বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
Welcome To Our Website...

সরকারের কারচুপির কৌশল দেখতে চায় বিএনপি

জিটিবি নিউজ টুয়েন্টিফোর : চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি ঢাকা সিটি করপোরেশেনের আসন্ন নির্বাচনেও একই ধরনের কারচুপির আশঙ্কা করছে। তাদের আশঙ্কা-ঢাকা সিটি নির্বাচনেও ইভিএমের মাধ্যমে কারচুপি ও জালিয়াতি করা হবে। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচন ঢাকার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আগাম বার্তা। এ নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে তাদের অধীনে আগামীতে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার পক্ষে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। আশঙ্কার মধ্যেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি দেখতে চায় এবং জনগণকে বোঝাতে চায় যে, সরকার আর কতভাবে নির্বাচনে কারচুপি করতে পারে?

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন- চট্টগ্রাম উপনির্বাচনের মতো ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন অনিয়মের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচনে আর অংশ না নেয়ার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারে। তবে সিটি নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে একাধিক সভায় বেশ কিছু কৌশল নির্ধারণও করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে বিভিন্ন কমিটি, উপ-কমিটি। নির্বাচনী প্রচারণায় সব ধরনের পেশাজীবী ও নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়েছে দলের হাইকমান্ড।

জানা যায়, চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচনে ১৭০টি কেন্দ্রের ১ হাজার ১৯৬টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হয় ইভিএমে। ভোট শুরুর দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে সব কেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয় বলে বিএনপির অভিযোগ। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ৬০-৭০ গজ দূরে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা গলায় নৌকা মার্কার কার্ড ঝুলিয়ে পাহারা দিয়েছেন। বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে তারা ভোটারদের প্রশ্নও করেন। একপর্যায়ে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিতে চেয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে তাকে শেষ পর্যন্ত থাকতে হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতেই দেয়নি। তার আগে বোমা মেরে লাঠিসোটা দিয়ে ভোটারদের তাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরও জিজ্ঞেস করেন, আপনারা (বিএনপি) পারেননি। পারব কোত্থেকে? যে গুণ্ডা লাঠি মারে সন্ত্রাস করে, তার সাথে সাধারণ মানুষ পারবে কোত্থেকে? এটাই প্রকৃত সত্য। যারা ভোটার তারা তো মারামারি করে না। তারা তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে যায়, সেটা প্রয়োগ করতে দেয়া হয় না। তিনি বলেন, তারপরও বলছি, হতাশ হবেন না, ছেড়ে দেবেন না। যত কষ্ট-যন্ত্রণা আসুক, যত অত্যাচার লাঞ্ছনা আসুক এ দেশের মানুষ বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে, তরুণরা উঠে দাঁড়িয়েছে, দাঁড়াবে, দাঁড়াচ্ছে। সব জায়গায় প্রতিরোধ হচ্ছে, প্রতিরোধ হবে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা নিজের কেরামতি অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছেন। ওই উপনির্বাচনের মাধ্যমে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগাম বার্তা দেয়া হলো কিনা, জনগণ সেটি জানতে চায়। ঢাকার নির্বাচনেও তারা একই ঘটনার আশঙ্কা করছেন। কেননা ইতোমধ্যে এ ধরনের কিছু আলামত পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তবে এ ধরনের কারচুপি ও ভোট ডাকাতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বর্তমান ইসি ও সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিরোধিতা করে বলেন, আওয়ামী লীগকে সব ভোটে জেতানোর দায়িত্ব নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার ভোট চুরির নতুন অধ্যায় হচ্ছে ইভিএম। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরির যে প্রক্রিয়া সেটা হলো একেবারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীরবে নিঃশব্দে ভোট চুরির ডিজিটাল একটি প্রকল্প ছাড়া কিছুই নয়। যার প্রমাণ চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে কিন্তু দেখানো হয়েছে ২২ শতাংশ। নির্বাচনের নামে জাতির সাথে তামাশার আয়োজনে জাতি লজ্জিত ও হতাশ। এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নেয়া নিরর্থক। নিরপেক্ষ নতুন নিবার্চন কমিশন ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন নয়া দিগন্তকে বলেন, আওয়ামী লীগ কতভাবে ভোট চুরি করতে পারে সেটা জনগণকে দেখাতে এবং বোঝানোর জন্যই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে প্রায় সব কেন্দ্র সরকারি দল দখল করে নিয়েছে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতির মাধ্যমে এবং ইভিএমের মাধ্যমে তারা সুন্দরভাবে ভোট নিয়ে গেছে। তবুও একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণ সোচ্চার হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। যা গণবিস্ফোরণে পরিণত হয়ে সরকারের অবস্থান জিরো করে ফেলবে ইনশা আল্লাহ।

ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, চট্টগ্রাম উপনির্বাচনের মতো ঢাকায়ও একই কার্যক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রচারের সময় গ্রেফতার করবে না বলেছে। নির্বাচন কমিশনে আমরা গিয়েছিলাম। তবুও গ্রেফতার অভিযান, আক্রমণ চলছে ও হামলা চলছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে। এভাবে একটা ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীনরা। তবুও আমরা যেখানেই যাচ্ছি ধানের শীষের জোয়ার দেখছি। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট হলে বিএনপি ঢাকা সিটিতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে ইনশা আল্লাহ। এই জয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশনেত্রী গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দ্বার উন্মোচন হবে। আমরা যেকোনো মূল্যে সিটি নির্বাচনের মাঠে থাকব।

ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, এই নির্বাচন অধিকার আদায়ের নির্বাচন। এটা কোনো ব্যক্তির নির্বাচন নয়। এটি জনগণের অধিকার ও ভোটাধিকারে নির্বাচন। আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন এবং যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইনশা আল্লাহ আমরা এই লড়াইয়ে বিজয়ী হবোই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাচ্ছে না। অধিকাংশ এলাকায় ধানের শীষের পোস্টার লাগাতে বাধা দেয়া হচ্ছে। যেখানে লাগানো হচ্ছে দেখা যাচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যে তা ছিঁড়ে ফেলছে সরকারি দলের লোকজন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে এগুলো নিয়ে অনেক অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাতই করছে না। এটাকে তো নিরপেক্ষ নির্বাচন বলা যাবে না। তারপরও আমরা শেষ রক্ত থাকা পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্যে লড়াই করব, সংগ্রাম করব। যেকোনো পরিস্থিতি আমরা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছি। দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই ধরনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © gtbnews24.com