বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।

জ্যোতিষীর মতে বিশ্বকাপ এবার জার্মানির ?

জিটিবি নিউজ:  জ্যোতিষ শাস্ত্রে যাদের বিশ্বাস নেই, কোনো বিষয়ে আগাম কথা বলাও যারা এড়িয়ে চলেন সচেতনভাবে- এমনসব মা নুষও কাবু হয়ে যান বিশ্বকাপ এলে। হয়ে যান ভবিষ্যৎ বক্তা, কিংবা ভবিষ্যদ্বাণীর মনোযোগী শ্রোতা। ধুম করে বলে বসেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠবে অমুক-তমুক, জিতবে অমুক। তারা বিশ্বাস করে বসেন- হাতি, বিড়াল, কচ্ছপের মতো প্রাণীদের নড়নচড়নময় ভবিষ্যদ্বাণী। কিন্তু কে ফেভারিট- এ তর্কে না তাকিয়ে যদি বাংলাদেশের আয়নায় চোখ ফেলা হয়, তাহলে অতশত দিকে তাকানোর দরকারই নেই। বলতে হবে, ফেভারিট তো মাত্র দুটি দল। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা। সাম্প্রতিক অতীত বলছে, এ দুটি দল গত এক যুগে কোনো শিরোপাই জেতেনি, ফাইনালই খেলতে পেরেছে দুই দল মিলিয়ে মাত্র একবার, তারপরও। তবে বিশ্বকাপ উন্মাদনায় বুঁদ হয়ে যাওয়া এসব বাংলাদেশি ফুটবল সমর্থকের জন্য এবার সুখবর আছে। গ্রুপিংটা যেভাবে হয়েছে, তাতে কোনো ম্যাচে হোঁচট না খেলে ১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফাইনালটা খেলবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাই!

কিন্তু সমর্থনের পর্দা সরিয়ে বিশ্বকাপটাকে দেখা যাক কেবলই বাস্তবতার আলোয়। এ পর্যন্ত বিশ্বফুটবলের প্রায় সব রথী-মহারথী ফেভারিটের তালিকা দিয়েছেন। সেসব তালিকা একত্র করলে দুটো নাম কমন-  ব্রাজিল আর জার্মানি। জার্মানরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। হালনাগাদ করা ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরেও। ১৮ বার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৩ বার সেমিফাইনালে ওঠা জার্মানি সবসময়েরই ফেভারিট। গত বছরের এই সময়টায় রাশিয়াতে তরুণ একটি দল নিয়ে মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের কনফেডারেশন্স কাপ খেলতে এসেছিল জার্মানি। জোয়াকিম লোর সেই ‘দ্বিতীয় সারি’র দলটিই শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরেছিল। থমাস মুলার, মেসুত ওজিল, মার্কো রিউজ, ম্যানুয়েল ন্যুয়াররা থাকায় এবারের দলটি আরও বেশি শক্তিশালী। দলের সাতজনই ক্লাব ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলেন বলে বোঝাপড়াও দারুণ। জার্মানিকে শিরোপার দাবিদার না ধরে উপায় আছে?

তবে জার্মানির চেয়েও আওয়াজটা বেশি ব্রাজিলকে নিয়ে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রতিবারই ফেভারিট হিসেবেই নামে। তবে রোনালদো-রিভালদো যুগের পর গত তিনটি বিশ্বকাপে আর ফাইনালে উঠতে পারেনি দেশটি। এটা সত্য যে, ব্রাজিলকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি হাঁকডাক ছিল ২০১৪-এর আসরে। সেবার স্বাগতিক হিসেবে ব্রাজিলের শিরোপা জেতাটাই যেন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু নেইমারের চোট আর সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ভুতুড়ে এক ম্যাচ সব এলোমেলো করে দেয়। তবে নেইমারের সঙ্গে গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ফিলিপে কুতিনহো, মার্সেলোদের নিয়ে গড়া এই ব্রাজিল বেশ সমৃদ্ধ এবং গোছাল। বাছাইপর্ব খেলে সবার আগে রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট কাটা এই দলটিকে নিয়ে চারদিকে প্রত্যাশার ওড়াউড়ি। ডেটা নিয়ে কাজ করা বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান গ্রেসনোট এক হাজারের মতো সম্ভাবনা বিশ্নেষণ করে জানিয়েছে, রাশিয়ায় বিশ্বকাপ হাতে তোলার সম্ভাবনা বেশি ব্রাজিলের। শতাংশে যা ২১। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির বিশ্নেষণে ব্রাজিলের পর যে দলটি দ্বিতীয় স্থানে আছে সেটি কিন্তু জার্মানি বা আর্জেন্টিনা নয়, স্পেন। ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই নাকি ব্রাজিলের সঙ্গে ফাইনালে উঠবে। স্প্যানিশদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা বলা হচ্ছে ১০ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ আট শতাংশ করে সম্ভাবনা জার্মানি আর আর্জেন্টিনার। জার্মানির কথা তো আগেই বলা হয়েছে। রইল বাকি আর্জেন্টিনা।

লিওনেল মেসি নামের বিশ্বসেরা ফুটবলারটি থাকার পরও এই দলটির উচ্চাশা এবার কম। স্বয়ং মেসিই বলেছেন, আর্জেন্টিনা এবার ফেভারিট নয়। দলের সামর্থ্যের কথা ভেবে বলেছেন নাকি প্রত্যাশার চাপ কমাতে বলেছেন, তা অবশ্য মেসিই ভালো বলতে পারবেন। তবে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোতে স্ট্রাইকার সরবরাহ করে যাওয়া এই দেশটির সামর্থ্য কিন্তু ভালোমতোই আছে। সার্জিও অ্যাগুয়েরো, গঞ্জালো হিগুয়েইন, পাওলো দিবালা, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, হাভিয়ের মাচেরানো, নিকোলাস ওটামেন্ডির মতো প্রতিষ্ঠিত ফুটবলাররা আছেন এই দলে।

ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, আর্জেন্টিনার বাইরেও অবশ্য শিরোপার দাবিদার আছে। ফ্রান্স আর বেলজিয়াম। বিশ্বকাপ জয়ের দুই দশক পূর্তির বছরে ফরাসিরা খেলতে নামছে একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার নিয়ে। অ্যাঁতোয়ান গ্রিজম্যানের সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে, অলিভিয়ের জিরুদ, পল পগবা, এনগোলো কান্তে মিলিয়ে দারুণ একটি দল। কিন্তু এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলো লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইন আর থিবো কুর্তোয়াদের বেলজিয়ামকেও রাখতে হবে হিসাবে। যদিও নতুন কারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা কমই। ১৯৬৬ সালের পর থেকে ঘুরেফিরে সাতটি দলই খেলেছে বিশ্বকাপ ফাইনালে। এর মধ্যে ইতালি আর নেদারল্যান্ডস আবার এবারের আসরে খেলছে না। ফেভারিটের সংখ্যাও তাই থমকে যাচ্ছে পাঁচ-ছয়টি দেশের মধ্যেই। কিন্তু ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের বাইরে চমকও তো থাকতে পারে।

চমক থাকবে কি থাকবে না- উত্তরটা জানা যাবে ১৫ জুলাইয়ে। ভবিষ্যদ্বাণীটা আপাতত তোলাই থাক—-

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com