব্য এক জায়গায় মিলে গেছে। আর মিলে গেছে তাদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেড়িয়ে আসার রহস্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com