রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।
সংবাদ শিরোনামঃ
বগুড়ার শেরপুরে বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত কাহালু সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা থানায় তদবিরে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী গ্রেফতার মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত: পররাষ্ট্র সচিব আয়রন ব্রিজ তো নয় যেন মরণ ফাঁদ উখিয়ায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেফতার ৬ শিবগঞ্জে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাওনের নির্বাচনী উঠান বৈঠক শিবগঞ্জে কৃষকের কলা বাগানের ছড়িতে মেডিসিন ষ্প্রে করে ২শতাধিক কলা নষ্ট করার অভিযোগ শিবগঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজনে দূর্গাপূজা উপলক্ষে মত বিনিময় সভা ধামইরহাটে জাহানপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি লুইছার রহমান

শিশু আল-আমিন হত্যার মূল রহস্য উৎঘাটন, আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানিকগন্ঞ্জ জেলার সংগাইর থানার আলোচিত শিশু হত্যামামলার মূল রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৩জনকে আটক করেছে পিবিআই মানিকগন্ঞ্জ ইউনিট।
পিবিআই মানিকগন্ঞ্জ ইউনিটের ইনচার্জ এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেনের বরাত দিয়ে জানা যায় মানিকগন্ঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার বড়বাকা এলাকায় গত ২৮ শে আগষ্ট সকাল আনুমানিক ৮ঃ৩০ হতে ৯ঃ৩০ ঘটিকার মধ্যকার সময়ে শিশু আল আমিন (০৭) বাড়ির বাইরে কাচা রাস্তার উপর সাইকেল চালাতে বের হয়। এরপর দীর্ঘসময় পর সে বাড়িতে ফিরে না আসলে তার পরিবার ও আত্বীয়স্বজন খোঁজাখুজি শুরু করে। অনেক খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে শিশু আল-আমিন কে না পেয়ে, বাবা মো শহীদুল ইসলাম সিংগাইর থানায় ছেলের নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি করেন। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে গত ৩১ শে আগষ্ট আনুমানিক সকাল ১০ঃ০০ ঘটিকায় এলাকার লোকজন বাড়ির অদূরবর্তী একটি বাঁশঝাড়ের মাঝে শিশু আলআমিনের পড়নের পোশাকের অংশ বিশেষ পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পায় তৎখনাত উক্ত স্থানটিকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মাটি খোড়া খুড়ির এক পর্যায়ে সাদা রংয়ের একটি বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু আল আমিনের লাশ উদ্ধার হয়।
অতপর পিপিআই এর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার মামলার তদন্ত করতে মানিকগন্জ ইউনিট কে সার্বিক নির্দেশনা প্রদান করেন। পিবিআই তদন্তে নেমে স্থানীয় লোকজন এবং এলাকাবাসীর সর্বাত্বক সহায়তায় হত্যাকান্ডের ক্লু উৎঘাটন করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত ১) মোঃ হৃদয় হোসেন [২০], ২) মোঃ সাদ্দাম হোসেন [১৯] এবং ৩)মোঃ নাজমুল হোসেন [১৬] কে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পিবিআই জানায় মুক্তিপন আদায়ের উদ্দেশ্য নিয়েই শিশু আল আমিন কে আটককৃত আসামীরা প্রথমে অপহরন করে তারপর হত্যা করে।
পিবিআই জানায় বন্যার পানি দেখানোর কথা বলে হৃদয় নামের আসামী শিশু আল আমিনকে সাপের ভিটা নামক নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করে অপর আসামী নাজমুল। তারা দুইজন প্রথমে শিশু আল আমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ঢুকিয়ে ফেলে। লাশের পরিহিত কাপড় মুক্তিপন আদায়ের প্রমানস্বরুপ খুলে রাখে। এরপর নিকটবর্তী স্থানে হাটু পানিতে লাশ ঢুবিয়ে রেখে একটি মুরগীর লিটারের (বর্জ্য) বস্তা দিয়ে চাপা দেয়। শিশু আল আমিনের সাইকেলটি হৃদয় ও নাজমুল নিজ হেফাজতে লুকিয়ে রাখে এবং একই দিন দিবাগত রাতে সাইকেলটি পার্শ পুকুরে ফেলে দেয়। ঘটনার পরদিন আসামী হৃদয় ভোরবেলা পুনরায় কোদাল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ পানি থেকে তুলে পাশেই শুকনো জায়গার মাটি গর্ত করে লাশ পুতে রাখে। তাদের পরিকল্পনায় সাদ্দাম নামের অপর আসামীর দায়িত্ব ছিলো নতুন একটি সিম সংগ্রহ করে ভিকটিম আল আমিনের পিতা কে ফোন করে মুক্তিপন চাওয়া।  কিন্তু আসামী সাদ্দাম সিম সংগ্রহে ব্যর্থ হয় বলে তারা মুক্তিপন দাবি করতে সক্ষম হয়নি। অতঃপর তারা আত্বগোপনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে এবং তারা পরিকল্পনা মাফিক বেনাপোল এলাকায় গিয়ে অবস্থান করে। বেনাপোল এলাকায় গিয়ে তারা তাদের পরিচিত লোকজন দের মাধ্যেমে বর্ডার দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা চায়। কিন্তু তারা সেখান থেকে কোন সহায়তা না পেয়ে এলাকায় ফিরে আসে এবং পিবিআই এর জালে ধরা পরে।
অবৈধভাবে অর্থ উপার্যনের নেশায় আসক্ত হয়ে তারা শিশু অপহরন ও হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে আসামীরা পিবিআইয়ের তদন্ত দলের কাছে স্বীকার করে। আটককৃতরা পিবিআইকে আরো জানায় তারা প্রথমে এলাকায় আরো ৩ জনকে অপহরন করার পরিকল্পনা করে কিন্তু তাদের বয়স একটু বেশি হওয়ায় পরিকল্পনা পরিবর্তন করে তারা প্রথমেই শিশু আল-আমিন কে অপহরন করে হত্যাকান্ড সংঘঠিত করে।
পিবিআই আরো জানায় অর্থ উপার্জনের নেশায় তারা বিকাশ প্রতারনা করার পরিকল্পনা করে। মূলত তারা একটি কিশোর গ্যাং তৈরির পরিকল্পনা করে আসছিলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com