সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।

অধ্যক্ষ সামসুদ্দিনের রাহুগ্রাসে সেন্টাল ‘ল’ কলেজ লীজের জমিতে ব্যক্তিগত বহুতল ভবন নির্মানের পায়তারা

আবুল হোসেন সিকদারঃ
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজের প্রিন্সিপাল খন্দকার সামসুদ্দিন মাহমুদের রাহুগ্রাসে পড়ে কলেজটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। তার বিরুদ্ধে কলেজের নামে লীজকৃত সরকারী জমি অবৈধভাবে নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত করে ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে বানিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মানের অপচেষ্টা চালানো সহ কলেজের তহবিল থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও বছরের পর বছর কলেজে অনুপস্থিত থেকে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর রমনা থানাধীন কাকরাইল মৌজাস্থ সিএস/এসএ/আরএস ও ঢাকা সিটি জরিপে ১নং খতিয়ানের সিএস/এসএ দাগ নং-২২, আরএস দাগ নং-১৫৬১ ঢাকা সিটি জরিপের দাগ নং-৬৭১১ এবং সম্পত্তির পরিমান ০.১৭৯০ একর জমি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার কর্তৃক সেন্টাল ‘ল’ কলেজের নামে বাৎসরিক ভাড়া ১৫৩.৩৬ টাকা ধার্য করিয়া শর্ত সাপেক্ষে ৯মে-১৯৬৬ সালে ৩০ বছরের জন্য লীজ প্রদান করেন। ৯মে-১৯৯৯ সালে লীজের মেয়াদ পূর্ন হয়। এই সময়ের মধ্যে আরএস জরিপের রেকর্ডে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নামে ১নং খতিয়ানে রেকর্ড হয়, যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে।

এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ সামসুদ্দিন লীজের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং নিজের নামে নামজারী করনের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) বরাবর আবেদন করে। কিন্তু অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকারী খাস সম্পত্তি ১নং খতিয়ানে (জেলা প্রশাসক) রেকর্ড ভূক্ত হওয়ায় আবেদনটি বিবেচনা করা যাবে না মর্মে জানানো হয়। পরবর্তীতে প্রিন্সিপাল নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ড-পত্র পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাগণকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী পক্ষ (সরকার) আদালতে জবাব দাখিল করে। বিবাদী পক্ষ জবাবে বলেন, নালিশী সম্পত্তির এসএ/ আরএস ও সিটি জরিপের ১নং খাস খতিয়ান ভূক্ত সিএস/এসএ ২২, আরএস ১৫৬১ ও সিটি জরিপে ৬৭১১নং দাগ ভুক্ত সরকারী সম্পত্তি। সরকারের খতিয়ানভুক্ত সম্পওি লীজের মাধ্যমে সেন্ট্রাল ‘ল’কলেজ ভোগ দখলে আছে। সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ নালিশী সম্পত্তি স্বত্বের মালিকানা দাবী করতে পারে না। নালিশী সম্পত্তির স্বত্বের মালিকানা বিবাদী তথা সরকারের বিধায় সিটি জরিপে বিবাদী সরকারের নামে ১নং খাস খতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত হয়েছে। কলেজ সরকারী লীজে বিধায় সরকারের অনুমতি ক্রমে খাস সম্পদের বর্তমান মোট মূল্যের ২৫% হারে সরকারী কোষাগারে জমা দান শর্তে অর্থাৎ লীজ নবায়ন ক্রমে ভোগ দখল করতে পারেন। কিন্তু নালিশী সম্পত্তি স্বত্বের মালিকানা দাবী করতে পারবে না। ফলে বাদীর মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত।
পাশাপাশি বিজ্ঞ আদালত উক্ত জমি লীজ শর্তে কলেজের নামে নামজারী ও রেকর্ড পত্র সংশোধন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে। একারনে প্রিন্সিপাল উচ্চ আদালতে আপীল না করিয়া কৌশলে জমিটি নিজের নামে নামজারী করে বহুতল ভবন নির্মানের জন্য ডেভেলপারের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এবিষয়ে কলেজের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করায় প্রিন্সিপালের এসব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কিন্তু এখানো প্রিন্সিপাল উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সুত্র জানায়, প্রিন্সিপাল কোনভাবে বহুতল ভবনটির নির্মান কাজ শেষ করতে পারলেই ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে সটকে পড়বে।

আরো জানা গেছে, প্রিন্সিপাল খন্দকার সামসুদ্দিন মাহমুদ ২০০১ সালের শেষের দিকে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে এই কলেজে যোগদান করেন। তৎকালীন প্রিন্সিপাল হাইকোর্ট ডিভিশনের জজ নিয়োগ হওয়ায় সামসুদ্দিন মাহমুদ প্রিন্সিপাল হিসেবে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হন। কিন্তু দ্বায়িত্ব প্রাপ্তির পর হতে অনিয়মতান্ত্রিক ও অনৈতিক ভাবে কলেজ পরিচালনা শুরু করেন। বিশেষভাবে তিনি সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল থাকা অবস্থায় ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন হিসেবে কর্মরত আছেন। একই ব্যক্তি একসাথে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দ্বায়িত্ব কিভাবে পালন করে তার সকলেরই অজানা। এদিকে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন হওয়ায় সেন্ট্রাল ল কলেজে বেশীর ভাগ সময় অনুপস্থিত থেকে বেতন ভাতা সহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করেন। সেন্ট্রাল ল কলেজের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ তিনি নিজ বাসায় বসে সম্পূন্ন করেন। এমনকি পিয়নের মাধ্যমে হাজিরা খাতা বাসায় নিয়ে নিজের নাম স্বাক্ষর করেন। এছাড়া কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তলোন করে চিকিৎসার নামে বিদেশে বিলাশ ভ্রমনে চলে যান। বিস্তারিত আসছে…..

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com