বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।

শ্রমিক থেকে শত কোটি টাকার মালিক কে এই চান মিয়া বাদশা?

মোল্লা নাসির উদ্দিন:

১৯৮২ সালে শামসুদ্দিন সাহেবের ব্রীক/ ইটভাটার একজন লেবার কনট্রাকটার ছিলেন চান মিয়া বাদশা। উক্ত ইটভাটায় তিনি ইট পোড়ার এবং লেবারদের সরদার হিসেবে কাজ করে। পরবর্তীতে চান মিয়া সুরমা লাইমস নামক একটি প্রতিষ্ঠানে মুহুরীর পদে চাকরি নেন। সুরমা লাইমস এর পাশে মৃত ফজল আলী ৩ শতক জায়গাসহ ডিএন্ডটির সরকারি জায়গা দখল করে রনি লাইমস্ নামে নিজেই একটি চুন ফ্যাক্টরি গড়ে তোলেন। এই ৩ শতক জমির মধ্যে পিতার ওয়ারিশ হিসেব তার বোন ১ শতক জমির দাবিদার হলেও তাকে বঞ্চিত করেন চান মিয়া বাদশা। তিনি এ যাবৎ কালে সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি একজন প্রতারক মামলাবাজ , ভূমিদস্যু ও চাদাবাজ হিসেবে পরিচিত।
মোঃ চান মিয়া বাদশার দলিল জালিয়াতি : রনি লাইমস নামে চুন ফ্যাক্টরি তৈরির আগে .১৫ শতক জমি তার পিতা ফজর আলীর নামে ছিল। তিনি .১২ শতক জমির একটি ভুয়া দলিল করে নামজারী অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নামে নামজারী করে নেয়। সুরমা লাইমস এর মালিক জালাল সাহেব বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে ভূয়া নামজারী বাতিলেন জন্য আবেদন করেন এবং উক্ত নামজারী বাতিল হয়। পরে ভূয়া দলিল বাতিলের জন্য আবেদন করলে সেটা বাতিল হয়ে যায়।
মোঃচান মিয়া বাদশা কর্তৃক গ্যাস চুরি: মেসার্স রনি লাইমস্ ফ্যাক্টরি চুন পোড়ানোর সময় ২ সুতা নজেলের পরিবর্তে রাতে চুরি করে ৩/৪ পাইপ দ্বারা লাইন দিয়ে চুন পুড়িয়ে থাকে। তিতাস গ্যাস অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মোঃ চান মিয়অ চুন পোড়ানোর মিস্ত্রি মানিক , বড় বউয়ের ছেলে দুলাল এবং দ্বিতীয় বউয়ের মেয়ের জামাইকে দিয়ে তিনি কাজটি করানোর ফলে তার কোন সমস্যা হয়নি।
রনি লাইমস এর বিরুদ্ধে গ্যাসের মামলা: চান মিয়া বাদশা তিতাস গ্যাসের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা স্টে-অর্ডার। মিটার চলে না। মিটার বন্ধ সাদা সাদা দুটো মিটারের কভার আছে। নিজেই ইচ্ছাকৃত মিটার গুলো নষ্ট করেছে।
ডিএন্ডডির প্রজেক্ট সেনাবাহিনীর কাজে বাধা: রনি লাইমস চুনা ফ্যাক্টরী সরকারি জায়গায় অবস্থিত ডিএন্ডডি প্রজেক্টর কাজ সেনাবাহিনী করেছেন। সেনাবাহিনী চুনা ফ্যাক্টরিটি ভাঙতে পাওে মনে করে চান মিয়া ২০১৭ সালে হাইকোর্টে একটি রিট/মামলা করে রেখেছেন। মামলা করে সে সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে।
বিএনপির সময় দলীয় কর্মকান্ড: বিএনপি ক্ষমতা থাকাকালে তিনি একজন বিএনপিনেতা ছিলেন। এমপি গিয়াস উদ্দিনের সময়কালে সে খুব হিংস্র প্রকৃতির ছিল। বিভিন্ন চুনা ফ্যাক্টরি থেকে তিনি নিয়মিত চাদা আদায় করতে। চাদা আদায় ও বিভিন্ন দ্বন্দ্বের কারণে ভাই ভাই চুনা ফ্যাক্টরির মালিক আবু তালেবকে মেওে ফেলা হয়। সে মামলায় চান মিয়া আসামী হয়। এক ব্যবসায়ী বিটুকে চাদার দায়ে গুলি করা হয়। সে মামলাতেও চান মিয়া আসামী হয়। জালকুড়ি আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা ফাটানোতে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং চান মিয়া আসামী হয় ও জেল খাটে।
কর্মচারী ফারুকের ওপর চান মিয়ার অত্যাচার: ফারুক নামে এক কর্মচারী চান মিয়ার রনি লাইমসে চাকরি করতো। সে পুরনো একজন কর্মচারী সে চুনা পোড়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকতো। তার বেতন বাড়ানোর কথা ছিলো। কিন্তু চান মিয়অ তার বেতন না বাড়িয়ে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে অল্প বেতনে কাজ করতে বাধ্য করতো। একদিন কর্মচারী ফারুক কাজ করবে না বলে চলে গেলে তাকে মারধর করা হয়ে যায়। মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে কর্মচারী ফারুক মহামান্য আদালত, নারায়ানগঞ্জে একটি মামলা করেন। এই মামলায় মহামান্য আদালত সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে কর্মচারী ফারুকের পক্ষে রায় দেয়। এই মামলায় চান মিয়া বাদশাকে স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে মহামান্য আদালত থেকে মুক্তি পেতে হয়।
বোনের ওপর চান মিয়ার অত্যাচার : অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও চান মিয়া পিতার জমি বোনকে দিতে চায় না। বোন পিতার জমি পাওয়ার জন্যে তার ভাই চান মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে। বোন ও ভাগ্নের সাথে তার সম্পর্ক ভালো না। তার অত্যাচারে ১টি বোন মারা যায়।
