রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

বিএনপির বৃহত্তর ঐক্যের সুর, বাস্তবতা বহুদূর!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী একটি বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা চালিয়েছিল বিএনপি। পুরোপুরি সফল না হলেও গণফোরাম, জেএসডি, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্য নিয়ে নির্বাচনের মাত্র আড়াই মাস আগে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গড়ে তুলতেও সক্ষম হয় দলটি। যদিও এজাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে দীর্ঘদিনের মিত্রদের সঙ্গে দলটির ভুল বোঝাবুঝিও হয়। যার জেরে ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে জোটের দুই শরিক। ওই নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ফলাফলের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট দুটিই কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও প্রায় চলে এসেছে। ফলে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে নতুন করে বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়ে ‘সিরিয়াস’ হয়ে উঠেছে বিএনপির হাইকমান্ড।

বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। এই প্রক্রিয়ায় সৎ ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে তাদের দিয়ে টিম গঠন করতে হবে। বৃহত্তর ঐক্য অবশ্যই হচ্ছে।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগবিরোধী সবগুলো রাজনৈতিক দলকে একত্রিত করতে চায় বিএনপি। এজন্য বাম-ডানসহ সব দলকে নিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়তে তৎপরতা চলছে দলটির ভেতরে। একসঙ্গে আন্দোলন, সংসদ ভেঙে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনের আমূল সংস্কার আনাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগও শুরু হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে তাদের অধিকাংশ দলই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার শর্তে ঐক্যের বিষয়ে রাজি বলে জানিয়েছে। ফলে নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জামায়াতকে ‘বাধা’ মনে করছে বিএনপি। বৃহত্তর জোট গঠনের প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ নিয়ে বিএনপিতে চলছে নানা আলোচনা। দলের অধিকাংশ নীতিনির্ধারক মনে করেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জামায়াত এখন বিএনপির বোঝা।

দলীয় সূত্র জানায়, বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক এবং এর বাইরে যেসব দল আছে তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমানের কারণে ২০ দলীয় জোট ত্যাগকারী দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে।

বিএনপির সঙ্গে থাকা দুই জোটকে স্বতন্ত্র রেখে, নাকি একসঙ্গে সব দল মিলে বৃহত্তর ঐক্যে হবে এমন প্রশ্ন নিয়েও দলের মধ্যে রয়েছে নানা আলোচনা। জামায়াত ২০ দলীয় জোটে আছে। তাদের ব্যাপারে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিএনপি। কৌশলের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘদিন কোনো কর্মসূচিতে যায়নি বিএনপি। এ থেকে ধারণা করা যায়, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

বিএনপি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারবিরোধী একটি সর্বদলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাইরে থাকা সরকারবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি’ আদায়ে সক্রিয় কর্মসূচিতে যেতে। ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (খালেকুজ্জামান), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ গুরুত্বপূর্ণ বাম দল এবং কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দলকেও যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

একটি সূত্রের দাবি, বিএনপি যদি তাদের জোট শরিক জামায়াতকে না ছাড়ে, তাহলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে ওঠা সম্ভব না-ও হতে পারে। বিএনপি শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই অনেক আগে থেকেই বিএনপিকে বলেছেন জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের জন্য। কিন্তু বিএনপি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

তারা মনে করেন, দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তায় বিএনপি এক ধরনের আস্থাহীনতায় ভুগছে। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেই বৃহত্তর ঐক্য গঠন বিএনপির জন্য খুব সহজ হবে। নতুন এ উদ্যোগ সফল হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট ভেঙে দেয়ার ঘোষণা আসতে পারে এবং একটি বৃহত্তর সর্বদলীয় ঐক্য গড়ে উঠতে পারে।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, বর্তমানে তারেক রহমানই দলের একচ্ছত্র নেতা। তিনি সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দেবেন। জামায়াতের সঙ্গে দল সম্পর্ক রাখবে কি রাখবে না, সে বিষয়ে তাকেই সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ‘ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের একটি প্রস্তাব বা রূপরেখা ইতোমধ্যে তৈরি করেছে দলটি। প্রস্তাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একসঙ্গে আন্দোলন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনের আমূল সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এখন এ নিয়ে সবগুলো বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে রূপরেখা সংযোজন-বিয়োজন করে চূড়ান্ত করা হবে।’

বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য প্রসঙ্গে দলটির তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন  বলেন, ‘সব মতের মানুষের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ বৃহত্তর ঐক্য হবে।’

জামায়াত বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ায় বাধা কি-না সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি সেটা হয় তা গুরুত্ব দিয়ে দলের ভাবা উচিত।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার বলেন, ‘বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। এ প্রক্রিয়ায় সৎ ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে তাদের দিয়ে টিম গঠন করতে হবে।’

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘বৃহত্তর ঐক্য অবশ্যই হচ্ছে। বৃহত্তর ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম যেটা, সেখানে দাঁড়ানো যাচ্ছে না এই ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে। সরকার কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম করতে দিচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমগ্র মানুষের মানসিক ঐক্য হয়ে গেছে। এখন যদি সুষ্ঠু পরিবেশ থাকত, সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তাহলে বিএনপির ঐক্য পরিমাপ করা যেত।’

বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি দলের ক্ষুদ্র একজন কর্মী, নীতিনির্ধারণী ফোরামের কেউ নই, আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘ঐক্যের কথা বলা হচ্ছে। জাতি ঐক্যবদ্ধ হলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হবে। আমরা ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা ঐক্যে আছি। সারাদেশে ঐক্য হবে।’

ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী কোনো বাধা কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছি, এখনও প্রক্রিয়া শুরু করিনি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com