মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

বানারীপাড়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

মো. সুজন মোল্লা,বানারীপাড়া (বরিশাল)প্রািতনিধি: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. মন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবসীর অভিযোগের যেন শেষ নেই। ১৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর থেকেই নিজ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে জনসাধারণের সাখে এক প্রকার প্রতারণা করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক স্থানীয়রা অভিযোগ করেণ।

তারা মো. মন্টু মিয়ার করা উন্নয়ন কাজের (পুলের) কয়েকটি চিত্রও দেখান। যেগুলো নির্মাণ করার ১ বছরের মধ্যেই নাকি বেহাল অবস্থায় পতিত হয়েছে। বর্তমানে ধ্বসে পড়া ওই পুল গুলোর একাংশে সুপারি গাছের পাইলিং দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন এলাকাবাসী। আবার একটি পুল রাস্তা থেকে খালের মধ্যে প্রায় দেড়ফুট সরে গিয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও উত্তর পশ্চিম মলুহার বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে যাবার পুলটি গত বছর একটি বরযাত্রীবাহী ট্রলারের ধাক্কায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বসে খালের মধ্যে পড়ে যায়।

পরে ওই বরযাত্রীদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা রাখা হয়। ওই টাকা মো. মন্টু মিয়ার কাছে জমা ছিলো। পুল ধ্বসে পড়ার পরে স্থানীয়রা বার বার বলার পরেও ওই ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করায়, মসজিদের মুসল্লী এবং স্থানীয় তালতলা বাজারের দোকানীরা সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতেন। এরপরে ইউপি সদস্য মন্টু মিয়া ধ্বসে পড়া পুলের পাশে কাঠ দিয়ে একটি পুল তৈরি করে দেন।

সেটিরও বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। চান্দেরহাট জামে মসজিদের পাশের পুলটিরও অবস্থাও বেহাল। এই পুল গুলো নির্মাণে ইউপি সদস্য মো. মন্টু মিয়া ঠিকাদার ছিলেন বলে জানান এলাকবাসী। তারা আরও জানান, মন্টু মিয়া যে পুল গুলো নির্মাণে ঠিকাদারী করেছেন সেগুলোতে এক দেড় বছরের মাথায় গিয়ে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। মন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেণ এনিয়ে কথা বললে তার নিজস্ব কিছু লোক রয়েছে তারা গ্রামবাসীকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেয়। তাই ভয়ে তারা প্রতিবাদ করতে পারেন না।

অপরদিকে ইউলুহার ইউনিয়নের পবনেরহাট বাজার লাগোয়া আয়রণ ব্রিজটি কিছু মাস আগে খালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ধ্বসে পরে। পরে ওই ব্রিজের লোহার সামগ্রী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সেমতে ইউপি চেয়ারম্যান ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মন্টু মিয়াকে খাল থেকে লোহার সামগ্রী উঠিয়ে পরিষদে রাখতে বলেন। তবে মন্টু মিয়া ব্রিজের লোহার মালামাল পরিষদে না নিয়ে পবনেরহাট বাজারের শাহিনের ওর্য়াকশপে নিয়ে গেলে স্থানীয়দের চোখে পরে। তাদের কাছে মন্টু মিয়া বলেন, এগুলো দিয়ে অন্যকোন ব্রিজের কাজ করা হবে, তাই এখানে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইলুহার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিন্টু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ব্রিজ গুলোর ব্যপারে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, সেগুলো ৪/৫ বছর আগের করা। এখন সামান্য ক্ষতি হতে পারে। তবে সেগুলো অচিরেই মেরামত করে দেয়া হবে। আর আয়রণ ব্রিজের লোহার ব্যপারে জানান, অন্য একটি পুল করতে তিনি ৪টি ভিম ও কিছু এ্যাঙ্গেল নিয়েছিলেন, তবে সেগুলো পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com