ভাগ্নের ওপর চান মিয়ার অত্যাচার: বোনের মৃত্যুর পর ভাগ্নেকে যাতে জমি দিতে না হয়, সেজন্যে চান মিয়া ভাগ্নের নামে অস্ত্রমামলা দিয়ে তাকে জেলে পাঠান। মামার মিথ্যে মামলায় ভাগ্নেকে অনেকদিন জেল খাটতে হয়। সম্প্রতি তিনি আর এক ভাগ্নেকেও জমিজমা – সংক্রান্ত বিষয়ে মারধর করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন।

ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয় চান মিয়া
সিটি কর্পোরেশনের রাস্তার ওপর চান মিয়া ব্যরিকেট তৈরী: সিদ্দির গঞ্জ নতুন মহল্লায় বাড়ি নং ৩০৫ তার সুখের নীড় নামক বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তায় রিকশা ভ্যান চলতে দেয়া হবেনা মর্মে রাস্তাটির ইট ফেলে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এলাকার লোকজন বিষয়টি জানতে পেওে রাস্তার ওপর দেয়া ব্যারিকেট ভেঙে ফেলে। পওে চান মিয়া একজন নিরীহ লোককে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেন এবং পরবর্তীতে তৎকালীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ইন্সপেক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শাসিয়ে বলেন, আপনার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এত চান মিয়া সুর নরম করে ওসি ফারুক সাহেবকে ঘুষ দিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে বললে তাতে ওসি ফারুক রেগে গিয়ে তার বিরুদ্ধে ফের আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন। এরপওে চান মিয়া কৌশলে পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে ওসি ফারুকের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করেন। কোর্টে ওসি ফারুক নির্দোষ প্রমানিত হলে কোর্ট মামলাটি খারিজ করে দেয়।
জায়গা দখল কওে ফজর আলী গার্ডেন সিটি তৈরি: আকবর আলীর কাছ থেকে ক্রয়কৃত জমির মালিক আঃ হালিম ও ফয়েজ, আব্দুল আউয়াল ও হারুনুর রশিদের জায়গাতে চান মিয়া জোর কওে বহুতলবিশিষ্ট ফজর আলী গার্ডেন সিটি তৈরি করেন। এ-বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। এই অবৈধ মার্কেটটি বৈধ করার জন্য চান মিয়া উঠেপড়ে লেগেছেন।
ফজর আলী গার্ডেন সিটির সামনে মেইন রোর্ডের সরকারি জায়গা দখল: ফরজ আলী গার্ডেন সিটির সামনের সড়কের সরকারি জায়গা দখল কওে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করছেন। এ-জায়গা দখল করার পিছনে রোড-এর কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করা হয়েছে।
ফজর আলী গার্ডেন সিটি তৈরির পিছনে অর্থের উৎস: মার্কেটের ১ ও ২ তলা তৈরির টাকার উৎস জানতে চাইলে চান মিয়া বাদশা বলেন, ৪৩টি দোকান বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করেছি এবং এ টাকা দিয়ে মার্কেট তৈরি করছি। এই ৪৩টি দোকান বরাদ্দের গোপন রহস্য বের হয়ে আসে। প্রথমে চান মিয়া বাদশা বিভিন্ন নামে ৪৩টি ভূয়া স্ট্যাম্প তৈরি করে এবং রজব আলী সুপার মার্কেটের নিচে আরিফ নামে একজন কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে তা প্রিন্ট কওে, চান মিয়া বাদশা নিজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে ভূয়া স্বাক্ষর করে ৭৪ সার্কেল, ঢাকায় জমা দিয়েছেন। তিনি দলিল ও স্ট্যাম্প জাল করতে অনেক অভিজ্ঞ ও পটু।
রাজউকের প্লান/নক্সাবর্হিভূত ফজর আলী গার্ডেন সিটি তৈরি: চান মিয়া বাদশা ফজর আলী গার্ডেন সিটি তৈরি করার জন্য একটি প্লান পাশ করেন। রাজউকের প্লান না মেনে তিনি একজন পরিদর্শককে ম্যানেজ করে সকল সমস্যার সমাধান করে ফেলেন।
চান মিয়া বাদশার রাজনৈতিক দল বদল: চান মিয়া বাদশার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বিএনপি দিয়ে। তিনি এমপি গিয়াসউদ্দিনের খুব লোক ছিলেন। বিএনপির সময়কালে গ্যাস চুরি ও চাদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন তিনি। বিএনপির সময় তিনি জঙ্গিদের মদদ/ অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত। আওয়ামীলীগের বড় একজন নেতার মামা এই মামার কাচপুওে গ্লাসের ফ্যাক্টরি আছে এর মাধ্যমে অনেক টাকার বিনিময়ে এই মামলা থেকে তিনি মুক্তি পান। তার অবৈধ সম্পদ রক্ষা করার জন্য তিনি আওয়ামীলীগে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন আওয়ামীলীগের নেতাদের ছত্রছায়ায় চলাফেরা করেন।
চান মিয়া বাদশা কোন দলের: সম্প্রতি তিনি আওয়ামীলীগ যোগদান করলেও জামাত ও বিএনপি বড় বড় নেতার সাথে ফরজ আলী গার্ডেন সিটিতে ও কথিত আরএনএন টিভির অফিসে বিভিন্ন সময় মিটিং করতে দেখা যায়। কিছু ব্যক্তির কাছে তার ফটো ও ভিডিও ক্লিপ আছে। এখন চিন্তার বিষয় তিনি আসলে কোন দলের? তার অবৈধ সম্পদ রক্ষার জন্যই কি তিনি আসলেই আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছেন, না তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে?
