সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০২:৩২ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

নওগাঁর মহাদেবপুরে সবুজ মাঠে বাতাসে দোল খাচ্ছে আউশ ধানের শীষ বাম্পার ফলনের সম্ভবনায় কৃষকের মুখে হাসি

আইনুল ইসলাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। সোনা মাখা রোদে ধানের শীষের সোনালী সমারোহ বলে দিচ্ছে আউশ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা। এবার ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় এবং সরকারি প্রণোদনার বীজ ও সার পেয়ে কৃষকেরা অধিক জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, এবার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১৫ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে। সেখানে চাষাবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের চেয়ে ৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর বেশি জমি। আউশ ধান চাষে খরচ কম এবং ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এ উপজেলায় বাড়ছে আউশ চাষ। কৃষি বিভাগ থেকে প্রণোদনা হিসেবে এবার ১ হাজার ২০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি উন্নত জাতের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ২০ জন কৃষকের আউশ ধানের ক্ষেত প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। এ ধান চাষ করে কৃষকেরা একই জমিতে বছরে তিন ফসল উৎপাদন করতে পারছেন।

চলতি ইরি-বোরো ধান কাটার পর ধানের দাম বেশি পাওয়া ওইসব জমিতেই আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। আউশ ধান চাষে পানি সেচ দেওয়ার তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। সার ও কীটনাশক প্রয়োগও অন্যান্য ধান চাষের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কম খরচ হয়। তাই উৎপাদন খরচ অনেক কম পড়ে। আউশ ধানের চাহিদা ও বাজারে ভালো দাম থাকায় এ ধান উৎপাদনে কৃষকের উৎসাহ বেড়েছে। তাছাড়া আউশ ধান চাষ না করলে ওইসব জমির বেশিরভাগই পতিত পড়ে থাকে। আউশ ধান চাষ করার পরও ওইসব জমিতে আমন বা চিনি আতব ধানের চাষ করা হয়ে থাকে। ফলে একই জমিতে বছরে তিন ফসল উৎপাদন করে অধিক লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা।

সরোজমিনে উপজেলার রাইগাঁ, সারতা, গোসাইপুর, দাউল বারবাকপুর, হাসানপুর, আখেড়া, সিদ্দিকপুর, উত্তরগ্রাম, উত্তর আন্ধারকোঠা, চকরাজা, সরস্বতীপুর, চৌমাশিয়া, খোর্দনারায়ণপুর, হাটচকগৌরী, বাগাচারাসহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে সোনালী রোদে বাতাসে দোল খাচ্ছে আউশ ধানের শীষ। অনেক ক্ষেতে সবুজ শীষগুলো সোনালী রঙ ধরতে শুরু করেছে। উপজেলার রাইগাঁ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, সারতা গ্রামের ইমরান হোসেন, গোসাইপুর গ্রামের মোজাফফর রহমান, দাউল বারবাকপুর গ্রামের ইউনুসার রহমান, হাসানপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার, উত্তর আন্ধারকোঠা গ্রামের

মিন্টু রহমানসহ বেশ কিছু কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এবার ইরি- বোরো ধানের দাম ভালো পাওয়ায় অনেক স্বপ্ন নিয়ে অধিক জমিতে আউশ ধান রোপণ করেছেন। স্বরসতীপুর গ্রামের খাঁপাড়ার কৃষক আব্দুস ছাত্তার জানান, গত বছর ৪ বিঘা আউশ ধান লাগিয়েছিলেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ১৭ মণ করে ধান উৎপাদন হলেও সাড়ে ৫শ থেকে ৬০০ টাকায় ওইসব ধান বিক্রি করেছিলেন। তবে গত ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের শুরু থেকে প্রকার ভেদে ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে প্রতি মণ ধান কেনা- বেচা হওয়ায় এবং ইরি-বোরো ধানের নায্য মূল্য পাওয়ায় এ বছর ৬ বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছেন।
এবার আউশ মৌসুমের শুরু থেকেই অধিক উৎপাদনের লক্ষে বুকভরা আশা নিয়ে কৃষকেরা দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। এখন আউশ ধান চাষের শেষ মূহুর্ত্বের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় জানান, এবার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১৫ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে। সেখানে চাষাবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। গত বছর প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছিল। এবার গত বছরের তুলনায় ৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর বেশি জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষকেরা ইরি-বোরো ধানের মতো আউশ ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে আগামীতে এ উপজেলায় আউশ চাষে রেকর্ড সৃষ্টি হবে। তিনি আরো জানান, কৃষি বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। কৃষকরা যতক্ষণ ফসল ঘরে না তুলছেন ততক্ষণ কৃষি বিভাগ তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাবেন।

নওগাঁ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে নিজের লেখা ”হে স্বাধীনতা” কাব্যগ্রন্থ তুলে দিলেন কবি

আইনুল ইসলাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : স্বাধীনতা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন, সবচেয়ে গৌরবের, সবচেয়ে বেদনার। লাখো শহীদের রক্তে ভেজা, কত মা-বোনের আত্মত্যাগ আর নারী নির্যাতনের বিনিময়ে পাওয়া এ স্বাধীনতা, কত অশ্রু, কত আনন্দ-বেদনার রক্তকুসুমে গাঁথা বিজয়ের এই মাল্যখানি। “হে স্বাধীনতা” কাব্যগ্রন্থে ফুঁটে উঠেছে, কবে পাবে স্বাধীনতার অধিকার, কবে বন্ধ হবে সুদ, ঘুষ, দূর্নীতি, সংঘাত সহিংসতা, কবে থামবে

ঘাতকদের রক্ত রাঙানো চোখ, তোষামোদ, চাটুকার, মূখোশধারীদের দালালী, কবে দেশ প্রেমিকেরা জেগে উঠবে। হাহাকার আর হতাশার যন্ত্রনা নিয়ে ”হে স্বাধীনতা” কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন সাংবাদিক, কবি মো. আককাস আলী। দেশ বিদেশে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। তিনি দেশ বিদেশের বিখ্যাত বিখ্যাত লেখক, কবি ও পাঠকদের হাতে “হে স্বাধীনতা” কাব্যগ্রন্থটি তুলে দিয়েছেন।

১২ আগষ্ট বুধবার কবি নিজ হাতে তার লেখা এ কাব্যগন্থটি নওগাঁ জেলার প্রবীণ রাজনীতিবীদ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. ফজলে রাব্বি বকু ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ম. আব্দুল্লাহেল বাকীর হাতে তুলে দেন। এ সময় কবির সাথে উপস্থিত ছিলেন মহাদেবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আইনুল ইসলাম। কাব্যগন্থটি হাতে পেয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কবির ভূয়সী প্রসংশা করেন এবং লেখালেখি অব্যাহত রাখতে উৎসাহ প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com