শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১২:২৩ অপরাহ্ন

আজ মাহন মে দিবস

জিটিবি নিউজঃ  শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় দিন পহেলা মে। অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২য় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে দিনটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের সব দেশেই আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। ‘শ্রমিক মালিক ভাই ভাই, সোনার বাংলা গড়তে চাই’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ মে দিবস উদযাপন করবে সরকার। গতকাল মে দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, দেশের ৪৩টি শিল্প খাতের শ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যদি মারা যায় তাহলে সরকারের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনও কৃষক যদি মাঠে কাজ করা অবস্থায় বজ্রাঘাতে মারা যান তাহলে তিনিও এই তহবিলের আওতায় এই সহায়তা পাবেন। শুধু মৃত্যুতেই নয়, কোনো শ্রমিকের সন্তানের সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেডিকেল কলেজ, কৃষি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকও যদি মারা যায় তাহলে তার পারিবারের পাশে আমরা দাঁড়ায়। ওই পরিবারকে আমরা ২ লাখ টাকা সাহায্য করি। দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা করা হয়। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সব সংবাদপত্রসহ যেসব গণমাধ্যম লাভজনক অবস্থায় আছে তাদের মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে জমা দেওয়ার বিধান আছে শ্রম আইনে। লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের মুনাফার ৫ শতাংশ এই ফাউন্ডেশনে জমা দেয় সেজন্য সব প্রতিষ্ঠানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে চিঠি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ২৮৩ কোটি টাকা জমা আছে। এরই মধ্যে এই তহবিল থেকে দুই হাজার ৬৫৪ জন শ্রমিককে ২২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টস বিষয়ক কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা আছে ৪৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এই তহবিল থেকে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের সাহায্য করা হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা শ্রমজীবী মানুষসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংক ও কলকারখানা বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও বেতারগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করবে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ৭টায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য শ্রমিক র?্যালির আয়োজন করা হয়েছে। র‌্যালিটি ৪, রাজউক এভিনিউস্থ শ্রম ভবন থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হবে। র‌্যালির উদ্বোধন করবেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। মে দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকেল ৪টায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অক্ষম বা মৃত এমন ১০ জন শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করবেন।দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী এবং সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র?্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শাসন থেকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে মে দিবস পালিত হয়। ওই বছরই সদ্য স্বাধীন দেশে পহেলা মে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমজীবী মানুষের এই স্বীকৃতির সূচনাকাল সহজ ছিল না। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এই দিনে বুকের রক্তে শ্রমিকরা আদায় করেছিলেন দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের অধিকার। শ্রমিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই সেদিন মালিকরা স্বীকার করে নিয়েছিলেন শ্রমিকরাও মানুষ। তারা যন্ত্র নয়, তাদেরও বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৮৬ সালের এই দিনে শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। সেই ডাকে শিকাগো শহরের তিন লাখের বেশি শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় শ্রমিকের বিক্ষোভ সমুদ্রে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। এর পরপরই হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পরে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ১ মে তারিখটিকে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করতে শুরু করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com
Web Site Designed, Developed & Hosted By ALL IT BD 01722461335