চিত্রজগৎ: মোঃ চান মিয়া বাদশা চিত্রজগতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ২টি চলচ্চিত্র তৈরির চেষ্টা করেন। অশোভন শুটিংয়ের কারনে বিএফডিসি ২টি চলচ্চিত্রই মুক্তি দেয়নি।
সিএন এন বাংলা টিভি চ্যানেল থেকে বহিস্কার: ক্ষমতার অপব্যবহার করার দায়ে সিএনএন বাংলা টিভি কর্তৃপক্ষ চান মিয়া বাদশাকে বহিস্কার করেছে। কিন্তু তাকে বাদ দেয়ার পরও তিনি গাড়ির সামনে চ্যানেলের স্টিকার ব্যবহার কওে বিভিন্ন অপকর্ম করেছেন। প্রশাসনের নজরে এল তিনি তা দ্রুত সরিয়ে ফেলেন। সিএনএন বাংলা টিভি চ্যানেলটির শুরুতে একজন পরিচালক থাকলেও পওে মোঃ চান মিয়া ফিন্যান্স ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। এই চ্যানেলের অপব্যবহার করে এলাকায় এবং বিভিন্ন স্থানে ত্রাস সৃষ্টি করার কারনেই তাকে চ্যানেল থেকে বহিস্কার করা হয়। এরপর তিনি সিএনএন বাংলা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীন আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যা এখনো চলমান।
১৯৮২ সালে ইট ভাটার পিয়ন থেকে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বর্তমানে তার সম্পত্তির হিসাব: ঢাকা ওয়ারীতে ২টা ফ্লাট র‌্যাংগস অনামিকা, শান্তিনগর ১টি চামেলীবাগ ২১তলা বিল্ডিং-এর ১৭ তলায় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের, আল ইসলাম নগর সিআই খোলা জাজিরা লাইমস- এর বিপরীতে ১টি বাড়ি, রহিম মেম্বারের গ্রীলের দোকানের পাশে ২টি বাড়ি, হিরাঝিল এমপি গলিতে ১টি বাড়ির কাজ শেষের দিকে, হাজী শামসুদ্দীন সাহেবের পুকুওে ২টি প্লট, এ টু জেড স্কুলের কাছে ১টি বাড়ি, পাইনাদিতে ২টি বাড়ি, এমপি গলিতে ১টি বাড়ির কাজ চলছে, হাজী শামসুদ্দীন সাহেবের পুকুরে ২টি প্লট, ফজর আলী সিটি গার্ডেন নামে মার্কেট ১টি ফজর আলী সিটি গার্ডেনের পাশে ২টি নয়া আটিতে চুন ফ্যাক্টরি ১টি, রনি লাইমস সেখানে ১টি বাড়ি আফতাবনগরে ৫৮ লক্ষ টাকার একটি ফ্লাট,সারাহারা করিমুন নিবাস নামীয় ৭তলা বিশিষ্ট ইমারতের নিচতলায় ০১নং কার পাকিং স্পেসসহ দক্ষিণ দিকের কমনস্পেসসহ ১০৫০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ৫-এ নং ফ্ল্যাট আফতাবনগর হাউসিং প্রকল্পের এ-ব্লকের ০২ নং রোডের এ/৩০/১ নং প্লট ও ধানমন্ডিতে একটি ফ্লাট রয়েছে। চিত্রজগতে ২টি গিয়ে সেখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও চলচ্চিত্র দুটি রিলিজ করাতে পারেনি। নিজে ২টি গাড়ী ব্যবহার করেন, কয়েকটি ট্রাক ও মালবাহী জাহাজ আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com