শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

নওগাঁর মান্দায়  কাঁশোপাড়া ইউপি’ এবার ভূর্তূকির সার চুরি আটক-২ চেয়ারম্যান পলাতক

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে ভুর্তুকির সার কালোবাজারে বিক্রির সময় দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। গতকাল ০৯/০৮/২০২০ ইং রোজ রবিবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের ছোট চকচম্পক দাখিল মাদরাসা দোয়ানির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলো উক্ত উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্দারিয়াপাড়া গ্রামের মেহের আলী পিয়াদার ছেলে জুলহাজ ইসলাম ভোলা (৪০) ও নাপিতাপাড়া গ্রামের জয়েন উদ্দিন মৃধার ছেলে গোলাম মোস্তফা (৪১)।
স্থানীয়রা জানান, পাট অধিদপ্তরের ভুর্তুকির সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ না করে কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ভ্যানে করে ভোলা ও গোলাম মোস্তফা কালোবাজারে বিক্রির জন্য ছোটচকচম্পক মাদরাসা দোয়ানির মোড়ে নিয়ে গিয়ে মুদি দোকানি মোকলেছার রহমানের কাছে ৭শত টাকা বস্তা দামে, ৪ বস্তা সার ২৮ শত টাকায় বিক্রয় করে চলে যায়। এরপর সরকারী সারের বস্তা দেখে লোকজনের সন্দেহ হয়।
এরই মাঝে গোপনে সংবাদ পেয়ে সার চোরদেরকে ধরার জন্য সেখানে স্থানীয় লোকজন সহ উপস্থিত হয় ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন স্বপন। এরপর দোকান্দারের মাধ্যমে ফোন করে হাজির করে সার বিক্রয়কারী চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের সব সময় সাথে থাকা ভোলা ও গোলাম মোস্তফাকে। তাদের জিজ্ঞাসা করলে বলে, চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মোল্যা বিক্রয়ের জন্য পাঠিয়ে ছিলো এবং বিক্রয়ের ২৮ শত টাকা তাকে গিয়ে দিয়েছি আসলাম। এরপর চেয়ারম্যানকে ফোন দিলে, চেয়াম্যান সাইদুর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে সটকে পড়ে পালিয়ে যায়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হয়ে আটককৃতদের ও চেয়ারম্যানের বহিস্কার ও বিচারের  দাবি জানায়।
ভুর্তুকির সার কালোবাজারে বিক্রির সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম মান্দা থানা পুলিশ সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সঠিক বিচার করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আটককৃতদের পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ইউএনও আব্দুল হালিম বলেন, পাটচাষিদের মাঝে বিতরণের জন্য ভুর্তুকির সারগুলো কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হেফাজতে ছিল। সেখান থেকে সারগুলো কালোবাজারে বিক্রির জন্য কিভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে পাট অধিদপ্তরের সহকারী অফিসার মোঃ নাজমুল হোসেন জানান, ৬০ বস্তা সার ও ২০০কেজী পাটের বীজ ২০০ জন পাটচাষিদের দেওয়ার জন্য ইউ,পি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মোল্যাকে দেওয়া হয়েছে। কোন ভাবেই এগুলো সার বাহিরে বিক্রয়ের নির্দেশনা নেই। এরপরও চেয়ারম্যান কেন এমন কাজটি করলো তা আমদের বোধগম্যে আসছে না। এর সঠিক বিচার হবে বলে জানান। এ বিষয়ে পাট অধিদপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর কাঁশোপাড়া ইউ,পি চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর মোল্যা সহ ৩ জনকে আসামী করে মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করে।মান্দা থানার  তদন্ত অফিসার তারেকুর রহমান সরকার মোবাইল ফোনে জানান,
ঘটন স্থল থেকে দু,জন আসামীকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।চেয়ারম্যান সাইদুর মোল্যা পলাতক রয়েছে, তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com