বৃহস্পতিবার, ০৮ Jun ২০২৩, ১২:১৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৫ বছর ধরে কড়াইল বস্তিতে থাকেন ফরিদা আক্তার। বাবা-মা, ভাই-বোন ও দুই ছেলে নিয়ে তার সংসার। এরমধ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি বড় ছেলে সজিবকে বিয়ে দেন ফরিদা। এর এক সপ্তাহ পর সব শেষ হয়ে যায় তার। তিলে তিলে করে গড়ে তোলা সংসারের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর জন্য কেনা নানা জিনিস, ফ্রিজ, খাট, টিভি কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট নেই ফরিদার।
শুধু ফরিদা নয়, কড়াইল বস্তির প্রায় ৬০টি ঘর পুড়ে যাওয়া পরিবারগুলোর একই অবস্থা। তারা কোনো রকম নিজের জীবন নিয়ে বস্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। কিন্তু তাদের সংসারের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এর আগে রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। তবে তার আগেই সব শেষ হয়ে যায় অনেক পরিবারের।
ফরিদা আক্তার বলেন, ছেলেকে গত রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিয়ে করিয়েছি। আগুন লাগার পর ছেলের বউ আমাকে ফোন দিয়ে বলে ‘আম্মা বস্তিতে আগুন লাগছে।’ দ্রুত রিকশা দিয়ে এসে দেখি আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে।
ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বস্তির আরেক বাসিন্দা নাছিমা আক্তার বলেন, গত আট বছর ধরে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে এই বস্তিতে থাকি। আমি বাসায় কাজ করি। আর আমার স্বামী রিকশা চালায়। আগুন যখন লাগে, তখন আমি আর মেয়ে বাসায় ছিলাম। মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে বাইরে আসছি।
সাবিনা আক্তার নামের আরেকজন বলেন, বস্তির দোতলায় আমাদের ঘর। আগুন যখন লাগে, তখন বাসায় ছিলাম। আগুন লাগছে শুনে বাসা থেকে বের হইছি। আমাদের সবকিছু পুড়ে গেছে।