রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৯ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।
সংবাদ শিরোনামঃ
বগুড়ার শেরপুরে বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত কাহালু সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা থানায় তদবিরে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী গ্রেফতার মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত: পররাষ্ট্র সচিব আয়রন ব্রিজ তো নয় যেন মরণ ফাঁদ উখিয়ায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেফতার ৬ শিবগঞ্জে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাওনের নির্বাচনী উঠান বৈঠক শিবগঞ্জে কৃষকের কলা বাগানের ছড়িতে মেডিসিন ষ্প্রে করে ২শতাধিক কলা নষ্ট করার অভিযোগ শিবগঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজনে দূর্গাপূজা উপলক্ষে মত বিনিময় সভা ধামইরহাটে জাহানপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি লুইছার রহমান

শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও বিপর্যয়

ফিরোজ মাহবুব কামাল

কুশিক্ষার বিপদ

চেতনা, চরিত্র, কর্ম ও আচরণে মানুষ মূলত তাই যা সে শিক্ষা থেকে পেয়ে থাকে। তাই শিক্ষা পাল্টে দিলে মানুষের ধর্ম, কর্ম, সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমাজনীতি এবং রাষ্ট্রও পাল্টে যায়। তাই মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে মুসলিম করার কাজটি নামায-রোযা ও হজ্জ-যাকাত দিয়ে শুরু করেননি। সে কাজে জ্ঞানার্জনকে প্রথম ফরজ করেছেন এবং সেটি ৫ ওয়াক্ত নামায ফরজ হওয়ার প্রায় ১১ বছর আগে। ইকরা তথা পড়ো ও জ্ঞাবান হও -তাই পবিত্র কুর’আনে মহান আল্লাহতায়ালা পক্ষ থেকে মানব জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম নির্দেশ। অথচ মুসলিমগণ সে কুর’আনী ইসলাম থেকে এতোটাই দূরে সরেছে যে তারাই বিশ্ববাসীর মাঝে সবচেয়ে অধিক অশিক্ষিত। শিক্ষা ক্ষেত্রে মুসলিমদের ব্যর্থতা ও বিপর্যয়ের এই হলো সবচেয়ে বড় দলিল। যেন অশিক্ষা নিয়েই তারা মুসলিম হতে চায়।

মানুষের সামনে শুধু শ্রেষ্ঠ একটি ভিশন বা মিশন পেশ করলেই চলে না। প্রতিটি ব্যক্তির মাঝে সে ভিশন ও মিশন নিয়ে বাঁচার সামর্থ্যও সৃষ্টি করতে হয়। নইলে সে ভিশন ও মিশন শুধু কিতাবই থেকে যায়। মুসলিম মাত্রই হলো, মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত খলিফা। মানব সৃষ্টির মূল কারণ এটিই। রাজার খলিফাগণ হলো দেশের নানা অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকগণ। সে দায়িত্বপালনে তাদেরকে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত হতে হয়। তাদের অবহেলা ও অযোগ্যতায় রাজার রাজত্ব বাঁচে না। তেমনি মহান আল্লাহতায়ালার রাজত্বে তাঁর সার্বভৌমত্ব ও আইনের শাসন বাঁচাতে প্রতিটি মুসলিমের দায়ভারটি বিশাল। এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো সে দায়িত্ব পালনে মুসলিমদের যোগ্যতর রূপে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। সে কাজে নির্ধারিত টেক্সটবুক হলো পবিত্র কুর’আন। কিন্তু বাংলাদেশে ন্যায় মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থায় সে পবিত্র কুর’আনে কোন স্থান নাই। শিক্ষার অঙ্গণে ব্যর্থতার মূল কারণ এখানেই। এবং শিক্ষার অঙ্গণে এ ব্যর্থতার কারণে সীমাহীন ব্যর্থতা ও বিপর্যয় নেমে এসেছে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, প্রশাসন, আইন-আদালত ও সংস্কৃতির অঙ্গণে।

