সোমবার, ০১ Jun ২০২০, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

করোনায় মৃত্যু দ্রুত বাড়ছে দেশে

জিটিবি নিউজঃ সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনাও দ্রুত বাড়ছে। মাঝে দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও চলতি সপ্তাহ থেকে সেটা আবার ঊর্ধ্বমুখী। বিশ্লেষকেরা বলছেন, তিন দিন ধরে দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুতে ‘ছোট লাফ’ দেখা যাচ্ছে।

দেশে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত (কোভিড-১৯) মোট ২৫০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ৫১ জন মারা গেছেন গত পাঁচ দিনে। মূলত সংক্রমণ শুরুর দশম সপ্তাহে এসে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনা দ্রুত বাড়া শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত দশম সপ্তাহের তিন দিনের প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা ১০-এর ওপরে ছিল, যা এর আগে দেখা যায়নি।

তিন দিন ধরে রোগী শনাক্তও হচ্ছে আগের তুলনায় বেশি। এই তিন দিনে ২ হাজার ৮৯০ রোগী শনাক্ত করা হয়। এ সময়ে প্রতিদিনই মোট নমুনা পরীক্ষার ১৪ শতাংশের বেশির মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহে এই হার ছিল ১০ দশমিক ৯৯ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

আক্রান্তের মতো মৃত্যুর ঘটনাও বেশি রাজধানী ও পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জে। মোট মৃত্যুর ৫৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ হয়েছে রাজধানীতে এবং ২২ শতাংশ নারায়ণগঞ্জে। তবে নারায়ণগঞ্জে সংক্রমণের তুলনায় মৃত্যুর হার বেশি।

৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের খবর জানা যায়। প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। এরপর দুই মাস ​পার হওয়ার আগেই মৃত্যুর সংখ্যা আড়াই শতে পৌঁছাল। এর মধ্যে সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, করোনায় মৃত্যুর প্রথম অর্ধশত ছাড়ায় ১৫ এপ্রিল, সংক্রমণ শনাক্তের ৩৯তম দিনে। মৃত্যু ৫০ থেকে ১০০ ছাড়াতে সময় লেগেছিল ৬ দিন। সাত দিনের ব্যবধানে ১৫০ ছাড়ায়। এরপর মৃত্যু ১৫০ থেকে ২০০ ছাড়াতে সময় লেগেছে ১১ দিন। আর ২০০ থেকে ২৫০ হয়েছে মাত্র ৫ দিনে।

সপ্তাহওয়ারি হিসাবে দেখা যাচ্ছে, মাঝখানে মৃত্যু কমে এলেও সংক্রমণের দশম সপ্তাহে এসে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের প্রথম সপ্তাহে (৮-১৪ মার্চ) কোনো মৃত্যুর ঘটনা ছিল না। দ্বিতীয় সপ্তাহে মারা যান ২ জন। তৃতীয় সপ্তাহে মৃত্যুর ঘটনা ছিল ৩টি। তারপরের সপ্তাহেও মারা গিয়েছিলেন ৩ জন। পঞ্চম সপ্তাহ থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। টানা তিন সপ্তাহ সেটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর মধ্যে পঞ্চম সপ্তাহে মারা যান ২২ জন। ষষ্ঠ সপ্তাহে ৫৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল। আর সপ্তম সপ্তাহে ছিল সবচেয়ে বেশি ৫৬টি মৃত্যুর ঘটনা। অষ্টম সপ্তাহে মৃত্যুর ঘটনা কমে এসেছিল, ওই সপ্তাহে মারা যান ৩৫ জন। নবম সপ্তাহ থেকে সেটা আবার বাড়তির দিকে। নবম সপ্তাহে মারা যান ৩৯ জন। আর ১০ মে শুরু হওয়া দশম সপ্তাহের প্রথম তিন দিনেই মারা গেছেন ৩৬ জন। দশম সপ্তাহের প্রথম তিন দিনই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪, ১১ ও ১১। এখন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা ১৫।

আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়াদের ৭৩ শতাংশই পুরুষ। আর নারী ২৭ শতাংশ। ৪২ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। বাকি ৫৮ শতাংশেরই বয়স ৬০-এর নিচে।

গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর হার কম। তবে ওই দুটি দেশে সংক্রমণ বাংলাদেশের চেয়ে আগে শুরু হয়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মৃত্যুর হার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। ফ্রান্সে ১৪ দশমিক ৯, যুক্তরাজ্যে ১৪ দশমিক ৫ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৬ শতাংশ।

মৃত্যু বেশি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে

শুরু থেকে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। দেশে মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি রাজধানীতে। এরপরই আছে নারায়ণগঞ্জ। একইভাবে মৃত্যুর ঘটনাও বেশি ঘটছে এই দুই জায়গায়। ৬ মে পর্যন্ত মৃত্যুর জেলাওয়ারি হিসাব প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই দিন পর্যন্ত দেশে মারা গিয়েছিল ১৮৬ জন। রাজধানীর বাইরে ২৫টি জেলায় মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়। তবে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বাইরে কোনো জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা চারজনের বেশি ছিল না। ৬ মে পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ১০০ জন রাজধানীর বাসিন্দা, যা মোট মৃত্যুর ৫৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর নারায়ণগঞ্জে মারা গিয়েছিলেন ৪১ জন, যা মোট মৃত্যুর ২২ শতাংশ।

তবে আক্রান্ত ব্যক্তির অনুপাতে ঢাকা মহানগরের চেয়ে নারায়ণগঞ্জে মৃত্যুর হার বেশি দেখা গেছে। ৬ মে পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে করোনায় মৃত্যুর হার ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর রাজধানীতে সেটা ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

শনাক্ত ১৬ হাজার ছাড়াল

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হন ৯৬৯ জন রোগী। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হলেন ১৬ হাজার ৬৬০ জন। ​এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৪ জন নারী। তাঁদের ৮ জন বয়সে ষাটোর্ধ্ব। আর ৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৪৫ জন। এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৪৭ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের চেয়ে কম নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ দিন ৬ হাজার ৭৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ নমুনায় সংক্রমণ শনাক্ত হয়। আগের দিন পরীক্ষা করা হয়েছিল ৭ হাজার ২০৮ জনের নমুনা, তাতে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ জনের মধ্যে।

আইইডিসিআরের পরামর্শক, রোগতত্ত্ববিদ মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটিই বাড়ছে। এত দিন ধীরে ধীরে বাড়ছিল। গত তিন দিনে একটি ছোট লাফ দেখা গেছে, যা বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা রাজধানী ও এর আশপাশে বেশি। এর কারণ খুঁজতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com