শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।

কলাপাড়ায় বরশি দিয়ে মাছ ধরেই চলে ৩৪ জেলে পরিবারের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : কলাপাড়ায় চাকামইয়া ইউনিয়নের কাঁঠালপাড়া গ্রাম। নেই কোন পাকা সড়কের ব্যবস্থা। বর্ষাকালে ট্রলারই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। কাঁঠালপাড়া স্লুইসের ভিতর এবং বাহিরে সারিবদ্ধ হয়ে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে বরশি ফেলে মাছ শিকার করেন এ মৎস্য শিকারীরা। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনরকমে বাচঁতে পারবেন বলে জানান এসব জেলেরা। গলদা চিংড়ি, গুলসা, বগনি, কোড়াল, গাগঁড়া, পাঙ্গাশ, রুই, কাউন, পোয়া, বাইলা, কাঁকড়া সহ নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় এখানে। সারাদিন মাছ শিকার করে তারা ৪০০ থেকে ২,০০০/ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে। কোন দিন কোন মাছ পাননা, আবার বড় মাছ পেলেতো কথাই নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাঠালপাড়া গ্রামের রশিদ মুন্সি, হামিদ সরদার, হানিফ হাওলাদার, নুরসায়েদ খান, মঞ্জুরুল হক, ইউসুফ সিকদার, কালাম আকন, নূর ইসালাম হাওলাদার, জাকির আকান, ফারুক আকন, শহীদুল গাজী, কামাল গাজী, সালেহাবাদ এলাকার প্রতিবন্ধী নজরুল, বাবুল ব্যাপারী, বারেক ব্যাপারী, শামসুদ্দিন, চুন্নু সিকদার, কড়ইবাড়িয়া এলাকার দুই পা বিহীন প্রতিবন্ধী জালাল ফকির, আফজাল সহ গান্ধাপাড়া, আনিপাড়া এবং চাউলাপাড়া এলাকার ৩৪ জন মাছ শিকারী এখানে মাছ ধরতে আসে। পানির জোঁ বুঝে চব্বিশ ঘন্টাই কেউ না কেউ এখানে থাকে।

কাঁঠালপাড়া গ্রামের জেলে বাবুল ব্যাপারী এ প্রতিনিধিকে বলেন, বয়স হয়ে গেছে তাই নদীতে মাছ শিকার করতে পারিনা। তিন বছর ধরে এখানে বরশি দিয়ে মাছ শিকার করছি। এক কেজি মাছ পেলে চারশো থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রী করা যায়। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো জেলে কার্ড পাইনি। গত বছর মৎস্য কর্মকর্তা এসে নাম নিয়ে গেছে আর কোন খবর নেই। প্রতিবন্ধী নজরুল এ প্রতিবেদককে জানায়, সংসার চালাতে নৌকায় বসে বরশি দিয়ে মাছ শিকার করছি। অন্য কোন কাজ করতে পারিনা।

চাকামাইয়া নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আইয়ুব আলী এ প্রতিবেদককে জানান, একসময় এদের কাছ থেকে বড় সাইজের কোড়াল, কাউইন এবং বগনি মাছ কিনে নিতাম। এখন তেমন পাওয়া যায়না। তিনি আরও জানান, এদের অধিকাংশ সন্তানেরা আমার বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। আমরা যতটুকু সম্ভব তাদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকি।

চাকামইয়া ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদার এ প্রতিনিধিকে জানান, আমার ইউনিয়নে এই সকল মৎস্যজীবীদের সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এরা যাতে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারে সে ব্যাপারে আমরা সহযোগিতা করি।

এবিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা গনমাধ্যমকে বলেন, এটা আমার জানা নেই, এখনই সংবাদমাধ্যমের কাছ জানতে পারলাম, সামনের দিকে সরকারী কোন সাহায্য-সহযোগীতা এলে তাদেরকে অগ্রাধীকার দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বর্তমানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী (কাঁসারি, বাঁশ ও বেত শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত, কামার, কুমার, তাতী, নাপিত, বাউল শিল্পী) ১০টি পেশার মানুষের জরিপ চলছে। এদের মধ্যে এইসব পেশার মানুষের জন্য তালিকাভূক্ত করা যাবে। তিনি আরও জানান এদের মধ্যে এ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে যারা এ ধরনের জেলে ও প্রতিবন্ধী জেলে আছে তাদের সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com