প্রস্তর যুগের আদিম মানুষটির সাথে আধুনিক মানুষের যে পার্থক্য সেটি দৈহিক নয়, বরং শিক্ষাগত। শিক্ষার কারণেই ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে এবং জাতিতে জাতিতে ভিন্নতা সৃষ্টি হয়। তবে শিক্ষার পাশে প্রতি সমাজে প্রচণ্ড কুশিক্ষাও আছে। কুশিক্ষার কারণেই ধর্মের নামে অধর্ম, নীতির নামে দুর্নীতি এবং আচারের নামে অনাচার বেঁচে আছে। এবং সংস্কৃতির নামে বেঁচে আছে আদিম অপসংস্কৃতি। সুশিক্ষার কারণে মানুষ যেমন সঠিক পথ পায়, তেমনি কুশিক্ষার কারণে পথভ্রষ্ট বা জাহান্নামমুখি হয়। আজকের মুসলিমদের ভয়ানক ব্যর্থতাটি কৃষি, শিল্পে বা বাণিজ্যে নয়, বরং সেটি শিক্ষায়। শিক্ষাক্ষেত্রে এ থেকেই জন্ম নিয়েছে অন্যান্য নানাবিধ ব্যর্থতা। ভূলিয়ে দিয়েছে মানব-সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যটি। বহুলাংশে বিলুপ্ত করেছে আখেরাতে ভয়। ফলে মুসলিম ব্যর্থ হচ্ছে তার উপর অর্পিত খেলাফতের দায়িত্ব পালনে। অনেকেই ফিরে গিছে প্রাক-ইসলামিক যুগের জাহিলিয়াতে। ফলে আল্লাহর সৈনিকের বদলে বিপুল সংখ্যক মানুষ বেড়ে উঠছে শয়তানের সৈনিক রূপে। মুসলিম ভূমিতে মহান আল্লাহর শরিয়তী বিধানের আজ যেরূপ বিলুপ্তি এবং জেঁকে বসেছে যেরূপ কুফরি আইন –তার মূল কারণ তো এই শয়তানের সৈনিকেরা। তাদের কারণেই বিলুপ্ত হয়েছে প্যান-ইসলামিক মুসলিম ভাতৃত্ব। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে গোত্র, বর্ণ, ভাষা ও ভূগোলভিত্তিক বিভক্তির দেয়াল। এবং বেড়েছে মহান আল্লাহতায়ালার হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। ফলে শত্রুশক্তিকে মুসলিম ভূমিতে আজ কোন যুদ্ধই নিজেদের লড়তে হচ্ছে না। তাদের পক্ষে সে রক্তাত্ব যুদ্ধটি মুসলিম রূপে পরিচয় দানকারীরাই লড়ে দিচ্ছে। ফলে বেঁচে আছে শরিয়তী আইনের বদলে সাবেক কাফের শাসকদের প্রণীত কুফরী আইন। বেঁচে আছে সূদী অর্থনীতি, সেক্যুলার শিক্ষা, পতিতবৃত্তি, জুয়া এবং সংস্কৃতির নামে অশ্লিলতা। এবং ইসলাম বেঁচে আছে প্রাণহীন ও অঙ্গিকারহীন আনুষ্ঠিকতা রূপে। সংজ্ঞাহীন মুমুর্ষ রোগীর দেহে যেমন মাতম থাকে না, তেমনি মাতম নাই পরাজিত ও বিপর্যস্ত এ মুসলিমদেরও। কোন জাতির জীবনে এরচেয়ে ভয়ানক ব্যর্থতা আর কি হতে পারে?

ঈমান বাঁচাতে সত্যকে জানা ও লাগাতর মেনে চলাটি যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি হলো মিথ্যাকে মিথ্যা রূপে জানা এবং সেটি পরিহার করা। নইলে ঈমান বাঁচে না। পানাহার যেমন প্রতিদিনের কাজ, তেমনি প্রতিদিনের কাজ হলো জ্ঞানার্জন। একমাত্র তখনই লাগাতর সমৃদ্ধি আসে জ্ঞানের ভূবনে। মহান নবীজী (সা:) বলেছেন, “সে ব্যক্তির জন্য বড়ই বিপদ, যার জীবনে দুটি দিন অতিবাহিত হলো অথচ তাঁর জ্ঞানের ভাণ্ডারে কোন বৃদ্ধিই ঘটলো না।” তবে সে বিশেষ জ্ঞানটি হলো পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান। এ জ্ঞান থেকেই ঈমান পুষ্টি পায় এবং মু’মিনের মনে প্রবলতর হয় মহান আল্লাহতায়ালার ভয় ও আখেরাতের ভয়। কুর’আন পাঠের সাথে মহান আল্লাহতায়ালার সাথে মু’মিনের সম্পর্ক এভাবেই নতুন প্রাণ পায়। আত্মায় পুষ্টি জোগানোর সে কাজটি নিয়মিত না হলে দৈহিক ভাবে বেঁচে থাকলেও ব্যক্তির আধ্যাত্মিক মৃত্যু ঘটে। নিয়মিত কুর’আন পাঠের সাথে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায, মাসব্যাপী রোযা, হজ্জ, যাকাত, তাসবিহ পাঠ ও দানখয়রাত –এগুলো হলো মানুষকে আধ্যাত্মিক ভাবে বাঁচিয়ে রাখা ও শক্তিশালী করার অপরিহার্য বিধান।

