মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

বোনের জন্য ঈদের সেমাই-চিনি কিনে রেখেছিলেন মুরসালিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“মোক বাজান ফোন দিছিল ঘটনার তিনদিন আগত। মক কইছে, ‘মা, মুই বইনের জন্যি সেমাই-চিনি কিনিছু। মুই ঈদত বাড়ি গেইলে বইনের শ্বশুরবাড়িত যাই সেমাই-চিনি দিতে আসিম। তুই চিন্তা করিস না’।”

কথাগুলো বলছিলেন আর মূর্ছা যাচ্ছিলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুড বেভারেজ কোম্পানিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুরসালিন ইসলামের মা মোকসেদা খাতুন।

নিহত মুরসালিন ইসলাম (২২) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুকদেবপুর গ্রামের আনিসুর রহমান ও মোকসেদা খাতুনের ছেলে।

দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় ছিলেন মুরসালিন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একই উপজেলার গরিবের বাজার এলাকায় তার বোনের বিয়ে হয়।

বাবা আনিসুর রহমান বিলাপ করছিলেন আর বলছিলেন, “ঘটনার আগের দিন মোর মোবাইলত সাড়ে চার হাজার টেহা পাঠাইছিল। টেহা পাঠাই মোক ফোন দিক কইছে, ‘বাবা, বইনের বিয়ার সময় মুই বইটারে কিছুই দিবার পারু নাই। তোমার মোবাইলত মুই সাড়ে চার হাজার টেহা পাঠাইনু। ওই টেহা দিয়া বইনের জন্যি কাপড় কিনি দিস’। এটাই বাজানের সাথত মোর শেষ কথা। তারপরে বেটাটার মারা যাওয়ার খবর পানু।”

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন বিকালত মোক মোর শালা জুয়েল ফোন করি ঘটনা জানাইল। বেটাটা জীবন বাঁচাবার তনে তিনতলা ছাদ থাকি লাফ দিছে। রাইত ছেলে খান মইরে গেইল। মোর বুক খান খালি হই গেইল। মোর মতন বহু বাবা-মার বুক খালি হই গেইল। কেনে ওরা গেইটত তালা মারিল। মুই কারখানার মালিকসহ এই ঘটনার জড়িত সকলের শাস্তি চাও।’

একই কারখানায় চাকরি করেন নিহত মুরসালিন ইসলামের মামা জুয়েল। তিনি জানান, ঘটনার দিন মুরসালিনের ডিউটি ছিল সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। আর তার ডিউটি ছিল রাত ১০টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। সে কারণে তিনি বেঁচে গেছেন। কিন্তু মুরসালিনের মৃত্যু হলো।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদেহের জন্য ঢামেক মর্গের সামনে অপেক্ষা করছিলেন জুয়েল। ময়নাতদন্ত হলে মরদেহ বুঝিয়ে দেয়া হবে। তখন তিনি মরদেহ নিয়ে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুড বেভারেজ কোম্পানিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই মৃত্যুর তালিকায় নাম রয়েছে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার মুরসালিন ইসলামের।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com