রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।
সংবাদ শিরোনামঃ
বগুড়ার শেরপুরে বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত কাহালু সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা থানায় তদবিরে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী গ্রেফতার মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত: পররাষ্ট্র সচিব আয়রন ব্রিজ তো নয় যেন মরণ ফাঁদ উখিয়ায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেফতার ৬ শিবগঞ্জে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাওনের নির্বাচনী উঠান বৈঠক শিবগঞ্জে কৃষকের কলা বাগানের ছড়িতে মেডিসিন ষ্প্রে করে ২শতাধিক কলা নষ্ট করার অভিযোগ শিবগঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজনে দূর্গাপূজা উপলক্ষে মত বিনিময় সভা ধামইরহাটে জাহানপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি লুইছার রহমান

অভিনব কৌসলে ভিসা প্রতারণা, প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫)। যার অন্যতম নেশা ও পেশা অভিনব কায়দায় মানব পাচার ও ভিসা প্রতারনা। সুকৌসলে বাংলাদেশে এসে টার্গেট নিয়ে কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। একপর্যায়ে গড়ে ওঠে পারিবারিক সম্পর্ক। সম্পর্কের জেরে বাংলাদেশিদের কম খরচে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখাতেন তিনি।
অভিনব কায়দায় হুবুহু অরিজিনাল কপির মত ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন রোজী। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসে সবকিছু নিয়ন্ত্রন করলেও দেশে তার একটি প্রতারক চক্র রয়েছে। যারা টাকা লেনদেনসহ কাগজ পত্র তৈরির কাজে রোজীকে সহায়তা করে আসছিলো।
সপরিবারে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম (৪৭) পা দেন উম্মে ফাতেমা রোজীর ফাঁদে।
তিনি ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা তুলেদেন রোজীর হাতে। অতঃপর রোজী তাকে ভুয়া কাগজপত্র প্রদান করে। কাজগপত্র গুলো যাচাইবাছাই করতে গিয়ে সেগুলো জাল বলে প্রমানিত হয়। প্রতারণার শিকার হয়ে এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজীর বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত পায় সিআইডি। তদন্তের এক পর্যায়ে রোজীর সহযোগী  ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. সাইমুন ইসলাম (২৬) ও আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, মেবাইল ফোন, সাতটি অস্ট্রেলিয়ার জাল ভিসা গ্রান্ট নোটিশ, ফ্রি চিকিৎসার জন্য পাঁচটি হেলথ মেডিকেয়ার কার্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার বিমানের ছয়টি টিকিট ও কিছু কাগজপত্র জব্দ করে সিআইডি।
চক্রের মূলহোতা রোজীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে  অর্স্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে সিআইডি থেকে জানানো হয়।
রোববার দুপুরে মালিবাগের সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন এসব কথা বলেন। এসময় সিআইডির বেশ কয়েকজন উর্ধতন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান রিলেটিভ স্পনসর মাইগ্রেশন (৮৫৫) পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট জাল ভিসা প্রস্তুত করে বাংলাদেশের মানুষকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন উম্মে ফাতেমা রোজী। তিনি উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখাতেন। সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ টাকা দাবী করা হতো।
তিনি এসময় আরও বলেন, রোজী অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে ভুয়া পরিচয় দেন। এছাড়াও তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত ও পুরস্কারের ছবি ভুক্তভোগীদের দেখিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করতেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও প্রতারনা করেন। এভাবে ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নেয়া হতো। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে যাওয়ার প্রলোভনে  একাধিক বাংলাদেশি তার কাছে প্রতারিত হয়।এভাবে প্রতারণা করে রোজী প্রায় একাধিক মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com