তবে মহান আল্লাহতায়ালার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং মিথ্যা, অধর্ম ও নানারূপ পাপাচারকে বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যে শয়তানেরও নিজস্ব বিধান ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মদ্যপান, পতিতাবৃত্তি, সূদ, জুয়া, অশ্লিলতা, ব্যাভিচার, পর্ণগ্রাফি, নাচ-গান এগুলো হলো শয়তানের সনাতন বিধান। তবে শয়তানের হাতে সবচেয়ে বৃহৎ ও আধুনিক হাতিয়ার হলো সেক্যুলার রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের পরিচালিত সেক্যুলার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলি। এজন্য মুসলিম দেশে যতই বাড়ছে সেক্যুলার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ততই বাড়ছে ইসলাম থেকে মুসলিমদের দূরে সরা। বাড়ছে ডি-ইসলামাইজেশন। বাড়ছে ইসলামী বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বদৌলতেই মুসলিম দেশে জাতীয়তাবাদ, গোত্রবাদ, সামন্তবাদ, সেক্যুলারিজম ও পুঁজিবাদের ন্যায় জাহিলিয়াত দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। সিরাতুল মুস্তাকীম থেকে সরে এসব মানুষ দ্রুত জাহান্নামমুখি হচ্ছে। বাড়ছে সূদ, ঘুষ, অশ্লিলতা, উলঙ্গতা, ব্যাভিচার, হত্যা, গুম ও নানারূপ পাপাচারের সংস্কৃতি।

 

সবচেয়ে বড় বেঈমানি

মুসলিমদের আজকের বিভ্রান্তি এতোটাই প্রকট যে, পৃথিবীতে তারা যে মহান আল্লাহর খলিফা সে ধারণাটিও অধিকাংশের চেতনা থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। পলায়নপর সৈন্য শুধু রণাঙ্গনই ছাড়ে না, সৈনিকের পোষাক এবং নিজ দলের ঝান্ডাও ছেড়ে দেয়। তেমনি আজকের মুসলিমগণ শুধু হাত থেকে ইসলামের ঝান্ডাই ফেলে দেয়নি, বরং তুলে নিয়েছে জাতীয়তাবাদ, সমাজবাদ, রাজতন্ত্র, স্বৈরাচার, পুঁজিবাদ ও সেক্যুলারিজমের ঝান্ডা তুলে নিয়েছে। এভাবে পরিণত হয়েছে শয়তানের সৈনিকে। মুসলিম ভূমিতে আল্লাহর শরিয়তী বিধান প্রতিষ্ঠা রুখতে তাই কোন কাফের সৈনিকদের মুসলিম দেশে নামতে হচ্ছে না, সে কাজটি তারা নিজেরাই করে দিচ্ছে। ফলে আল্লাহর কুর’আনী বিধান আজ প্রায় প্রতি মুসলিম দেশে পরাজিত। মহান আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে এর চেয়ে বড় বেঈমানি, কুর’আনের বিরুদ্ধে এর চেয়ে বড় অবমাননা আর কি হতে পারে?

