মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

নওগাঁর মহাদেবপুরে অপরাধীসহ মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আতঙ্ক ওসি নজরুল ইসলাম জুয়ল

আইনুল ইসলাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুর থানায় ওসি হিসেবে নজরুল ইসলাম জুয়েল যোগদানের পর থেকেই এলাকায় বিভিন্ন অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারী, মাদক মজুদকারীদের কাছে আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন। তাঁর নিরলশ প্রচেষ্টায় ও রাতদিন পরিশ্রমের ফলে এলাকায় মাদকসদ বিভিন্ন অপরাধ কমে এসেছে অনেকাংশে। এক সময় মহাদেবপুর মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় হাত বাড়ালেই মিলত বিভিন্ন মাদকদ্রব্য।

মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পয়েন্টে এসব মাদক খুচরা ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের হাতে তুলে দিতো। অনেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছে দিয়ে চালিয়ে আসছিলেন তাদের এসব অবৈধ মাদক ব্যবসা। এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় বিভিন্ন ঔষধের দোকানে নিষিদ্ধ নেশা জাতীয় ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছিলেন।

ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল যোগদানের পরপরই বিভিন্ন সময়ে বড় বড় মাদকের চালানসহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে জেলায় বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি একের পর এক সাহসী অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেফতার করে বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। তাঁর এ সাহসী অভিযান থেকে রেহাই পাননি মাদক সেবনকারী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে সহ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারও।

এ ব্যাপারে এক ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নজরুল ইসলাম জুয়েল থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসাবে যোগদান করার পর থেকেই তার নেতৃর্তে¡ থানা পুলিশ একের পর এক মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদকের অনেক বড় বড় চালান আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি ওসি হিসাবে যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন মাদক ব্যবসায়ী ত দূরের কথা কোন সেবনকারীকে ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে ও সোর্পদ করেননি। যেকোন ঘটনায় পুলিশ কাউকে যদি আটক পূর্বক থানায় নেয়, তাহলে আটককৃত ব্যক্তিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার কোন পথ নেয় জানিয়ে, এ জনপ্রতিনিধি আরো বলেন, ওসির এমন কঠোর অবস্থানের ঘটনাটি ইতিমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ হাটবাজার থেকে শুরু করে সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে। এজন্যই অপরাধীদের কাছে আতংকের এক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছেন ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম জুয়েল।

ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েলের ভয়ে অনেকে অনেকে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন ছেড়ে আলোর পথে ফিরেও এসেছেন বলে জানা গেছে।
ওসি সম্পর্কে উপজেলার বেশ কয়েকজন সচেতন ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, আসলেই আমরা যতটুকু জেনেছি ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল একজন সৎ-সাহসী মানুষ। তিনি এ থানায় যোগদানের পর থেকে থানা পুলিশ একের পর এক মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন। অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, উপজেলার ভীমপুর ইউপির এক মেম্বারের বিরুদ্ধেও মাদক আইনে মামলা করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি তাস খেলার অপরাধে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে সহ মোট ১৩ জনকে আটক পূর্বক থানায় মামলা দায়ের করে জেল হাজতে পেরণ করেছেন। মূলত তিনি সৎ-সাহসীকতার সাথে দায়িত্ব পালন করার কারনেই অপরাধীরা আতংকের মধ্যে থাকলেও মহাদেবপুর উপজেলার সর্ব-সাধাণের কাছে তিনি খুবই ভালো একজন মানুষ।

এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়ার দিকনির্দেশনায় আমি শুধুমাত্র আমার দায়িত্ব পালন করছি, আমাকে নিয়ে জন-সাধারলের ভয় পাওয়ার বা আতংকের কিছু নেই। তবে হ্যাঁ, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, মাদককারবারী ও সহযোগীতাকারী সহ যেকোন অপরাধ কর্মকান্ডে যদি কেউ জড়িত থাকেন, তারা আমার কাছে কোন সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। আমি তাদের কাউকেই ছাড় দিব না। এমনকি আমি এ থানায় যে কয়দিন আছি, আশা করি কোন অপরাধী থানা থেকে ছাড়ার কোন সুযোগ নেই।

আটককৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক আইনের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরো বলেন, আমি ইতিমধ্যেই থানার অফিসার ও কনেস্টবল সহ থানা এলাকার নওহাটামোড় ও মাতাজীহাট দুটি পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার সহ স্টাফদের সবাইকে সজাগ করে দিয়েছি। মাদক কারবারী বা সেবনকারীসহ কোন অপরাধীই হোক না কেন অপরাধ করলে কোন ছাড় দেওয়া যেন না হয়। ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল এর সৎ-সাহসীকতার কারনে মহাদেবপুরের মাদক কারবারী সহ অপরাধীরা আতংকের মধ্যে থাকলেও উপজেলার সাধারণ মানুষরা অনেকটা শান্তিতে রয়েছেন বলেই জানান।#

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com