শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১৭ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

মহাদেবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত

আইনুল ইসলাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতায় সৃষ্টি হয়েছে নানা সমস্যার।তৎকালীন জমিদার পরিবারের সন্তান রামগোপাল রায় চৌধুরীর পুত্র শিক্ষানুরাগী ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় চৌধুরীর দান করা ৪৩ শতক জমিতে ১৯৪৭ সালে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। ভালো ফলাফল ও পড়ালেখায় বিদ্যালয়টির বেশ সুনাম রয়েছে।

এক সময় সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত থাকত বিদ্যালয় অঙ্গন। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪শ ৯২ জন। আজও সুনামের সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে। ১২ জন শিক্ষক/শিক্ষিকা দ্বারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়ে থাকে। ২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে ১৯ জন ট্যালেন্টপূল এবং ২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে। ২০১৯ সালে ১৩ জন ট্যালেন্টপূল বৃত্তি লাভ করে। ফলে অনেক সচেতন অভিভাবক তাদের সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করে থাকেন।

কিন্তু শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতায় শিশু শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে পাঠদান করানো হয়ে থাকে। উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থানের পরও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে জরাজীর্ণ টিনশেডের ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নির্মিত আধাপাকা ৬টি রুমের মধ্যে ৩টি ভেঙে ইউআরসি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু অংশ ভেঙে বাথরুম নির্মাণ করা হলেও অবশিষ্ট ২ রুম অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যা যেকোনো সময় ভেঙে ছাত্রছাত্রীদের প্রাণহানিসহ বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন সচেতন মহল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীর তুলনায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো কম হওয়ায় সুষ্ঠ পাঠদান ব্যহত হয়। সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী এ বিদ্যালয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর জোর দাবী জানান।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সোবহান জানান, শ্রেণি কক্ষের স্বল্পতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বৈরি পরিবেশে বাধ্য হয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাকালীন ভবনের রুমগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ভবনটি ভেঙে পড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষতি সাধন হতে পারে।

তাই ভবনটি ভেঙে সেখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা একান্ত জরুরী। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবক সঞ্জয় মুখার্জী জানান, ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়ের পশ্চিমপাশে ৩ রুম বিশিষ্ট টিনসেডের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। সেটিও অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেটিও অপসারণ অথবা মেরামত করা জরুরী।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ রবিউল আলম জানান, বিদ্যালয়টি মহাদেবপুর উপজেলার একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এখানে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়টিতে নতুন ৪ তলা ভবন নির্মাণ করে সমস্যা সমাধানের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি। মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ড সদস্য কাজী ফেরদৌস জানান, ১৯৪৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেই সময়ে নির্মিত আধাপাকা ৬টি কক্ষে পাঠদান চলে আসছিলো। ১৯৯১ সালে তিন রুম বিশিষ্ট আধাপাকা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অতিস্বত্তর এ বিদ্যালয়ে ৪ তলা একটি ভবন নির্মাণ করে পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোসাঃ সাফিয়া আক্তার অপু বলেন, আমি সবেমাত্র এ উপজেলায় যোগদান করেছি। বিদ্যালয়টিতে আমার এখনও যাওয়া হয়নি, তবে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ, নতুন ভবন নির্মাণসহ যেসব প্রদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com