অথচ “মুসলিম” শব্দটি কোন বংশীয় খেতাব নয়। মুসলিম হওয়ার অর্থই হলো ইসলামের বিপ্লবী বিশ্বাস নিয়ে বাঁচা। এবং সে বিশ্বাসে উৎস্য হলো পবিত্র কুর’আন। কিন্তু সমস্যা হলো সেক্যুলারিস্ট-অধিকৃত দেশগুলোতে ইসলামের সে বিপ্লবী চেতনা নিয়ে বাঁচাটাই অসম্ভব করা হয়েছে। কোন কাফেরের সন্তান যেমন মুসলিম হতে পারে, তেমনি মুসলিমের সন্তানও কট্টোর কাফির হতে পারে। সমগ্র মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপ্লবটি এনেছিল ইসলাম। যুগে যুগে বড় বড় নীতি কথা অনেকে মনিষীই বলেছেন, কিন্তু তারা সেগুলি প্রতিষ্ঠা দিতে পারেনি। কারণ তাদের হাতে রাষ্ট্র ছিল না। কিন্তু মুসলিমগণই মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নীতিগুলি প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। কারণ ইসলামের নবী হযরতর মুহাম্মদ (সা:) শুধু কুর’আনী নীতি কথা শিক্ষা দেননি, সেগুলি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রও প্রতিষ্ঠা দেন এবং দশ বছর তিনি সে রাষ্ট্রের শাসক ছিলেন। সে রাষ্ট্রই পরবর্তীতে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়। তিনি প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং তা থেকে গড়ে তুলেছন ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ঈমানদার জনশক্তি। ফলে দাসগণ তখন মুক্তি পেয়েছে, সাধারণ মানুষের সাথে নারীগণও অধিকার ও মর্যাদা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে শরিয়তী আইনের পূণ্য শাসন। সাধারণ জনগণ পেয়েছে জানমাল নিয়ে বাঁচার নিরাপত্তা।

ইসলামের যে চেতনাটি বিপ্লব এনেছিল তার ভিত্তিটি হলো মহান আল্লাহ, তাঁর রাসূল, কুর’আন ও আখেরাতের উপর অটল বিশ্বাস। তবে মুসলিম হওয়ার অর্থ শুধু বিশ্বাসী হওয়া নয়, বরং সে বিশ্বাসকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে নিষ্ঠাবান সৈনিক হওয়াও। তাই মুসলিম তাঁর বিশ্বাসকে কখনোই চেতনায় বন্দী রাখে না; বরং কর্ম, আচরণ, রাজনীতি¸ অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও যুদ্ধবিগ্রহসহ সকল ক্ষেত্রে সে বিশ্বাসের প্রকাশও ঘটায়।  তাঁর বিশ্বাস ও কর্মে থাকে এক সামগ্রীক রাষ্ট্র বিপ্লবের সুর। ১৪ শত বছর পূর্বে নবীজী (সা:) এবং তাঁর অনুসারি প্রতিটি মুসলিম সে বিশ্বাস নিয়ে নিজ নিজ ভূমিকা রেখেছিলেন। নিজেদের বিশ্বাস ও ধর্মকর্মকে তাঁরা নিজ ঘর ও মসজিদে সীমিত রাখেননি, বরং বিপ্লব এনেছিলেন সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্র জুড়ে। কোন গাছই পাথর খন্ড ও আগাছার জঞ্জালে গজায় না। গজালেও বেড়ে উঠে না। সে জন্য উর্বর ও জঞ্জালমুক্ত জমি চাই। গাছের বেড়ে উঠার জন্য নিয়মিত পরিচর্যাও চাই। রাষ্ট্র তো সে কাজটি করে মানব সন্তানের ঈমান ও নেক আমল নিয়ে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে। মানব শিশুর পরিচর্যার সে কাজটি করে শিক্ষা। নবীজী (সা:) তেমন একটি রাষ্ট্র গড়া এবং সে রাষ্ট্রের বুকে জনগণকে শিক্ষা দেয়ার কাজকে পবিত্র জিহাদে পরিণত করেন। সর্বকালের মুসলিমদের জন্য আজও সেটিই অনুকরণীয় আদর্শ। এবং সে আদর্শের অনুসরণের মধ্যেই দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ। অন্যথায় যেটি ঘটে সেটি মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে অবাধ্যতা। তাতে অনিবার্য হয় জাহান্নামের আযাব।

শিক্ষাদান, শিক্ষালয় ও শিক্ষার মাধ্যম হলো মানব-সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম আবিস্কার। মানব-সংস্কৃতির এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার। সে সমাজে শিক্ষা নেই সে সমাজে সংস্কৃতিও নাই। শিক্ষার বলেই মানুষ পশু থেকে ভিন্নতর হয়। চেতনা, চরিত্র ও কর্মে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে যে বিপুল তারতম্য দেখা যায় সেটিও শিক্ষা ভেদে। শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ জানতে পারে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব। জানতে পারে এ জীবনে বাঁচার মূল লক্ষ্য এবং সে লক্ষ্যে পৌঁছার সঠিক পথ। জ্ঞানার্জন ছাড়া তাই ইসলাম নিয়ে বাঁচা যায় না। শিক্ষাদান ও শিক্ষালাভের কাজ তাই অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ ইবাদতের ব্যর্থতায় ব্যক্তির অন্যান্য ইবাদতেও ভয়ানক অপূর্ণতা ও সমস্যা দেখা দেয়। তখন ব্যর্থতায় পূর্ণ হয় সমগ্র জীবন –সেটি যেমন ইহকালে তেমনি আখেরাতে। শিক্ষাদানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাই মানব সমাজে দ্বিতীয়টি নেই। নবীরাসূলদের এটিই শ্রেষ্ঠতম সূন্নত।

