মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

থমকে আছে প্রাথমিক বিদ্যালয় দৃষ্টিনন্দনের প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মামলা জটিলতা, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিসহ নানা কারণে ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো দৃষ্টিনন্দনের কাজ থমকে আছে। এ সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণের দেড় বছরের অধিক সময় পার হলেও একটি বিদ্যালয়কেও শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। যদিও রাজধানীর ছয়টি বিদ্যালয়ের জন্য ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে। সেটি চূড়ান্ত হলে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) সংশ্লিষ্টরা।

ডিপিই থেকে জানা যায়, রাজধানীর সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ওই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে নানা রঙ দিয়ে লেখা থাকবে বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা। থাকবে সচেতনতামূলক কার্টুন সিরিজের কাল্পনিক চরিত্র মীনা, মিতু ও রাজুর ছবি। গাণিতিক নানা প্রতীকের পাশাপাশি দেয়ালে দেয়ালে আঁকা হবে দেশবরেণ্য লেখক ও মনীষীদের ছবিও।

কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগরের ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুনভাবে সাজানো হবে।পূর্বাচলে ১১টি এবং উত্তরায় তিনটিসহ মোট ১৪টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এক হাজার ১৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর।

কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে একজন প্রকল্প পরিচালকসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যদিও পাঁচ বছরের মধ্যে দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পাঁচ শতাংশ কাজও হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার প্রায় ৩১টি সরকারি বিদ্যালয় দখলদারদের কবলে রয়েছে। এসব বিদ্যালয় উদ্ধারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে আইনি লড়াই চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে দুই-তিনটি বিদ্যালয় উদ্ধার করা গেলেও বাকিগুলো এখনো বেহাতই রয়েছে। এছাড়া সিদ্ধান্ত নিতে সময়ক্ষেপণও প্রকল্পে অগ্রগতি দৃশ্যমান করছে না। তবে মূলত করোনা পরিস্থিতির কারণেই প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে ডিপিইর অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ  বলেন, বিদ্যালয়ে কোন ধরনের ডিজাইন হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লেগেছে। বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের ছয়টি বিদ্যালয়ের ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে। সেসব ডিজাইন অনুমোদন হলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজ শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, একেকটি বিদ্যালয়ে একেক ধরনের সমস্যা রয়েছে। কোথাও নতুন ভবন তৈরি, কোথাও বিভিন্ন ধরনের সংস্কার কাজ প্রয়োজন হবে। তাই সেসব বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজের গতি কিছুটা কমে গেছে। তার ওপর অনেক বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় সেখানে কোনো ধরনের কাজ করা যাচ্ছে না।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দৃষ্টিনন্দন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় দৃষ্টিনন্দন করা হবে। রাজধানীর যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ বা আধুনিক করার সুযোগ নেই, সেগুলোকে কাছাকাছি কোনো বড় পরিসরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হবে। সব বিদ্যালয়ে তৈরি করা হবে খেলার মাঠ। প্রতিটি বিদ্যালয়কেই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়া হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর ১৫৪টি বিদ্যালয়ের দুই হাজার ৯৭৫টি কক্ষ নতুনভাবে নির্মাণ ও দৃষ্টিনন্দন করা হবে। আর ১৭৭টি বিদ্যালয়ের এক হাজার ১৬৭টি কক্ষের অবকাঠামো উন্নয়নসহ সৌন্দর্য বাড়ানো হবে। প্রকল্পের আওতায় মোট দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য শিশুবান্ধব শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৪ হাজার ১১২টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে রয়েছে ৩৪২টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬ হাজার ১০৬টি ভবন রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া অস্বস্তিকর পরিবেশে ৩৯ হাজার ৬১৪টি জরাজীর্ণ ভবনে লেখাপড়া করছে শিশুরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালের আগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনগুলোর অবকাঠামো মাত্র ৪৭ শতাংশ ভালো পর্যায়ে রয়েছে। মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে ২৩ শতাংশ ভবন। আর খারাপ পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তবে ২৩ শতাংশ বিদ্যালয়ের অবস্থা একেবারেই নাজুক। সেমি-পাকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ ভবন ভালো আছে। প্রায় ১৮ শতাংশ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো মাঝামাঝি মানের। আর সেমি-পাকা ৫৪ শতাংশ বিদ্যালয় একেবারেই ব্যবহারের অযোগ্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন  বলেন, রাজধানী ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় দৃষ্টিনন্দন করতে ডিজাইন তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য সময়ের প্রয়োজন। তার ওপরে অনেক বিদ্যালয় নিয়ে মামলা থাকায় জটিলতা তৈরি হলেও আমরা তার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com