বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ১০:২০ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

পুলিশ দেখলেই দোকান বন্ধ কইরা দিমু’

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাত ৮টার পর বন্ধ হচ্ছে বেশিরভাগ দোকান, কমছে কামাই-রোজগার। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে তোলা ছবি

নিউমার্কেটের পাশের গলিতে বসে ফল ও মসলা বিক্রি করেন লিটন ৷ সোমবার থেকে রাত ৮টার পর যেসব দোকান বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই ফল-মসলার দোকানটিও এর আওতায় পড়ে। তবে মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটেও দোকানটি খোলা রাখতে দেখা যায়। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে লিটন  বলেন, ‘পুলিশ এহনও আহে নাই, পুলিশ দেখলেই দোকান বন্ধ কইরা দিমু৷ গতকাল ঠিক ৮টায় পুলিশ আইছিলো ৷ কইছে দোকান খোলা রাখলেই জরিমানা করবো ৷ আমাগো জন্য একটু ছাড় আছে৷ বুঝেন তো, সারাদিন গরমে আর সূর্যের তাপে এসব ফলমূল জাতীয় মাল (পণ্য) গরম হয়ে যায়, একটু রাত না হলে গরম ভাপটা যায় না। মালামাল নষ্ট হইয়া যাইবো, হেই কারণেই দোকান একটু দেরিতে বন্ধ করি৷’

তবে আগেভাগে দোকান বন্ধ করার সরকারি এ সিদ্ধান্তে এবার পরিবারকে কিছুটা সময় দেওয়ার সুযোগ হবে তার। এ কারণে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন লিটন। তিনি বলেন, ‘সবাই তো জাইন্যা গ্যাছে ৮টার পর কিছু পাওন যাইবো না৷ যার যা দরকার ৮টার আগেই কিন্যা নিয়া যাইবো ৷ টাইম কমানোয় ভালা হইছে। এহন ঘরে গিয়া বৌ-বাচ্চাগো সময় দিতে পারমু৷’

গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকের সই করা এক চিঠিতে রাত ৮টার পর সারাদেশে দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অন্য সব পেশার মানুষদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৷ দোকান মালিকেরা ব্যবসায় কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা করলেও কর্মচারীরা এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন৷ দোকান কর্মচারীদের অনেকে বলছেন, সকাল ৮টায় কাজ শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের কাজ করতে হতো। শরীরের ওপর দিয়ে খাটুনি যেতো অনেক। পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগও মিলতো না ঠিকভাবে। সরকারের এ ঘোষণায় এখন তারা আগেভাগে বাসায় ফিরতে পারবেন। ঘরে কিছুটা সময় কাটাতে পারবেন।

তবে রাত ৮টার পর শপিংমল ও এর আশপাশে লোকসমাগম কমে যাওয়ায় অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালক ও ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা। ঈদ সামনে রেখে তারা আয়-উপার্জনে ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন৷

নিউমার্কেট এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক আজগর মিয়ার সঙ্গে ৷ তিনি  বলেন, ‘মাগরিবের নামাজ শেষ করতে করতে সাড়ে ৭টা বাজে৷ এরপর এক খ্যাপ দেওয়ার পর আর সড়কে আর লোকজনই পাইতাছি না। কামাই রোজগার কইম্যা গ্যাছে ৷ দ্যাহেন না, আশপাশে লোকজন নাই৷ এই কামাই দিয়া বাড়িতে কী দিমু নিজে কী খামু? জিনিসপত্রের দামও বাড়তি! আমাগো মতো গরিবের ক্ষতি হইয়া গ্যাছে৷’

নিউমার্কেট ওভারব্রিজের নিচে জুতা, স্যান্ডেলের ভাসমান বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিক্রি কম হবে৷ আমাদের তো বিকেল থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত বিক্রি বেশি হয়৷ দিনের বেলায় রোদের মধ্যে কাস্টমার তেমন একটা আসতে চায় না৷ আগে দিনে পাঁচ-ছয় হাজার বিক্রি হতো ৷ এখন অর্ধেক হচ্ছে।

পাশের গলিতেই বেল্টের দোকানি শিপনও জানিয়েছেন বেচাকেনা কমে যাওয়ার কথা। তিনি বলেন, কেনাবেচা আগের চাইতে কম৷ আগে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে পারতাম। এখন তো ৮টা বাজতেই বন্ধ করতে হচ্ছে। এমনিতেই সব জিনিসের দাম বাড়তি, তার ওপর কামাই রোজাগার কমে গেলে চলাই কঠিন হবে। আগে দিনে চার-পাঁচ হাজার টাকার বেচাকেনা হতো, এখন তা অর্ধেকে নেমেছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে কেউ কেউ সন্তোষ প্রকাশ করলেও কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্রমত চাকুরিজীবীরা৷ তেমনই একজন আল-আমিন হোসেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এ চাকুরিজীবী  বলেন, আমাদের অফিস শেষ হয় রাত ৮টায়৷ এখন অফিস শেষে পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটার প্রয়োজন হলে সেটির আর সুযোগ থাকছে না ৷ সরকার যদি মনিটরিং করে সন্ধ্যা ৬টা বা ৭টার মধ্যে অফিস বন্ধের ব্যবস্থা করতো তাহলে সবকিছু একটা শৃঙ্খলায় আসতো৷ তা না হলে আমাদের মতো চাকুরিজীবীদের জন্য একটু ভোগান্তিই হবে৷

গত রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬’-এর ১৪৪ ধারার বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ইস্যুতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। সিদ্ধান্ত মোতাবেক, কেবল পচনশীল পণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া সোমবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে সব ধরনের দোকানপাট রাত ৮টার পর বন্ধ রাখার ঘোষণা আসে।

রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com