শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

নওগাঁর মহাদেবপুরে চলাচলের রাস্তা থেকে ধানের হাট সরিয়ে দেড় যুগের সমস্যা সমাধান করলেন ইউএনও মিজানুর রহমান

আইনুল ইসলাম : উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার হিসাবে খ্যাত নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন এলাকা জেলার মহাদেবপুর উপজেলা। আর এ উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় প্রায় ৪শ হাসকিং মিল আর প্রায় ৩০টি অটো রাইচ মিল। চাল উৎপাদন নির্ভর এ উপজেলায় ধানের কোন নির্ধারিত হাট নেই। তাই শনিবার আর বুধবার বক চত্ত্বর থেকে উপজেলা বাইপাস রাস্তার উপর হাট বসিয়ে ধান কেনা বেচা করে আসছিল। প্রায় দেড় যুগ ধরেই এ চলছিলো ধান কেনা বেচার হাট।

আর এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে হতো সাধারণ হাটুরেসহ উপজেলা প্রশাসনে কাজে আসা মানুষজনের। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় জনগনের ভোগান্তি নিরশনে হাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য সংবাদ প্রকাশ হয়। অবশেষে এ ভোগান্তির অবসান করলেন মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলন। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে ইউএনও মিজানুর রহমান মিলনের নিরন্তর প্রচেষ্টায় হাটটি সরিয়ে নেয়ায় এলাকার সব শ্রেণি পেশার মানুষের সাধুবাদ পাচ্ছেন তিনি ।

প্রতি শনিবার ও বুধবার এ দু’দিন সড়কের উপর ধানের হাট বসায় চরম বেকায়দায় পড়ে ধান বিক্রেতা সহ সাধারণন মানুষ। সড়কে যান চলাচল ব্যহত হয়। হাটবারে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মন ধান সকাল থেকে পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। আর এসব ধান বস্তায় প্যাকেট করে ভ্যান অথবা ট্রাকে করি সরিয়ে নিতে লেগে যায় সন্ধ্যা। ব্যবসায়ীদের সাথে একাধিকবার আলোচনা করে ধানের হাটটি অন্যত্র সরানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে বিগত দিনে। কিন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় এভাবেই চলে আসছিল পাকা রাস্তার উপর ধানের হাট। অবশেষে এ অবস্থার অবসান ঘটালেন

ইউএনও মো মিজানুর রহমান মিলন। গত জুন মাসের ২৬ তারিখে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে সড়কের উপর থেকে ধানের হাটটি উপজেলা প্রশাসনের ক্যাটিন চত্তরের ফাঁকা জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়। এতে শনিবার আর বুধবারের তীব্র জ্যাম দুর হয়েছে। এখন সড়কে আর কোন যানজট থাকছে না ।

মহাদেবপুর উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওসমান আলী বলেন, আমরা সব সময় ফাঁকা একটি জায়গা চেয়েছি যেখানে ধান কেনা বেচা করা যায়। তবে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলন যথেষ্ট আন্তরিক। তিনি বলেন, এখন সড়ক থেকে হাট সরিয়ে পাশের ফাঁকা জায়গা দিয়েছেন তিনি (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) এ কারণে ধান কেনা বেচায় স্বস্তি ফিরেছে।

মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ধলু বলেন, আমরা সব সময় চেয়েছি ধান কেনা বেচার জন্য ফাঁকা জায়গায় হাট বসানো হোক। অনেক চেষ্টা করেছি কিন্ত ব্যবসায়ীরা আন্তরিক ছিলেননা তাই এতদিন হাটটি সরানো সম্ভব হয়নি। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কাজটি করতে পেরেছেন এ জন্য তাঁকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান মিলন বলেন,

মহাদেবপুর বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ধানের হাট সরানো। আমি স্থানীয় চালকল মালিকদের সাথে কথা বলেছি। সড়কের জ্যাম দুর করে ক্রেতা বিক্রেতা যেন ভাল ভাবে ধান কেনা বেচা করতে পারে সে লক্ষ্য সড়ক থেকে হাট সরিয়ে আপাতত উপজেলা পরিষদের বামপাশে ফাঁকা জায়গায় করা হয়েছে। তবে চিন্তা করা হচ্ছে ধানের জন্য স্থায়ী কোন জায়গায় হাট বসানোর।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com