শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

পলাশবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার  বিভিন্ন অনিয়ম- দূনীতি চিত্র-১ 

মোঃ শাহরিয়ার কবির আকন্দ গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা  প্রদীপ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করা, সেবা নিতে আসা মানুষদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, দাম্ভিকতা দেখানো, রাঙামাটি সচল  বিলকে অব্যবহ্নত দেখিয়ে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ সহ  অনিয়ম- দূনীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানাযায়, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে হরিলুট করেছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার পলাশবাড়ী উপজেলায় মৎস্য চাষ সম্প্রসারনের লক্ষে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা প্রদান করেছেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেই সব প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে না করে তা গোপন করে আত্নসাৎ করেন ।
২০১৯ -২০ অর্থ বছরে ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম- ফেজ প্রজেক্ট ( এনএটিপি -২) মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় পলাশবাড়ী উপজেলায় উন্নত প্রযুক্তির প্রদর্শনী বাস্তবায়নে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার ১ টি পৌরসভাসহ ৮ টি ইউনিয়নে মৎস্য চাষের প্রদর্শনী দেখিয়েছেন ১৮ টি। খোজ নিয়ে দেখাযায়, অত্রালাকার চেয়ারম্যান – মেম্বার ও সাধারণ মানুষ, কিছু মৎস্যজীবি বাদে প্রকৃতমৎস্যজীবিরা এসব প্রদর্শনীর বিষয়ে কিছুই জানেন না।
এদিকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ইউনিয়ন পযায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারন প্রকল্প (২ য় পযায়) প্রদর্শনী পুকুর স্থাপন সিবিজি প্রদর্শনী কাযক্রম, সুবিধাভোগীদের প্রশিক্ষণ। প্রতি ব্যাচ ১৮ জন আরডিও ২ ধাপে ৪ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য ৪২ হাজার টাকা এবং এফ এফ প্রশিক্ষণ প্রতি ব্যাচ ২৪ জন, ২ ধাপে ৪ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য ৫২ হাজার ৩’ শ টাকা পাবে।
ইউনিয়ন পযায়ে কার্প মাছ নার্সারি প্রদর্শনীতে ৩০ হাজার টাকা, কার্প মাছ মিশ্রচাষ প্রদর্শনী ৩৫ হাজার টাকা, গলদা মাছ, বাগদা মাছ, কার্প মাছ মিশ্র চাষ প্রদর্শনী ৪০ হাজার টাকা, প্রশিক্ষণ বাবদ ৪২ হাজার টাকা, সর্বমোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। খোজ নিয়ে সরেজমিন গিয়ে জানাযায়, এসব প্রদর্শনী কোথাও করা হয়নি এমনকি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানেরা এসব প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানেন না।
অপরদিকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ইউনিয়ন পযায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারন প্রকল্প ( ২য় পযায়) দ্বিতীয় কিস্তির ভ্রমণ ব্যয় মাঠ পযায়ের উপখাতে ৬ হাজার টাকা, মৎস্য বিষয়ক মতবিনিময় সভা, ব্যবহায দ্রব্যাদি কনসিউম্যারস আইটেম ক্রয়সহ ১২ হাজার টাকা, যানবাহ মেরামত ও সংরক্ষণ খাতে ৫ হাজার টাকা সর্বমোট ২৩ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। খোজ নিয়ে জানাযায় এসব প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানেন না অত্রালাকার মৎস্য চাষী ও সাধারণ মানুষেরা।
এসব প্রকল্পের বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম মোকছেদ চৌধুরি বিদ্যুৎকে জিজ্ঞাসা করলে, প্রকল্পের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানান। তিনি আরো বলেন, কাগজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাঠ দিবসসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও আমাকে কোথাও ডাকা হয়নি। প্রকল্প ও তার বরাদ্দের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার একটু ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, কোন সাংবাদিক এসব বিষয়ে খোচরায় না। আপনি কেন খোচাখুচি  করেন?

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com