রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

রাজশাহী মেডিকেলে আরও ১৮ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে আটজন ও উপসর্গে ১০ জন মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকালে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বুধবার (৭ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রামেক হাসপাতাল করোনা ইউনিটের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১৮ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে পুরুষ ১৪ জন ও নারী চারজন। মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৩৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।

 

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জন মৃতদের মধ্যে রাজশাহী জেলারই নয়জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইজন, নাটোর দুইজন, নওগাঁর তিনজন, পাবনার একজন ও কুষ্টিয়ার একজন ছিলেন। করোনা সংক্রমণে মারা গেছেন রাজশাহীর চারজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন, পাবনার একজন, কুষ্টিয়ার একজন ও নওগাঁর একজন।

অন্যদিকে উপসর্গে মারা গেছেন রাজশাহীর পাঁচজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন, নওগাঁর দুইজন ও নাটোরের দুইজন। সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রোগীদের ভর্তি ও সংক্রমণের বিষয়ে রামেক পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেকে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৭০ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৮ জন। রামেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে ২০২ জন এবং সন্দেহভাজন ও উপসর্গ নিয়ে ২৮৩ জন ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রামেকে ৪৫৪টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিলেন ৪৮৫ জন।

 

এদিকে করোনা পরীক্ষার বিষয়ে রামেকের পরিচালক শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালের পিসিআর মেশিনে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় ২৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। অন্যদিকে মেডিকেল কলেজের পিসিআর মেশিনে ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৩ জন করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

দুই ল্যাবের টেস্টে মোট ৫৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৪১ জনের করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

 

লিপন আরও বলেন, ‘গত দেড় বছরে করোনাভাইরাস মহামারি ও টানা লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত নানা পেশার শ্রমিক এবং কর্মহীন, বেকার ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। মহামারিতে নতুন করে আরও আড়াই কোটি মানুষসহ দেশের ৫০ ভাগের ওপর মানুষ যখন দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে, তখন লাখ লাখ রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন চালককে বেকার ও কর্মহীন করার চক্রান্ত চলছে। এই যান একেবারে বন্ধ না করে নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ যান্ত্রিক যানবাহনের লাইসেন্স দিতে হবে।’

২০১৫ সালের ১ আগস্ট ২২টি জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে মালিক-শ্রমিকদের প্রতিবাদে মহাসড়কে নৈরাজ্য দেখা দেয়। ২০১৭ সালে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন অলি-গলিতে এখনও চলে এই ব্যাটারিচালিত রিকশা। সর্বশেষ ২০ জুন ফের এ ধরনের যানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেল সরকার।

ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ১৩ হাজার মোটরচালিত রিকশা ও ভ্যান ধ্বংস করা হয়েছে। ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। এ যানগুলো যেন নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বের হতে না পারে বা হাইওয়ে, বড় রাস্তায় না আসতে পারে সেজন্য তদারকি চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com