বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

‘এলা খাই না খাই অন্তত রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: চরে নদীভাঙনের শিকার গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ‘চর ডিজাইন ঘর’র অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘরগুলোর বিশেষত্ব হলো এগুলো সহজেই স্থানান্তর করা যায়। এমন ডিজাইনের ঘর পেয়ে খুশি চরাঞ্চলবাসী।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ‘মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় উপেক্ষিত ছিল দেশের বৃহৎ চরাঞ্চলযুক্ত জেলা কুড়িগ্রাম। চরের বালুময় জমিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ প্রায় অসম্ভব। ফলে বৃহৎ চরাঞ্চলের গৃহহীনদের আবাসন নিশ্চিত করতে চর ডিজাইনের প্রাথমিক ধারণার প্রস্তাব উত্থাপন করে চিলমারী উপজেলা প্রশাসন। পরে এলজিইডির কেন্দ্রীয় ডিজাইন ইউনিট থেকে এর চূড়ান্ত ডিজাইন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পায়।

এ ডিজাইনের প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ দুই লাখ ৩৩ হাজার টাকা। সাড়ে ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি প্রস্থ আয়তনের এ ঘরে রয়েছে ২১টি আরসিসি প্রিক্যাস্ট পিলার। মেঝে পাকা ও টিনশেড। বেড়া ও টিনের সিলিংযুক্ত এ ঘরে রয়েছে দুটি শয়নকক্ষ, রান্নাঘর, ল্যাট্রিন, চারটি জানালা ও একটি বারান্দা।

পিলারের সঙ্গে নাট-বল্টু দিয়ে সংযুক্ত টিন, পিলার, ইটগুলো সহজেই খুলে আলাদা করা যায়। ফলে নদীভাঙনের মুখে পড়লে খুব সহজেই অন্যত্র স্থানান্তর ও পুনঃস্থাপন করতে পারবেন সুবিধাভোগীরা।

গতবছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় চরাঞ্চলের ঘরগুলোর নকশা ও বাজেট অনুমোদন করা হয়। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প কার্যালয় থেকে ‘ক’ তালিকাভুক্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ঘরগুলো।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাখাহাতি চরের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী লতিফা বেগম। চর ডিজাইন ঘর পেয়ে অত্যন্ত খুশি বলে জানালেন এ উপকারভোগী।

লতিফা বেগম বলেন, ‘ভাঙ্গা-চুড়া ঘরের মধ্যে আছলং। সেখানে একটু বৃষ্টিতে কাপড়-চোপড় সব ভিজে যেতো। খুব কষ্ট করে শীত পার করতে হয়েছে। বিনা পয়সায় সরকারি ঘর পেয়ে এখন আর সেই কষ্ট নেই।’

একই এলাকার মরিয়ম বেওয়ার (৫০) স্বামী মারা গেছেন প্রায় ১০ বছর আগে। গতবছর ছেলে মারা যান অসুস্থতার কারণে। এরমধ্যে গতবছর আগুন লেগে বসতবাড়ি পুড়ে যায়। কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। ফলে খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কেটেছে মরিয়ম বেওয়ার। ঝড়-বৃষ্টিতে মানুষের বাড়িতেই আশ্রয় জুটলেও নিজের থাকার কোনো বন্দোবস্ত ছিল না। এখন নির্বিঘ্নে থাকছেন আশ্রয়ণের ঘরে।

মরিয়ম বেওয়া বলেন, ‘স্বামী-সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে দিন কেটেছে। এরমধ্যে আগুনে পুড়ে একমাত্র থাকার ঘরটি শেষ হয়ে যায়। ঝড়-বৃষ্টি আর শীতের মধ্যে মানুষের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে থাকতে হয়েছে। সরকারের ঘর পেয়ে এলা খাই না খাই অন্তত রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, ‘মেঝে পাকা চৌয়ারি টিনশেড ঘরটি ভবিষ্যতে নদীভাঙনের মুখে পড়লে নাট-বল্টু খুলে অনায়সে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে। ঘরগুলো এ অঞ্চলের জন্য বেশ উপকারী।’

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুবুর রহমান বলেন, জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে সাত উপজেলা কুড়িগ্রাম সদরে ২০টি, নাগেশ্বরীতে ২০টি, রাজারহাটে ৪৭টি, উলিপুরে ১১০টি, চিলমারীতে ১৫০টি, চর রাজিবপুরে ৩০টি এবং রৌমারীতে ১৫টি চর ডিজাইনের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঘরগুলোতে সমতল জনপদের পাশাপাশি চরের গৃহহীন পরিবারের বসবাস নিশ্চিত হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com
Web Site Designed, Developed & Hosted By ALL IT BD 01722461335