শনিবার, ২৫ Jun ২০২২, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

নানা দুর্ভোগের অবসান হবে ২৫ জুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় বিভিন্ন মহল নানাভাবে ষড়যন্ত্র করেছে। একমাত্র ষড়যন্ত্রকারীরাই পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির কথা বলেছেন। এরই মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু নির্মাণে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের নানা দুর্ভোগের অবসান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতেই নির্মাণ করা হয় সেতুটি।

বুধবার (২২ জুন) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পদ্মা সেতুর অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন চুপ্পু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রজ্ঞা ও তার ফলেই আজকে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটবে এখন সেটা সবাই স্বীকার করছেন। বিশ্ব ব্যাংক যে অভিযোগ করেছিল সে অভিযোগকে সবাই বলেছিল যে এটা হয়তো সত্য। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো আমরা কোনো কিছু না দেখেই সেটা বিশ্বাস করে প্রচার করলাম দুর্নীতি হয়েছে। গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়।

তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক বহুবার চেয়েছিল আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে একটি তদন্ত করতে, কিন্তু আমরা সেটি করিনি। তারা যখন বুঝতে পেরেছে যে তাদের ধারণা ঠিক হয়নি তখন তারা এখানে অর্থায়ন করতে চেয়েছিল। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছেন আমরা নিজস্ব টাকায় অর্থায়নে আমাদের পদ্মা সেতু করবো। তারা নানা বিবৃতি ও সমালোচনা করেন। যারা পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে বলেছে তারাই ছিল ষড়যন্ত্রকারী।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুইভাগ বৃদ্ধি পাবে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক রয়েছে। সেইসঙ্গে নানা দুর্ভোগের অবসান হবে ২৫ জুন। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এই সেতু অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খান মাহমুদ আমানত বলেন, দৈর্ঘ্যে পদ্মা সেতুর চেয়ে বড় অনেক সেতু রয়েছে। কিন্তু কারিগরি দিক থেকে পদ্মা সেতু অন্যতম। পদ্মা নদীর গতিপথ যেন পরিবর্তন না হয় সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের সবচেয়ে গভীরতম পাইল নির্মাণ করা হয়েছে এখানে।

পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত পেন্ডুলাম বিয়ারিং বিশ্বের সবচেয়ে অন্যতম। ভূপেন হাজারিকা সেতুর সঙ্গে পদ্মা সেতুর তুলনা করা হয়েছে এটাও ঠিক নয়। সেখানে সাড়ে সাত হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত হয় অথচ পদ্মা সেতুর সেখানে লাখের ওপরে পানি প্রবাহিত হয়। মেগা প্রজেক্টে ব্যয় বাড়ে যা নির্মাণ শুরুর পর বোঝা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন অন্ধ্রপ্রদেশের আবুল বারকাত বুঝতে পেরেছিলেন ৬ মাস আগে এবং সেটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তখন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার কাঠামোটা ড. বারাকাত দিয়েছিলেন। ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে মানুষজন গণমাধ্যমেও এটা সমালোচনা শুরু হয়।

১৯০৮ সালে হার্ডিং ব্রিজও আমাদের দেশের টাকা দিয়ে করা হয়। শত বছর পরে এসে পদ্মা সেতু নির্মাণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে সেটা আগামীতে দেখা যাবে। পদ্মা সেতু নির্মাণ এটা আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর বলেন, পদ্মা সেতুর মতো এ ধরনের জটিল ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করার সুযোগ তাদের জীবনে আসে না। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করতে সেখানে শিল্প গড়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আস্থার জায়গা আমাদের গর্ব করার জায়গা তৈরি করে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com