মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

‘না পারছি আবাদ বাদ দিতে, না পাচ্ছি ধানের ন্যায্য দাম’

নিজস্ব প্রতিবেদক: নীলফামারীতে আমন ধানের আবাদের ধুম চলছে। জমিতে বীজ বপন ও ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে সম্প্রতি ডিজেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে ফসলের উৎপাদন খরচও। তাই খরচের তুলনায় ধানের দাম পাবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

কৃষকরা জানান, ডিজেল ও সারের দাম বাড়ায় এবার উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বাড়বে। সে তুলনায় দাম না পেলে কৃষকরা ধান চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

কৃষিবিদরা বলছেন, যদি কৃষকের লাভ না হয় তাহলে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হবে। এর প্রভাব পড়বে কৃষি খাতেও।

সদর উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের ধান চাষি হারুন বলেন, ‘ডিজেলের লিটারে ৩৪ টাকা ও ইউরিয়া সার কেজি প্রতি ৬ টাকা দাম বাড়ায় দুশ্চিন্তায় আছি। চলতি আমন ধান অনেকটাই সেচের ওপর নির্ভর করে। আর এই সেচ দিতে হয় ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে। ডিজেলের দাম বাড়ায় এবার সেচের মূল্য অনেকটাই বেড়ে যাবে। এছাড়া বিঘা প্রতি সার কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হবে। সেই তুলনায় ধানের উৎপাদন খরচ উঠবে কি না সেই চিন্তাই করছি।’

কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রামের কৃষক বায়েজীদ হোসেন বলেন, ‘সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় ধানের উৎপাদন খরচ তোলা সম্ভব হবে না। প্রতি বিঘায় এবার বাড়তি দুই হাজার টাকা ব্যয় বেশি হবে। সে তুলনায় ধানের দাম হওয়া উচিত দেড় হাজার টাকা মণ। উৎপাদন খরচ না উঠলে পরের বছর থেকে ধান আবাদ বাদ দিতে হবে।’

জলঢাকা উপজেলার ধান চাষি দিপু বলেন, ‘জমি তৈরির জন্য জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ আগে বিঘা প্রতি ৩৫০ টাকা করে দিতে হতো। ডিজেলের দাম বাড়ায় সোমবার তিনবিঘা জমিতে হালচাষ দিয়েছি বিঘা প্রতি ৪৭০ টাকা করে।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সরকার তো শুধু ইউরিয়া সারের দাম বাড়িয়েছে। তবে বাজারে সব সারের দাম বেশি মূল্যে বিক্রি করছে দোকানিরা। কৃষকরা বাধ্য হয়ে বেশি দামেই সার কিনছে।’

জলঢাকার দুন্দিবাড়ী গ্রামের আরেক কৃষক স্বপন বলেন, ‘আগে ৫০ কেজির ইউরিয়া সারের দাম ছিল ৮০০ টাকা এখন সেই সার ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। এছাড়া টিএসপি সারের দামও অনেক বেশি। বেড়েছে কীটনাশকের দামও। বলা যায় এবার ধান চাষ করতে বিঘায় দুই হাজার টাকার মতো বাড়তি খরচ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব মিলে আমরা কৃষকরা পড়েছি বেকায়দায়। আমরা না পারছি আবাদ বাদ দিতে, না পাচ্ছি ধানের ন্যায্য দাম।’

ডিমলার কৃষক ভুট্ট বলেন, ‘এবার চার বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করা হচ্ছে। জমি তৈরি করতে ট্রাক্টর মালিককে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। শ্রমিকের মজুরিরও বেড়ে যাওয়ায় তাদের পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩০০ টাকা। বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে সার। আমরা কৃষকরা ফাটা বাঁশের মধ্যে পা দিয়েছি।

কৃষিবিদ নাজমুল  বলেন, ‘সার ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। সেই তুলনায় কৃষক যদি তার ফসলের দাম না পায় তবে তারা ধান আবাদের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক  বলেন, ‘সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় ধানের উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বাড়বে। কৃষকরা যাতে ন্যায্যদামে সার কিনতে পারে এ জন্য কৃষি বিভাগের একটি টিম কাজ করছে। আগের মূল্যের সার যাতে কোনো ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে এ জন্য পুরো জেলায় অভিযান চলছে।’

 

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com