বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

গাইবান্ধায় পানি বৃদ্ধি।। জেলা প্রশাসকের ত্রাণবিতরণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধায় বিভিন্ন নদ- নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদী’র পানি বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ রুপ ধারন ব্রহ্মপুত্র  ও তিস্তা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁ হুমকী’র মুখে
গত ২৪ ঘন্টায় গাইবান্ধার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ফুলছড়ি উপজেলার পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৫২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে। তিস্তা নদী’র ডানতীর বাধেঁর সুন্দরগঞ্জে বেলকা হইতে হরিপুর ঘাট ৫ কি:মি: বাধ হুমকী মুখে পড়েছে যেকোন মূহর্তে বাধঁ ভেঙ্গে ৩টি উপজেলা বন্যা কবলিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদী’র ডানতীরে ৭৮ কি:মি: বাধেঁর ৯টি পয়েন্টে হুমকির মুখে পড়েছে।
দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ২৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, করতোয়া ও যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙ্গনের ফলে বসতবাড়ি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া আবার নতুন করে দ্বিতীয় দফার বন্যায় বিভিন্ন ঘড় বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে উচু বাধঁ ও আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে।
এদিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন ও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মো: আবদুল মতিন। এসময় জেলা প্রশাসক ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ পরিদর্শন করেন। তিনি বালাসীঘাটের চারমাথা থেকে কাইয়ার হাট পর্যন্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং উপরে অবস্থানরত বানভাসী মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার তাৎক্ষনিক সমাধানের ব্যবস্থা করেন।
এরপর জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সৈয়দপুর এলাকায় বানভাসী মানুষদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে চাল, চিড়া, ডাল, চিনি, তেল, নুডুস, লবন সমৃদ্ধ প্যাকেট বিতরন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি.এম সেলিম পারভেজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেছুর রহমান, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া প্রমুখ।
গাইবান্ধায় মহাসড়কে সকল প্রকার পরিবহনে  চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা পুলিশের তৎপরতা 
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদা তুলতো বিভিন্ন শ্রমিক কল্যাণ সংগঠন। এসব
চাঁদাবাজী বন্ধে কঠোর হচ্ছে জেলা পুলিশ।
জেলার বিভিন্ন মহাসড়কে শ্রমিক কল্যাণ  নামে বিভিন্ন সংগঠন পরিবহন চাঁদা উত্তোলন করে আসছিল। চাঁদাবাজদের কারণে জেলার পরিবহন মালিক এবং পরিবহন শ্রমিকগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। কোনভাবেই এই চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছিলনা। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি দেওয়া হত। যানবাহনের প্রকৃতি অনুযায়ী ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হত। চাঁদা
দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি চলতে দেওয়া হতনা। এমনকি গাড়ির ক্ষতি সাধন করা হত। চাঁদার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল অনেক গ্রুপিং।
গাইবান্ধা জেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, আমার বাংলা বিদ্যাপীঠের সামনে, তুলিসীঘাট বাস স্টান্ড, ঢোলভাঙ্গা বাস স্টান্ড, সাদুল্যাপুর রোডের খানকাশরীফ এলাকা, কৃষি ইনিস্টিটিউটের সামনের রাস্তা, নিউ ব্রীজ এলাকা, সাঘাটা, বালাসী ঘাট, ফুলছড়ি কালির বাজার, সদর, জুমারবাড়ি, মেলানদহ ব্রীজ পয়েন্ট,  ঘাগটপার বালাসী রোড,পলাশবাড়ী বাস স্ট্যান্ড, কোমরপুর বাস স্টান্ড,  ধাপেরহাট বাস স্টান্ড, গোবিন্দগঞ্জ (উত্তর-দক্ষিন) বাস স্টান্ড, জোসনা ফিলিং স্টেশন (গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট রোড), পলাশবাড়ী ঘোড়াঘাট রোড, গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ রোড, সুন্দরগঞ্জ, বামনডাঙ্গা, নলডাঙ্গা স্টান্ড ইত্যাদি
এসব পয়েন্টে প্রত্যেকদিন দিন রাত চাঁদা তোলা হত সিএনজি, অটো, বাস, ট্রাক, লেগুনা, পিকআপ ভ্যান ইত্যাদি পরিবহন থেকে। অবশেষে
বাংলাদেশ পুলিশের আইকন ও গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ তৌহিদুল ইসলামের কঠোর  নির্দেশে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি হেডকোয়ার্টার্র) মোঃ আবু খায়ের এর মনিটরিং এ দীর্ঘদিনের পরিবহন চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়েছে।  ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কে যাতে কোন ধরনের পরিবহন চাঁদাবাজি কেউ করতে না পারে সেজন্য এখন থেকে নিয়মিত পুলিশী টহল দেওয়া হচ্ছে। বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। জেলা পুলিশের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জেলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
কেউ যদি পরিবহন চাঁদা আদায় করার চেষ্টা করে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যে কোন মুল্যে পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।
আসন্ন ঈদের সময় মহাসড়কের যানযট ও সড়ক দূর্ঘটনা থেকে সাধারণ মানুষ যাতে মুক্তি পায় সেজন্য জেলা পুলিশের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com