মানুষ কতটা মানবিক গুণের মানুষ হবে এবং কতটা বেড়ে উঠবে মহান আল্লাহতায়ালার খলিফা রূপে -তা নির্ভর করে জ্ঞানার্জন কতটা সঠিক ভাবে পালিত হলো তার উপর। ইসলামের পরাজিত দশা, মুসলিমদের পথভ্রষ্টতা এবং সমাজে পাপাচারের জয়জয়াকার দেখে এ কথা নিশ্চিত বলা যায় যে, মুসলিম বিশ্বে জ্ঞানার্জনের কাজটি সঠিক ভাবে হয়নি। এটিই হলো মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। অন্যান্য ব্যর্থতা হলো তার শাখা-প্রশাখা মাত্র। মসজিদ-মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়লেও ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে সেগুলো সফলতা দেখাতে পারিনি। ফল দাঁড়িয়েছে, যে ইসলাম নিয়ে আজকের মুসলিমদের ধর্মকর্ম ও বসবাস -তা নবীজী (সা:)’র আমলের ইসলাম থেকে ভিন্নতর। নবীজী (সা:)’র ইসলামে ইসলামী রাষ্ট্র ছিল, সে রাষ্ট্রে শরিয়তের প্রতিষ্টা ছিল, দ্বীনের প্রচার ছিল, নানা ভাষাভাষী মুসলিমের মাঝে অটুট ভাতৃত্ব ছিল এবং শত্রুর বিরুদ্ধে লাগাতর জিহাদও ছিল। কিন্তু আজ সেগুলো শুধু কিতাবেই রয়ে গেছে। ফলে বিজয় এবং গৌরবের পথ থেকে তারা বহু দূরে সরেছে। বরং দ্রুত ধেয়ে চলেছে অধঃপতনের দিকে। পরাজয়, আযাব এবং অপমান ধেয়ে আসছে তাদের দিকে। সেনানিবাসে দিনের পর দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে যে ব্যক্তি সৈনিকের বদলে শত্রুর বন্ধু ও গাদ্দার হয়, তবে বুঝতে প্রশিক্ষণে প্রচণ্ড ব্যর্থতা আছে। তেমনি বছরের পর বছর স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় কাটিয়ে কেউ যদি ঈমানদার হওয়ার বদলে মিথ্যাবাদী, ব্যভিচারী, ঘুষখোর, মদখোর, চোরডাকাত, ভোটডাকাত, সন্ত্রাসী, জাতীয়তাবাদী, সেক্যুলারিস্ট ও ইসলামের শত্রু হয় -তবে বুঝতে হবে প্রচণ্ড ব্যর্থতা রয়েছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়।

 

 

