শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জিটিবি নিউজ এর সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

পদ্মা সেতুর রেলওয়ে প্রকল্পে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গার্ডের গুলিতে ৮ শ্রমিক আহত

জিটিবি নিউজঃ মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে উপজেলার মেদিনীমন্ডলে পদ্মা সেতুর রেলওয়ে প্রকল্পে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পে গার্ডের গুলি ও আঘাতে আট শ্রমিক আহত হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতের এ ঘটনায় জখম শ্রমিকদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছে- জাকির (২৫), পারভেজ (১৮), সুমন (২৭), রাজু (২৬), নাঈম (২১), রাসেল (২৪), শুভ (২২) ও আলী মুনসুর (৫০) এবং প্রহরী নাজিম (৪৬)।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পদ্মা ব্রিজ রেল লিংক প্রজেক্টের (পিবিআরএলপি) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন এ চৌধুরী জানান, চীনা ঠিকাদার ‘সিআরইসি’র অধীনে ক্যাম্পটিতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষের এক পর্যায়ে ঠিকাদারের গার্ড গুলি ছোড়ে। এতে পাঁচ শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরে পাশের ক্যাম্প থেকে সেনা সদস্য এবং স্থানীয় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পিডি আরো জানান, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পটির আরেক দায়িত্বশীল জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিআরইসি) অধীনে ক্যাম্পটিতে ২০০-২৫০ শ্রমিক অবস্থান করছিল। সেখানে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধের পূর্বনির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু যথাযথভাবে তাদের পাওয়ানা পরিশোধ না করার কারণে এই অসন্তোষ দেখা দেয়। এটি চীনা ঠিকাদারে ম্যানেজম্যান্ট ব্যর্থতা। এজন্য তাদের নোটিশ করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, আহত শ্রমিকদের পায়ে গুলি লেগেছে। সকলেই শঙ্কামুক্ত।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: শাহ আলম জানান, এ পর্যন্ত আহতাবস্থায় আটজনকে ষোলঘর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। তবে এদের কারো অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়। এদের গায়ে স্প্রিন্টার বা ছিটা গুলির আঘাত রয়েছে। কারো কারো গায়ে রড দিয়ে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, রাতে শ্রমিকেরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ক্যাম্প থেকে পাশে পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১ এ যেতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাতে বাধা দেয় ও শ্রমিকদের উপর গুলি চালায়। এতে আটজন শ্রমিক আহত হয়। ঠিকাদারে লোকজন রড দিয়েও পেটায়।

এই শ্রমিক আরো জানান, চুক্তি ছিল ঠিকাদার থাকা-খাওয়া বাদে প্রত্যেক শ্রমিককে মজুরী বাবদ প্রতিদিন ৩০০ টাকা নগদ দেবে। কিন্তু গত ২০ এপ্রিলের পর থেকে শ্রমিকদের কোনো টাকা দেয়নি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই শ্রমিক দাবি করেন- এর আগে থেকেই শ্রমিকদের টাকা-পয়সা ও থাকা খাওয়া নিয়ে ঝামেলা করে আসছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

এই পরিস্থিতিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিআরইস’র দায়িত্বশীল চাইনীজ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন এবং শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন। তবে এখনো তাদের পাওনা-দেনা নিয়ে বিরোধের নিস্পত্তি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে পদ্মা ব্রিজ রেল লিংক প্রজেক্টের দায়িত্বশীলরা শ্রমিকদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো তদারকি করছেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসাইন জানান, করোনার কারণে পদ্মা সেতু রেলওয়ে প্রজেক্টের শ্রমিকরা লৌহজংয়ের মেদিনী মন্ডল ইউনিয়নের সিতারামপুর এলাকার প্রকল্পের ভেতরে বাংলা মেসে থেকে কাজ করে যাচ্ছিল। করোনার কারণে শ্রমিকদের বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা করে দেবার কথা ছিল।

পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এখনো কোনো মামলা হয়নি। গ্রেফতার বা আটক নেই বলেও জানান ওসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com