বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৯ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

পার্বতীপুরে পাথর খনি বন্ধ হওয়ার আশংকা

দিনাজপুর সংবাদদাতা : দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে ভু-গর্ভে প্রয়োজনীয় বিদেশি যন্ত্রপাতির অভাবে খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি গত ১ আগষ্ট/১৫ থেকে তিন শিফটের পাথর উত্তোলন এক শিফটে নামিয়ে আনায় দুই তৃতীয়াংশ পাথর উৎপাদন কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে বিদেশি যন্ত্রপাতি বসানো না গেলে খনিটি বন্ধ হওয়ার আশংকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন খনিতে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী এবং খনি এলাকার কয়েক হাজার পরিবার।
জানা গেছে , মধ্যপাড়া খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মাানিয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) খনির কার্যক্রম শুরুর করার পর থেকে প্রায় সোয়া ১ বছরে রেকর্ড পরিমাণে পাথর উত্তোলন করে। প্রতিদিন তিন শিফটে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মে,টন করে পাথর উত্তোলন হওয়ায় খনিতে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ খনি শ্রমিকের প্রায় ১ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়। পাশাপাশি খনির বাম্পার উৎপাদন এবং পাথর বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় খনি এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফুটে উঠে। পাথর খনির এই সুদিন আসায় খনি এলাকার ব্যবসায়ী, কুলি ও শ্রমিকসহ আরো প্রায় ৩ হাজার পরিবারে খনির দ্বারা পরোক্ষভাবে আয়ের পথ তৈরি হয়।
খনির একটি সূত্রে জানা যায়, খনির উৎপাদন, রক্ষনাবেক্ষন এবং পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি যখন খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দিকে নিয়ে যেতে সফলতার দ্বারপ্রান্তে তখন খনির সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আবুল বাশার ও ব্যবস্থাপক রফিজুল ইসলাম রিটু গং এর হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং ষড়যন্ত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্টানকে অসহযোগিতা সহ তাদের কার্যক্রমে নানা প্রতিবন্দকতা সৃষ্টি করে পাথর উত্তোলনে প্রয়োজনীয় বিদেশি যন্ত্রপাতি আমদানি করতে টালবাহানা এবং সময়ক্ষেপন করায় যন্ত্রপাতির অভাবে খনির নতুন স্টোপ নির্মাণ (নতুন শিলা উৎপাদন ইউনিট) এবং খনি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে জিটিসি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়। এতে তারা তাদের অধীনে কর্মরত প্রায় ৫ শত খনি শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে ছুটি দিয়েছে। খনি কর্তৃপক্ষ দ্রুত খনির নতুন স্টোপ নির্মান এবং উন্নয়ন কাজে জিটিসিকে বিদেশি যন্ত্রপাতি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ না করলে খনি তিন শিপটে উৎপাদনে যেতে অনিশ্চয়তা দেখা দিবে এবং খনি শ্রমিকদের চাকরি অনিশ্চয়তায় পড়বে। পাশাপাশি খনি এলাকায় খনির উপকারভোগী প্রায় আরো প্রায় ৩ হাজার পরিবাবের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পাথর খনির নতুন স্টোপ নির্মাণ এবং খনি উন্নয়ন করে জিটিসি তাদের চুক্তির মেয়াদকাল ৬ বছরে প্রায় ৯২ লক্ষ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করবে। গত আট মাস আগে তারা খনিতে প্রয়োজনীয় বিদেশি যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য খনি কর্তৃপক্ষ (এমজিএমসিএর) কে চাহিদা পত্র দেন। কেননা চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল দেশি বিদেশি মালামাল খনি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করবেন। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ সময়মত মালামাল সরবরাহ না করার কারণে জিটিসি এক শিফটে আসতে বাধ্য হয়েছে। তারা এই সমস্যার কারণে প্রায় ৫ শত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে কর্মবিরতি রেখেছেন। খনির কার্যক্রম আবার তিন শিফটে চালু হলে পুনরায় সকল শ্রমিককে স্ব-স্ব পদে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে কতদিন পরে ওই দুই শিফট চালু করা হবে তা নির্ভর করছে খনি কর্তৃপক্ষ বা এমজিএমসিএল এর বিদেশি প্রয়োজনীয় মাইনিং ইকুইপমেন্ট বা যন্ত্রপাতি সরবরাহের উপর।
জিটিসি কর্তৃপক্ষ জানান, খনির শ্রমিকদের বাইরের কোনো প্রপাগান্ডা বা প্রচারনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য এবং পুনরায় চাকুরীতে ফিরে আসার জন্য কারো সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন না করতে সকল শ্রমিককে অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) দীর্ঘ প্রায় ১ যুগ ধরে খনির উন্নয়ন কাজের পর ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিক ভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করে। সরকার খনিটির লোকসান কাটিয়ে এটিকে লাভজনক করতে বেসরকারি খাতে খনির উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষনাবেক্ষনের জন্য গত ২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ইং তারিখে ৬ বছরের জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া কর্পোরেশন ও বেলারুশ সরকারের জেএসসি ট্রেষ্ট সকটোস্ট্রয় নিয়ে গঠিত জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এর সাথে চুক্তি করে।
চট্টগ্রামে ত্রিপুরা তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর এক তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (সীতাকুন্ড মডেল থানা) সাইফুল ইসলাম জানান, গতকাল শুক্রবার ভোরে সীতাকুন্ড উপজেলার ছোট কুমিরার গুল আহম্মদ ঝুট মিলের পেছনে একটি পাহাড়ে এঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ওই তরুণীকে রাতে বাসা থেকে তুলে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে একদল যুবক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই ঘটনায় ধর্ষিত ওই তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মনিন্দ্র ত্রিপুরা (২৩) ও যতীন্দ্র ত্রিপুরা (২২) নামে দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন বলে জানান সীতাকুন্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com