সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
Gtbnews24.com এর হেড অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। বতর্মান ঠিকানাঃ মাঝিড়া,শাজাহানপুর,বগুড়া।
সংবাদ শিরোনামঃ
বগুড়ার শেরপুরে বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত কাহালু সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা থানায় তদবিরে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী গ্রেফতার মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত: পররাষ্ট্র সচিব আয়রন ব্রিজ তো নয় যেন মরণ ফাঁদ উখিয়ায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেফতার ৬ শিবগঞ্জে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাওনের নির্বাচনী উঠান বৈঠক শিবগঞ্জে কৃষকের কলা বাগানের ছড়িতে মেডিসিন ষ্প্রে করে ২শতাধিক কলা নষ্ট করার অভিযোগ শিবগঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজনে দূর্গাপূজা উপলক্ষে মত বিনিময় সভা ধামইরহাটে জাহানপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি লুইছার রহমান

বগুড়ায় বাজারে আলুর দরপতন, শঙ্কিত কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

 এম.এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি,
বগুড়ায় বেশ কয়েকদিন ধরে বাজারে আলুর দরপতন হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহেও যেখানে আলুর কেজি বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজি সেখানে বর্তমান বাজারে বিক্রয় হচ্ছে খুচরা কেজি প্রতি ১৫ টাকা করে। আর পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা কেজিতে।
এদিকে উৎপাদন থেকে হিমাগারে রাখা পর্যন্ত এক কেজি আলুর পেছনে কৃষক ও ব্যবসায়ীর খরচ হয়েছে ১৮ টাকা। এই হিসাবে হিমাগারে আলু রেখে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজিতে ৮ টাকা করে লোকসান গুনছেন। মোটকথা আলুর মোকাম হিসেবে পরিচিত বগুড়াতেই আলুর দাম এখন নিম্নমুখী।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর একটি বগুড়া। কয়েক মৌসুম ধরে জেলাটিতে আলু আবাদ ও উৎপাদন ভালো হওয়ার কারণে আলুর দাম সহনীয় পর্যায়ে ছিল। গত ২০১৯-২৯ মৌসুমে জেলায় আলুর ফলন ছিল প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০ মৌসুমে বগুড়া জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ হাজার মেট্রিক টন। শেষ পর্যন্ত বগুড়ায় গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়।
জেলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাওয়া যায় বগুড়ায়। গত কয়েক বছর ধরে বগুড়ায় ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় আলুর দাম নিয়ে কৃষকরা খুশি না হতে পারলেও বাজার ব্যবস্থায় আলুর দাম স্থিতিশীল থাকায় নিশ্চিন্ত ছিল ভোক্তারা।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ভালো ফলনের কারণে জেলায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। বগুড়া সদর উপজেলার বারপুর, ঘোড়াধাপ, মরাকাটা, চাঁদমুহা এলাকার কয়েকজন আলু চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর আলুর ভালো ফলন পাওয়া যায়। ভালো ফলন পাওয়া গেলেও বাজারে ভালো দাম ছিল না। গত বছর মৌসুমের সময় বগুড়ার খোলা বাজারে একেবারে ভালোমানের আলু ২৮ থেকে ৩০ টাকা আর স্বাভাবিকভাবে আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজি। সেই আলু চলতি বছর এসে বর্তমানে কোল্ডস্টোরে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১০ টাকা কেজিতে। এই আলু কোল্ডস্টোরে সংরক্ষণ করার সময় খরচসহ ব্যবসায়ীদের পড়েছে প্রায় ১৭ টাকা কেজি।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দুলাল হোসেন জানান, বগুড়ায় সবজি হিসেবে আলুর উৎপাদন বরাবরই ভালো। এ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে এবার বন্যা হয়নি। সবজি রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। তাতে আলুর চাহিদা সামান্য কমেছে। আবার বগুড়া অঞ্চল থেকে অন্য জেলায়ও আলু খুব একটা যায়নি। হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলু খালাস না করলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হবে। সব মিলিয়ে আলুর বাজারমূল্য কমে গেছে। তবে সামনে আরো একটি আলু চাষের মৌসুম আসছে দাবী করেন ওই কৃষিবিদ।
বগুড়ার সবজিবাজার খ্যাত মহাস্থান বাজারে আলু কিনতে আসা আলাল হোসেন, আব্দুর বারিক, লোকমান হোসেন জানান, মহাস্থানহাটে আলু পাইকারিভাবে ১২ টাকা কেজি আর খুচরা বাজারে ১৪ থেকে ১৫ টাকা আর কিছু ভালো মানের আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি। আলুর দাম গত পনের দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজি। সেই আলুর দাম হঠাৎ করে কমে এসেছে।
বগুড়ার শেরপুরের আলু চাষি নবীর উদ্দিন জানান, এ বছর আলুর দাম কম। চাষের পর হাটে বিক্রি করা আলুর থেকে খরচ উঠেছে। আমন ধান কাটার পর আবারো আলু চাষ করা হবে। আলু চাষিরা আলুর দাম পেলে চাষে আরো আগ্রহ বাড়বে।
বগুড়া ও জয়পুরহাট নিয়ে গঠিত বৃহত্তর বগুড়া জেলা কোল্ড স্টোরেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং আরবি হিমাগারের চেয়ারম্যান পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, এবার ৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি আলু সংরক্ষণ করা আছে বগুড়া-জয়পুরহাটের ৫৫টি হিমাগারে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন বীজ আলু। বাকি প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন এখন বিক্রির জন্য আছে। প্রতিটি স্টোরে প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ বস্তা আলু ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।
গত বছর বিভিন্ন স্টোরে কৃষকরা আলু সংরক্ষণ করে রাখেন। এর সাথে করোনাকালে আলু খালাস ও অন্যান্য জেলায় সরবরাহ হয়েছে কম। আবার সামনে আলুর সিজন আসছে। সব মিলিয়ে সংরক্ষণ করা আলু একযোগে খালাস হওয়ার কারণে বাজারে আলুর দামের দরপতন হয়েছে। এতে করে তাদের কেজি প্রতি আলু বিক্রিতে ৬ থেকে ৮ টাকা লোকসান হচ্ছে। ফলে গত কয়েকদিনের হিসাবেই এই দুই জেলার আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা ৩২০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com