রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

সাতকানিয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

জিটিবি নিউজঃ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। গত শুক্রবারের নতুন আটজনসহ এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৭। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশের দুজন সদস্য রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ ওসমানী প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও করোনাবিষয়ক চট্টগ্রামের বিভাগীয় সমন্বয়ক আ ম ম মিনহাজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলা করোনার অতিঝুঁকিপূর্ণ (হটস্পট) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া একজন বৃদ্ধের সংস্পর্শে আসা স্বজনদের মাধ্যমেই মূলত করোনার বিস্তার ঘটেছে। ওই বৃদ্ধ চট্টগ্রাম নগরের ফকিরহাটে ব্যবসা করতেন। তা ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা করেন। তাঁরা অনেকেই সাধারণ ছুটিতে সাতকানিয়ায় ফিরে এসেছেন। তাঁদের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়ার এক বৃদ্ধ গত ৯ এপ্রিল করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ওই সময় তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১১ এপ্রিল ওই বৃদ্ধের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে করোনা ‘পজিটিভ’ আসে। ১২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জফেরত এক তরুণ ও স্থানীয় এক ঠিকাদারের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। ১৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ওই বৃদ্ধের (করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া) সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্য ও স্বজন মিলে ১২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ৩ থেকে ৭ মে পর্যন্ত এক ব্যবসায়ী ও তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত হয়। ৮ মে এক দিনেই চার স্বাস্থ্যকর্মী ও দুই পুলিশ সদস্যসহ আটজনের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এর মধ্যে একজন ঢাকাফেরত নারীও আছেন।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ ওসমানী প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলায় ৮ মে পর্যন্ত ১৮১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২৬ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। একজন বৃদ্ধ করোনা শনাক্তের আগেই মারা গেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ ওসমানী আরও বলেন, উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গত শনিবার পর্যন্ত ১৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। অন্যরা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সাতকানিয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলা ও অসচেতনার কারণে উপজেলায় কমিউনিটি সংক্রমণ বেড়েছে। তা ছাড়া অনেকেই করোনার উপসর্গ গোপন রেখে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমিত হচ্ছেন। ইতিমধ্যে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আটজন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। এখন দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com