রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৬:১১ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

চেক ভাঙাতে ব্যাংকে তিনজন, গুনলেন জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাকির থাকেন রমনা এলাকায়। চলমান লকডাউনের মধ্যেই সঙ্গে তিনজনকে নিয়ে সকালে গিয়েছিলেন ধানমন্ডির ন্যাশনাল ব্যাংকে। কিন্তু ফেরার পথে শাহবাগে তাকে আটকে দেয় র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। যথোপযুক্ত কারণ মনে না হওয়ায় তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

লকডাউনের ষষ্ঠদিনে মঙ্গলবার (৬ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টা থেকে শাহবাগ মোড়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে র‍্যাব।

অভিযোগ করে জাকির বলেন, ‘করোনায় তো ব্যাংক খোলা। জরুরি লেনদেনের জন্যই গিয়েছিলাম ব্যাংকে। এরপরও জরিমানা গুনতে হলো।’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘জরুরি লেনদেনের জন্য তিনি অবশ্যই যেতে পারবেন। তবে তিনি যেটা করেছেন এক চেকের টাকা উত্তোলনের কথা বলে তিনজনকে নিয়ে বের হয়েছিলেন, যা এই মুহূর্তে অগ্রহণযোগ্য।’

সরেজমিনে দেখা যায়, অন্যদিনের তুলনায় শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বেড়েছে। প্রতিটি রিকশাসহ অন্যসব যানবাহনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানেই অধিকাংশ মানুষই ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন।

অহেতুক জরিমানার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

এমনই একজন প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি মেডিসিন ব্যবসায় জড়িত। ঢাকার নবাবগঞ্জ ও মোহাম্মদপুরে তার ওষুধের দোকান।

তিনি বলেন, ‘আমার দুই ভাই দুবাই থাকে। তারা কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছে। শিগগিরই ওরা আবার দুবাই ব্যাক করবে। ওদের ভ্যাকসিন দরকার। কিন্তু ওরা ঢাকা শহরে অনেক কিছু জানে না বলে আমি একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে ওদের নিয়ে এসেছিলাম রমনা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য। সেখান থেকে ফেরার পথে শাহবাগে মোবাইল কোর্ট আমাদের আটকায় এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তো জরুরি কাজেই বের হয়েছিলাম কিন্তু এভাবে জরিমানা করাটা অহেতুক, অকারণ।’

এ ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘ভ্যাকসিন যিনি নেবেন তিনি খোঁজ খবর নিয়েই এ সময় উচিত ঘর থেকে বের হওয়া। কিন্তু তারা এক গাড়িতে চারজন এসেছেন তাদের দুজনের ভ্যাকসিন প্রয়োজন নেই। সেজন্য একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।’

একরকম আরও ৭-৮ জন রিকশাযাত্রীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। যারা অপরিচিতদের সাথে রিকশা শেয়ারে ভাড়ায় উঠেছেন। অনেকে জরুরি সেবার নাম করে বের হয়েছেন যদিও তারা জরুরি সেবার কাগজপত্র কিংবা আইডি কার্ড দেখাতে পারেননি।

চলমান ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘আগের চেয়ে মানুষের চলাচল কমেছে। জরুরি ছাড়া খুব কম মানুষই বের হচ্ছেন। তবে যথোপযুক্ত জবাব ছাড়া কাউকে পার হতে দেয়া হচ্ছে না। যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া যারাই বের হচ্ছেন তাদের জরিমানাসহ আইনানুগ পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘কারা বের হতে পারবেন কারা পারবেন না তা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে। এর আওতায় না পড়লে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছি। যারা করোনার বিধি-নিষেধ মানছে না তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর হুঁশিয়ারি। করোনায় ঘরে থাকুন, মাস্ক পরুন, অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বের হবেন না।’

জরিমানার শিকার ব্যক্তিদের অজুহাত সম্পর্কে জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘কেউ স্টেডিয়ামে খেলার সরঞ্জাম কিনতে, কেউ পুরান ঢাকায় কেনাকাটা করতে, আবার এক চেক ভাঙাতে ব্যাংকে যাচ্ছেন একসঙ্গে তিনজন। এজন্য জরিমানা করা হয়েছে।’

এক শাহবাগে চার চেকপোস্ট

বারডেম হাসপাতালের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে র‍্যাব। তার সামনেই পূবালী ব্যাংকের নিচে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করতে দেখা যায় সেনাবাহিনীকে। আধাঘণ্টা চেকপোস্ট পরিচালনা শেষে তারা চলে গেলে সেখানে আসে বিজিবি। তারাও আধাঘণ্টা চেকপোস্ট পরিচালনা শেষে চলে যায়। এ সময় দুই বাহিনীকেই বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গাড়ি আটকে কারণ জানকে চাওয়া হয়। যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া বের হওয়া বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com