সেক্যুলারিজমের বিপদ

সেক্যুলারিজম সর্বার্থেই প্রচণ্ড ইসলাম বিরোধী একটি মতবাদ। সেটি যেমন তত্ত্বে ও বিশ্বাসে, তেমনি রাজনৈতিক এজেন্ডায়। মুসলিম শুধু দুনিয়ার কল্যাণ নিয়ে ভাবে না, বরং বেশী ভাবে আখেরাতের কল্যাণ নিয়ে। কারণ দুনিয়ার জীবনটি অতি ক্ষুদ্র; কিন্তু আখেরাত মৃত্যুহীন তথা অন্তহীন। অথচ সেক্যুলারিস্টদের চেতনায় আখেরাতের গুরুত্ব নাই। ফলে তা নিয়ে ভাবনাও নাই। তাদের প্রায়োরিটি পার্থিব জীবনে সফল হওয়া নিয়ে। আখেরাতের ভাবনা নিয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচার-আচার, সংস্কৃতি ও যুদ্ধ-বিগ্রহকে তারা পশ্চাদপদতা, কূপমণ্ডূকতা ও সাম্প্রদায়িকতা ভাবে। সেক্যুলারিস্টদের সাথে ঈমানদারদের মূল দ্বন্দটি এখানেই। জান্নাত লাভের চিন্তায় মুসলিমকে মহান আল্লাহতায়ালার প্রতিটি হুকুম পালনে একান্ত অনুগত ও নিষ্ঠাবান হতে হয়। কারণ, তাঁর চেতনায় সর্বক্ষণ কাজ করে কোনরূপ অবাধ্যতায় জাহান্নামে পৌঁছার ভয়। এজন্যই ঈমানদারের জীবনে ইসলামী রাষ্ট্র বিপ্লব ও রাষ্ট্রে শরিয়তের প্রতিষ্ঠার কাজে লেগে থাকাটি কোন নেশা বা পেশা নয়; বরং সেটি জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচার একমাত্র অবলম্বন মাত্র। এটি তাঁর নিজের, নিজ সন্তানের ও আপনজনদের জন্য ঈমান ও নেক আমল নিয়ে বাঁচার নিরাপদ পরিবেশ নির্মাণের লড়াই। এ কাজে কোনরূপ আপোষ বা অবহেলার সামান্যতম সুযোগও নাই। কারণ সে কাজের হুকুম এসেছে মহান আল্লাহতায়ালা থেকে। কোন ঈমানদার কি সে হুকুম অমান্য করতে পারে

[Message clipped]  View entire message

Firoz Kamal

Fri, Sep 3, 3:59 PM (19 hours ago)
to viewsmail

 

Translate message

Turn off for: Bangla

www.drfirozmahboobkamal.com/blog/শিক্ষাক্ষেত্রে-ব্যর্থতা/

সেক্যুলারিজম সর্বার্থেই প্রচণ্ড ইসলাম বিরোধী একটি মতবাদ। সেটি যেমন তত্ত্বে ও বিশ্বাসে, তেমনি রাজনৈতিক এজেন্ডায়। মুসলিম শুধু দুনিয়ার কল্যাণ নিয়ে ভাবে না, বরং বেশী ভাবে আখেরাতের কল্যাণ নিয়ে। কারণ দুনিয়ার জীবনটি অতি ক্ষুদ্র; কিন্তু আখেরাত মৃত্যুহীন তথা অন্তহীন। অথচ সেক্যুলারিস্টদের চেতনায় আখেরাতের গুরুত্ব নাই। ফলে তা নিয়ে ভাবনাও নাই। তাদের প্রায়োরিটি পার্থিব জীবনে সফল হওয়া নিয়ে। আখেরাতের ভাবনা নিয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচার-আচার, সংস্কৃতি ও যুদ্ধ-বিগ্রহকে তারা পশ্চাদপদতা, কূপমণ্ডূকতা ও সাম্প্রদায়িকতা ভাবে। সেক্যুলারিস্টদের সাথে ঈমানদারদের মূল দ্বন্দটি এখানেই। জান্নাত লাভের চিন্তায় মুসলিমকে মহান আল্লাহতায়ালার প্রতিটি হুকুম পালনে একান্ত অনুগত ও নিষ্ঠাবান হতে হয়। কারণ, তাঁর চেতনায় সর্বক্ষণ কাজ করে কোনরূপ অবাধ্যতায় জাহান্নামে পৌঁছার ভয়। এজন্যই ঈমানদারের জীবনে ইসলামী রাষ্ট্র বিপ্লব ও রাষ্ট্রে শরিয়তের প্রতিষ্ঠার কাজে লেগে থাকাটি কোন নেশা বা পেশা নয়; বরং সেটি জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচার একমাত্র অবলম্বন মাত্র। এটি তাঁর নিজের, নিজ সন্তানের ও আপনজনদের জন্য ঈমান ও নেক আমল নিয়ে বাঁচার নিরাপদ পরিবেশ নির্মাণের লড়াই। এ কাজে কোনরূপ আপোষ বা অবহেলার সামান্যতম সুযোগও নাই। কারণ সে কাজের হুকুম এসেছে মহান আল্লাহতায়ালা থেকে। কোন ঈমানদার কি সে হুকুম অমান্য করতে পারে? অমান্য করলে কি ঈমান থাকে? কিন্তু সেক্যুলারিস্টদের জীবনে সে ভয় নাই, সে ভাবনাও নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com